২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বিশ্বকাপ মঞ্চে নেইমারের আলোচনা-সমালোচনা

বিশ্বকাপ মঞ্চে নেইমারের আলোচনা-সমালোচনা - ছবি : সংগৃহীত

সময়টা ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপ। ব্রাজিল বনাম কোস্টারিকা ম্যাচের ফুল টাইমের বাঁশি বাজালেন রেফারি। সেই মুহূর্তেই মাঠের মধ্যে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার। না, সেই কান্না হতাশার ছিল না। সেই কান্নার উপলক্ষ বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দও ছিল না। সেই সিজনেই বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে পাড়ি জমানো নেইমার এক বছর ধরে ভুগছিলেন বেশ দুর্ভোগে। ফিটনেসের কারণে মাঠে খেলতে না পারার পাশাপাশি বার্সেলোনার মতো ক্লাব ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ায়, মাঠের বাইরেও তাকে নিয়ে সমালোচনার কমতি ছিল না। সেদিন কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল করে যেন সব সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন নেইমার। সেই জন্য নেইমারের সেদিনকার অশ্রুর মর্ম নেইমার ছাড়া পুরোপুরি কেউ কখনো বোঝেননি।

নেইমার এবং বিশ্বকাপের এই সুমধুর সম্পর্কের শুরু ২০১৪ সালে, নেইমারের ঘরের মাটি ব্রাজিলেই। ততদিনে নিজেকে ফুটবল বিশ্বের উদীয়মান তারকা হিসেবে পরিচিতি কুড়ানো নেইমারের কাছে ২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল ক্লাব ফুটবলের সীমা নিজেকে বিশ্বদরবারে প্রমাণের মঞ্চ। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে শুরু হয় নিজেকে জানান দেয়ার যাত্রা। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচ খেলে ছয় গোল, তিন এসিস্ট-এর পরিসংখ্যান বলে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে নেইমার বেশ সফল। তবে এমন ঈর্ষণীয় সফলতার মুদ্রার বিপরীত পিঠও নেইমার দেখেছেন, এই গ্রেটেস্ট শো ইন আর্থের মঞ্চেই। নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃস্মৃতির সাক্ষীও এই বিশ্বকাপ, ২০১৪ বিশ্বকাপে জুনিগার সেই চ্যালেঞ্জ মেরুদণ্ডের আরেকটু ওপরে রাখলেই চিরতরে নিভে যেতে পারতো নেইমারের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের প্রদীপ।

সুখস্মৃতিময় হোক, অথবা নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ইঞ্জুরির সাক্ষী হিসেবে হোক, এসব ছাপিয়ে বিশ্বকাপ নেইমারের কাছে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের এক মঞ্চ হয়ে এসেছে সবসময়। বিভিন্ন সময়ে আকার ইংগিতে নেইমার বুঝিয়েছেন হয়তো এটি তার শেষ বিশ্বকাপ। যদিও তার বয়স মাত্র ৩০ পেরিয়েছে, আধুনিক যুগে ফুটবলারের দীর্ঘতা বিবেচনা করলে আরো এক বিশ্বকাপ খেলার কথা তার। তবে বছর কয়েক আগে তিনি জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই ২০২২ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন তিনি।

সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে নেইমারের শুরুটা হচ্ছে আজ, সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বরাবরই বিশ্বকাপকে নিজেকে প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে প্রমাণ করা নেইমারের যদি এটাই শেষ বিশ্বকাপ হয়, তাহলে এটাই তার সামনে শেষ সুযোগ বিশ্বকাপ জিতে পেলে, রোনালদো লিমা, রোনালদিনহোর মতো কিংবদন্তির পাশে নিজের নাম লেখানোর। তবে এই বিশ্বকাপেই নেইমারের সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরো একটি রেকর্ড ছোঁয়ার সুযোগ। ব্রাজিলের হয়ে এখন পর্যন্ত নেইমারের গোলসংখ্যা ৭৫, তার চেয়ে ২ গোল বেশি করে ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা পেলে। এমনটা হতেই পারে, বরাবরই বিশ্বমঞ্চে নিজেকে মেলে ধরা নেইমার হয়তো এবারের বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখবেন পেলের মতো কিংবদন্তিকে ছাড়িয়েই!


আরো সংবাদ


premium cement