৩০ মে ২০২০

করোনার প্রতিষেধক নিয়ে রটনা ও বাস্তবতা

আপাত মনে হলেও বাস্তবে করোনাভাইরাস মুক্ত করতে পারে না এমন কিছু বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের বক্তব্য দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব দাবি নাকচ করে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি কিন্তু ঝুঁকি রয়েই গেছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকতে এসব বিষয় জানা থাকা ভালো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হ্যান্ড ড্রাইয়ার করোনাভাইরাস ধ্বংস করতে পারে না। চায়না ডেইলি নিউজ বলেছে, ৩০ সেকেন্ড হ্যান্ড ড্রাইয়ারে হাত শুকিয়ে নিলে হাত করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চায়না ডেইলির এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে।

সংস্থা বলেছে, হ্যান্ড ড্রায়ার দিয়ে ভাইরাসতো ধ্বংস করা যায় না উপরন্তু ব্যাকটিরিয়াও ধ্বংস হয় না। করোনাভাইরাস থেকে হাত পরিষ্কার করতে হলে সাবান দিয়ে অথবা অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ডরাব দিয়ে কিছুক্ষণ পরপরই হাত ধুতে হবে। সাবান ও অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ডরাবে ভাইরাস ধ্বংস করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, আল্ট্রাভায়োলেট (অতিবেগুনি) রশ্মি ত্বকে প্রতিফলিত করলেও করোনা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না। বরং এই অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে নানা ধরনের চর্মরোগের সৃষ্টি করতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, রসুনের মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। অতএব রসুন খেলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দাবিও নাকচ করে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি বলেছে, সিদ্ধ রসুন অথবা রসুনের পানি ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ নেই।

সারা শরীরে অ্যালকোহল অথবা ক্লোরিন স্প্রে করলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি মিলবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ দাবিও নাকচ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা বলছে, ব্লিচিং অথবা ক্লোরিন অথবা অ্যালকোহলে ভাইরাস মরে যায়। কিন্তু করোনাভাইরাস নাক, চোখ ও মুখ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এসব স্প্রে করে ভাইরাস ঠেকানো যাবে না। আবার একই সাথে ক্লোরিন অথবা ব্লিচিং মুখ, চোখের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, থার্মাল স্ক্যানার সব সময় সংক্রমিত রোগীকে শনাক্ত করতে পারে না। থার্মাল স্ক্যানার শুধুমাত্র জ্বর ও উচ্চ তাপমাত্রা ধরতে পারে। অতএব থার্মাল স্ক্যানারের উপরও ভরসা করা যাবে না।
চীন থেকে আসা চিঠি অথবা কোনো প্যাকেট গ্রহণ করলে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

তারা বলছে, এটা পুরোপুরি নিরাপদ। করোনাভাইরাস দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকে না। বিশেষ করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে বিমানে উড়ে আসার পর সেই চিঠি বা প্যাকেটে করোনা বেঁচে থাকতে পারে না।

শুরুতে প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হলেও এখন ছড়াচ্ছে মানুষ থেকে মানুষে। কিন্তু মানুষ থেকে প্রাণীতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে না। এতএব পোষা প্রাণীরা করোনায় আক্রান্ত হবে না। চীনে পোষা বিড়াল অথবা কুকুরকে উঁচু ভবনের জানালা থেকে ফেলে দেয়া হচ্ছে মরে যাওয়ার জন্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, পোষা প্রাণী থেকে করোনা আসছে না। এদের এভাবে মেরে ফেলা ঠিক নয়। পোষা প্রাণী ধরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললেই হলো। এটা করলে সাধারণ ভাইরাস ও ব্যাকটিরিয়া থেকে মুক্ত থাকা যায়।

এছাড়া নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন করোনা ঠেকাতে সক্ষম নয় যদিও নিউমোনিয়া ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা করোনা শেষ হয়ে যাওয়ার পর হয়তো ভ্যাকসিন আসতে পারে। নাকে লবণ জাতীয় স্যালাইন স্প্রে করেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা যাবে না। কোনো কোনো মাউথ ওয়াশ কিছুক্ষণের মধ্যে মুখের মধ্যে থাকা ব্যাকটিরিয়াকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস মেরে ফেলার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বলা হচ্ছে কেবল বয়স্করাই করোনায় আক্রান্ত হয়, তরুণরা না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দাবিও নাকচ করে দিয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি চীনে জন্ম নেয়ার ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই এক নবজাতকের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এটা ঠিক যাদের মধ্যে হাঁপানী, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস রয়েছে তারা করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে থাকে বেশি কিন্তু সুস্থ মানুষের শরীরেও করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।


আরো সংবাদ