২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা

স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলতে আর্জেন্টিনা। - ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধের এসে জ্বলে উঠতে সক্ষম হয় আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকাররা। ৬৮ মিনিটে ম্যান সিটি স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজের গোলে ২-০ তে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এর ফলে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল আর্জেন্টিনা। পোল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আকাশী-নীলরা। ফলে সি গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোল নিশ্চিত করল লা আলবিসেলেস্তরা। তবে ম্যাচ হারলেও নক আউট নিশ্চিত হয়েছে পোল্যান্ডেরও। সৌদি আরবকে মেক্সিকো ২-১ গোলে হারালেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় নক আউট পর্বে উঠে এলো পোল্যান্ড।

ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি মিস করেন লিওনেল মেসি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৬ ও ৬৭ মিনিটে ম্যাক অ্যালিয়েস্টার ও জুলিয়ান আলভারেজের করা গোলের সুবাদে জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে দারুণ কিছু সেভ করেন দৃষ্টি কাড়েন পোলিশ গোলকিপার ওয়েসলি সিয়েজনি।

নিজেদের নক আউট বাঁচানোর ম্যাচে আজ নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে খেলতে নেমেছিল লিওনেল মেসির দল। আর্জেন্টাইনদের একের পর এক আক্রমণে বারবার কেঁপে উঠেছে পোলিশ রক্ষণভাগ। কিন্ত পুরো ম্যাচে বেশ কিছু সুযোগও মিস করেছে দলটি।

গোটা ম্যাচে যেমন পায়ে বল পায়নি পোল্যান্ড,নতেমনি নিতে পারেনি কোনো শটও। আর্জেন্টিনার ২২টি শটের বিপরীতে পোল্যান্ড শট নিয়েছে মাত্র ৪টি। আর্জেন্টিনা যেখানে ১২ বার অন টার্গেটে শট নিয়েছে বিপরীতে পোল্যান্ড অন টার্গেটে রাখতে পারেনি একটিও শট। তবে আজকের ম্যাচে বেশ কিছু দারুণ সেভ করেছেন পোলিশ গোলরক্ষক ওয়েইসলি সিয়েজনি। তিনি না থাকলে হয়ত আজ আরো বড় ব্যবধানে হারতে হতো পোল্যান্ডকে।

কাতারের ৯৭৪ স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। পোল্যান্ডকে হারিয়ে কোনো জটিল সমীকরণ মেলানো ছাড়াই নক আউটের টিকিট পেয়ে গেল লিওনেল স্কলোনির দল।

আজ ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে শুরু করে আল আলবিসেলেস্তরা। ম্যাচের দশম মিনিটে মাঠের বাম প্রান্ত থেকে শট নেন লিওনেল মেসি। দ্রুত রিফ্লেক্স দেখিয়ে সেই শট সেভ করেন পোলিশ গোলকিপার ওয়েইসলি সিজেসনি। প্রথম দশ মিনিটেই তিনবার গোলমুখী শট নেয় আর্জেন্টিনা।

লেফট ফ্ল্যাংক ও রাইট ফ্ল্যাংক ধরে আজ বারবার আক্রমণে গিয়েছে আকাশী-নীলরা। ১৯ মিনিটের মাথায় লিওনেল মেসির বাড়ানো পাস থেকে বল রিসিভ করেন মার্কাস অ্যাকুনা। কিন্তু গোলবারের একেবারে ওপর দিয়ে চলে যায় তার শটটি।

৩২ মিনিটের মাথায় আবারো আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু অ্যাকুনার লো ক্রস বলটি আটকে দেন পোলিশ ডিফেন্ডাররা। এর কয়েক সেকেন্ড পর মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দৌড়ে লেওয়ান্ডস্কি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার ডিবক্সে সতীর্থদের না পেয়ে কাউকে বল দিতে ব্যর্থ হন। আর অল্প সময়ের ভেতরেই তাকে ঘিরে ফেলে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডাররা। ফলে পোলিশদের গোলের সুযোগ তৈরি হতে গিয়েও হয়নি এই সময়ে।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটের আর্জেন্টিনার সামনে আসে ম্যাচে লিড নেয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। ডিবক্সের ভেতর পোলিশ গোলকিপার সিয়েজনির গ্লাভসে অনিচ্ছাকৃতভাবে মেসির মুখে আঘাত লাগলে ভিএআর চেকিং-এর পর আর্জেন্টিনাকে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি লিওনেল মেসি। সিয়েজনি আটকে দেন মেসির ছোঁড়া বল। এরপর আরো বেশ কয়েকবার শট নিলেও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে গোলশূন্য থেকে বিরতীতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে নামতে না নামতেই ৪৬ মিনিটেই আর্জেন্টিনা পেয়ে যায় তাদের কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। ওয়েসলি সিয়েজনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর্জেন্টাইন রাইট ব্যাক নাহোয়েল মলিনার মারা ক্রস থেকে গোল করেন ম্যাক অ্যালিয়েস্টার। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় দলটি।

৬৭ মিনিটের মাথায় আসে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি। এঞ্জো ফার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ এক গোল করেন আর্জেন্টিনার নম্বর নাইন জুলিয়ান আলভারেজ।

এরপরেও বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু বারের ওপর দিয়ে কখনো বা গোলবারের জাল ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় বল। ফলে বেশ কয়েকবার বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছে দলটি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে প্রাণপণে খেলে যায় পোল্যান্ড।

ওদিকে ২-০ গোলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এগিয়ে ছিল মেক্সিকো। কিন্তু শেষ মুহুর্তে সৌদি আরবের কাছে গোল খেয়ে বসলে পোল্যান্ডের চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে মেক্সিকো। ফলে গ্রুপ সি থেকে চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে কোয়ালিফাই করল আর্জেন্টিনা ও পোল্যান্ড।

অবশ্য যদি মেক্সিকো শেষ মুহুর্তে গোল হজম নাও করতো, ডিসিপ্লিনারি সেকশনে মেক্সিকোর থেকে কম হলুদ কার্ড দেখায় তবুও শেষ ষোলতে উঠেই যেত পোল্যান্ড।


আরো সংবাদ


premium cement