২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বিশ্বকাপে এশিয়ান বিপ্লব

বিশ্বকাপে এশিয়ান বিপ্লব - ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলে এশিয়া। শুনলেই নাক সিটকানো স্বভাব ফুটবল উন্নত দেশগুলোর। এশিয়ান প্রতিপক্ষ মানেই তো তাদের বিপেক্ষে হালি হালি গোলে ম্যাচ জয়ের উৎসব।

বেশি দূর যাওয়ার কী প্রয়োজন আছে। এই কাতার বিশ্বকাপেই তো দুই বিপরীত চিত্র। এক দিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এশিয়ার দেশগুলোর ইতিহাস গড়া জয়। অন্য দিকে হালি আর হাফ ডজন গোলে হারছে বাকি দেশগুলো।

তবে কাতার বিশ্বকাপকে ইতোমধ্যেই রেকর্ড বুকে নিয়ে গেছে সৌদি আরব এবং জাপান। তাদের কাছে এক বিশ্বকাপে হার দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নের। সৌদি আবর ২-১ গোলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিজয়উল্লাস করার পরের দিনই জাপানের একই ব্যবধানে জয় জার্মানির বিপক্ষে।

তবে ইরান যদি ২-৬ গোলে ইংল্যান্ডের কাছে এবং অস্ট্রেলিয়া ১-৪ গোলে ফ্রান্সের কাছে না হারতো, তাহলে এশিয়ায় আয়োজিত এই আসর এশিয়াময়ই হয়ে যেত। কাতারও পারেনি প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে হার এড়াতে (০-২)।

১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের যাত্রা শুরু হলেও এই গ্রেটেস্টে শো অন আর্থে এশিয়ান দেশের প্রথম উপস্থিতি ১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে। সেবার ইন্দোনেশিয়া অংশ নেয়। যদিও নাম ছিল ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচেই হাঙ্গেরির কাছে ৬ গোলে হেরে বিদায়। তখন ফরম্যাটই ছিল শেষ ১৬ দিয়ে শুরু।

এরপর ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এই অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। এশিয়ার দেশগুলো যে বিশ্বকাপে অন্য বাঘাবাঘা দেশগুলোর জন্য আতংক তা ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে জানান দেয় উত্তর কোরিয়া। সেবার তারা কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল।

এরপর একে একে জাপান, ইরাক, ইরান, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরাইল (১৯৭০ সালে তারা এশিয়ায় খেলতো), চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং এবার স্বাগতিক হিসেবে কাতার বিশ্বকাপে প্রতিনিধি। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ পর্যন্ত বিশ্বকাপে এশিয়ার কোনো দেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। ১৯৫০ সালে ভারত কোয়ালিফাই করলেও ব্রাজিলে গিয়ে খেলার মতো অর্থ যোগাড় করতে পারেনি। তাই পরে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। ১৯৭৪ সালেও ছিল না কোনো এশিয়ান দেশ।

এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিশ্বকাপে সেরা অর্জন ২০০২ বিশ্বকাপ। এই আসরটি তিন কারণে বিখ্যাত। প্রথম বারের মতো এশিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ। এই প্রথম দুই দেশ যৌথভাবে আয়োজক। জাপান ও দক্ষিণ কোারিয়ায় অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে পৌঁছে প্রমাণ করে এশিয়ার দেশগুলোকে আর অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই।

তবে এবার জাপান এবং সৌদি আরব কতদূর যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সৌদি আরব যদি পরের দুই ম্যাচে পোল্যান্ড এবং মেক্সিকোকে হারাতে পারে তাহলে তারা যেমন ফের দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। তেমনি টানা তিন গ্রুপ ম্যাচ জয়েরও রেকর্ড হবে।

জাপানের সামনে এখন স্পেন ও কোস্টারিকা। তবে প্রথম ম্যাচে জাপানীজ এবং সৌদিরা যা ঘটিয়েছে সে অর্জনই বহু দিনের পুঁজি। জাপান ২০০২, ২০১০ এং ২০১৮ সালে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা দল। আর সৌদি আরব ১৯৯৪ সালে অভিষেকেই দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করেছিল। সুতরাং এবারের অর্জন কোনোভাবেই অঘটন নয়।

প্রথম এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কোটা কম ছিল। পরে তা চার-এ উন্নীত করা হয়। এবার কাতার হোস্ট হওয়ায় ৫ দেশের উপস্থিতি। এবার প্রথম ম্যাচে হতাশই করেছে ইরান। দলের খেলোয়াড়রা খেলার চেয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনেই যেন বেশি মনযোগী। দলের মধ্যেও আছে সমস্যা।


আরো সংবাদ


premium cement