০৫ এপ্রিল ২০২০

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সচেতন হন

-

ডায়াবেটিস সারা জীবনের রোগ। এটা কোনো দিনও একদম ভালো হয় না। তবে নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে এ রোগের মূল চিকিৎসা, অর্থাৎ স্বযতœ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ এবং শৃঙ্খলা পালন এ তিনটি জিনিস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যেকোনো লোক যেকোনো বয়সে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। আজ যেখানে সারা বিশ্বে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪.৫ কোটি, ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ কোটিতে পৌঁছবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। তৃতীয় বিশ্বে অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃতীয় বিশ্বের এসব অঞ্চলে বর্তমানে তিন কোটি ২০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৮ কোটিতে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শতকরা ৫.৬ শতাংশ লোক ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। আরো শতকরা ১২.৪ শতাংশ ভুগছেন ওসঢ়ধরৎবফ এষঁপড়ংব ঞড়ষবৎধহপব (ওএঞ) রোগ। উল্লেখ্য ওএঞ রোগীদের বেশির ভাগ ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। এ দেশের বেশির ভাগ লোকই জানে না যে, তাদের ডায়াবেটিস রোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন তাহলো নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো। অন্তত বছরে একবার রক্ত পরীক্ষা করা, কোনো ধরনের কোনো অপারেশন হলে তার আগে রক্ত পরীক্ষা করা এবং পরিবারের সদস্যদের কারো আছে কি না তা জেনে নেয়া।
বলাবাহুল্য, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ৫০ শতাংশ লোক আবার উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছে। সুতরাং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এ দুটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এ রোগ প্রতিরোধ করা খুবই সহজ।
ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে যেমন- (১) চোখের সমস্যা (রেটিনো প্যাতি) যা থেকে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে (২) ব্রেইন স্ট্রোক (পক্ষাঘাত) (৩) হৃদরোগ বা হার্টঅ্যাটাক (৪) কিডনিতে নানাবিধ সমস্যা (৫) স্নায়ু রোগ (নিউরোপ্যাথি) এবং (৬) ঘা শরীরের পচন রোগ সৃষ্টি হতে পারে। (পায়ে নানা ধরনের ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে)। তবে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত রোগীরা নিয়মিত অর্থাৎ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উল্লিখিত কোনো জটিলতাই দেখা দেবে না।

কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব
(১) খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম করা। (২) খাবার বড়ি নিয়মিত সেবন করা বা ইনসুলিন নেয়া (৩) নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলা। যদিও একেকজনের ডায়াবেটিস একেকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে। যেমন কারো শুধু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও হাঁটার মাধ্যমে, আবার কেউ সুস্থ থাকেন ওষুধ বা ইনসুলিনের মাধ্যমে।
ডায়াবেটিস রোগের নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু চিকিৎসকের উপর নির্ভর করে থাকলেই চলবে না। এ ক্ষেত্রে রোগীকে পূর্ণ সচেতন হতে হবে। এ রোগে অবশ্যই প্রয়োজন নিয়মিত সবকিছু পরীক্ষা করানো। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা। যা হোক, ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণ রাখতে হলে অবশ্যই রোগীকে নিয়মমাফিক চলতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


আরো সংবাদ

করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতে নিজের জাত চেনালেন বলিউড বাদশাহ বগুড়ায় এক ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যুর পর জেলা প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা করোনা নির্ণয়ের চৌকস প্রযুক্তির উন্মোচন করল ইরান করোনা মোকাবিলায় ৬৭,৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রুডো ট্রলারে ঝুঁকিতে পদ্মা-যমুনা পাড়ি শ্রমিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশের সোয়া চার কোটি মানুষ করোনা ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকার নির্দয় নীতি, আশাবাদী জনগণ নিউ ইয়র্কের মৃতের সংখ্যা ৩৫০০ ছাড়িয়েছে দুই সপ্তাহ ফাঁকা থাকলেও ঢাকার বাতাসের মান এখনো ‘অস্বাস্থ্যকর’

সকল