৩০ মার্চ ২০২০

চুলের সংক্রমণ আর চুলপড়া

চুলের সংক্রমণ আর চুলপড়া - ছবি : সংগৃহীত

চুলের সংক্রমণ বলতে বোঝায় মাথার ত্বকের সংক্রমণ। কারণ, মাথার ত্বক ভেদ করে চুল ওঠে ও বৃদ্ধি পায়। চুলের সংক্রমণ নানা ধরনের। চুলপড়ার নানা কারণের একটি হচ্ছে চুলের সংক্রমণ।
ছত্রাক : ছত্রাকের সংক্রমণ ছোট-বড় সবারই হতে পারে। একে টিনিয়া ক্যাপিটিস বলে।

কেরিয়াল : মাথার ত্বক ফুলে উঠে ব্যথা হয়। এতে ত্বকের ওপরের অংশ মোটা হয়ে যায় এবং আক্রান্ত অংশের চুল ঝরে যায়।
ফেবাস : এতেও ত্বকের ওপরিভাগ পুরু হয়ে যায়। ত্বকের রঙ হলুদ হয়ে যায়। আক্রান্ত অংশের চুল পড়ে যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে চুল গজায় না।
গ্রে প্যাচ : মাথার পেছনের অংশের চুল পড়ে যায়। একটি জায়গায় গোল হয়ে ভঙ্গুর চুলে জায়গাটি ছেয়ে থাকে।
ব্ল্যাকডট টিনিয়া : এ ধরনের সংক্রমণেও চুল পড়ে যায়। ভঙ্গুর চুলের গোড়া কালো রঙ ধারণ করে বলে একে ব্ল্যাকডট টিনিয়া বলে। মাথার বিভিন্ন জায়গায় একই সাথে সংক্রমণ হতে পারে। ব্ল্যাকডট টিনিয়া হলে সংক্রামিত অংশ খুব চুলকায়।

অ্যাগমিনেট ফলিকুলাইটিস : একে সাধারণ ভাষায় গোটা বলা হয়। বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট অংশ দানার আকারে লাল হয়ে অল্প ফুলে ওঠে। ফলিকলের গোড়া ফুলে ওঠে বা সংক্রমিত হয়ে এমনটা হয়। চুলের গোড়ায় ছোট পুঁজভর্তি ফোসকা থাকে। এতেও মাথা চুলকাতে পারে।

পায়োডার্মা : শিশুদের মাথার ত্বকে এমনটা হয়ে থাকে। আক্রান্ত অংশ লাল হয়ে ফুলে যায় ও ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথা বা গলার পেছনের গ্ল্যান্ডও সংক্রমিত হয়ে ফুলতে পারে।
সিফিলিস : সিফিলিসের দ্বিতীয় পর্যায়ে চুলের সংক্রমণ হতে পারে। মাথায় নানা জায়গায় চুল পড়ে যেতে পারে। তবে পেছনের দিকেই বেশি দেখা যায়।
উকুন : উকুন বা পেডিকুলোসিস ক্যাপিটিস হলে মাথায় ত্বক খুব চুলকায়। উকুনের বংশবৃদ্ধি হলে খুব সমস্যা হয়। এ ব্যাপারে সাবধানতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন প্রয়োজন।
যে কারণেই চুলের সংক্রমণ হোক না কেন, তার সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। অ্যান্টিবায়োটিক ও নানা রকম ওষুধ সঠিক নিয়মে ব্যবহারের ফলে চুলের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অবহেলা না করে চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন। কারণ, এতে প্রচুর চুল পড়ে যেতে পারে।

লেখিকা : অধ্যাপিকা, ফার্মাকলোজি ও থেরাপিউটিকস বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
চেম্বার : দি বেস্ট কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ২০৯/২, এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা। ফোন ঃ ০১৬৮৬৭২২৫৭৭


আরো সংবাদ