২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

আমি থাকলে পুরুষ দলও সাফ জিততো : জেমি ডে

আমি থাকলে পুরুষ দলও সাফ জিততো : জেমি ডে - ছবি : সংগৃহীত

বেশ আগেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটেছে জেমি ডের। তবে এই ইংলিশ কোচ ঠিকই খোঁজ রাখেন বাংলাদেশের ফুটবলের। ক’দিন আগে নারী সাফে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়ের ইতিহাসটাও জেনেছেন তিনি। সাবিনাদের ধন্যবাদ দিয়ে নিজে লাল-সবুজ পুরুষ দলকে সাফ শিরোপা এনে না দিতে পারার আফসোসের কথাও জানান। তুলে ধরা হলো সেই সাক্ষাৎকার-

প্রশ্ন : আপনি নিশ্চয় জেনেছেন বাংলাদেশ নারী দল প্রথম বারের মতো সাফ ফুটবলে শিরোপা জিতেছে?
জেমি ডে : হ্যাঁ, আমি সেই দারুন খবরটি জানি। এই চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে আমি খুবই গর্বিত।

প্রশ্ন : লম্বা সময়তো বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৯ সালের নারী সাফে সেমিতে ভারতের কাছে ৪ গোলে হারা বাংলাদেশ দল কিভাবে এবার সাফে চ্যাম্পিয়ন হলো?
জেমি ডে : এটা মূলত নারী দলের সারা বছরের টানা অনুশীলনেরই ফসল। ফিটনেস, টেকনিক্যালি এবং ট্যাকটিক্যালি বেশ উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ দলের মতো অন্য দেশগুলো সারা বছর নারী ফুটবল দলকে প্র্যকাটিসে রাখে না। এখানেই এগিয়ে বাংলাদেশ।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলতো এবার দারুন খেলেছে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম এবং অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন?
জেমি ডে: হ্যাঁ বাংলাদেশ নারী দলের ফুটবলাররা ঘরোয়া ফুটবলে যার যার পছন্দের পজিশনে খেলতে পারে। বিদেশীদের জন্য তাদের প্রিয় প্রিয় পজিশন হারাতে হয় না।

প্রশ্ন : নারী দলের এই সাফল্য কিন্তু হুট করে আসেনি। ধাপে ধাপে এসেছে। প্রথমে তারা অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ, এরপর অনূর্ধ্ব-১৮ ও অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ জিতেছে। এবার সিনিয়র নারী সাফ।
জেমি ডে : হ্যাঁ, এটা নারী ফুটবলে বাংলাদেশের উন্নতিরই প্রমাণ। তাদের পাইপ লাইনটা বেশ শক্তিশালী।

প্রশ্ন : নারী দলতো ষষ্ঠ আসরে এসে সিনিয়র সাফে চ্যাম্পিয় হলো। কিন্তু পুরুষ ফুটবল দল ২০০৩ সালের পর আর সাফ জিততে পারেনি। আপনাকেও ২০১৮ সালের সাফে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
জেমি ডে : ২০১৮ সালের সাফে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরপর শেষ ম্যাচে নেপালের কাছে হেরে ছিটকে পড়ার কাহিনী সবাই জানে। তবে ২০২১-এর সাফে আমি এবং আমার কোচিং স্টাফরা বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে থাকলে ঠিকই সাফে চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম।

প্রশ্ন : কিভাবে তা সম্ভব হতো। বাংলাদেশের তো ২০০৫ সালের পর আর সাফের ফাইনালে খেলারই সুযোগ হয়নি?
জেমি ডে : লম্বা সময় বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে থেকে আমি সব ফুটবলারদের খুব ভালো করে চিনেছি। সে সাথে সাফের অন্য দেশ গুলোর ম্যাচে শক্তিশালী দিক এবং দুর্বলতা সম্পর্কে ভালো করেই জানতাম। তাই আমার আত্মবিশ্বাস ছিল সাফে আমরা দায়িত্বে থাকলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভালো চান্স থাকতো।

প্রশ্ন : আপনার অধীনে খারাপ ছিল না বাংলাদেশ দলের রেজাল্ট। এরপরও আপনাকে দায়িত্ব হারাতে হলো?
জেমি ডে : বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ফলফলই বলে দিচ্ছে আমার সময় রেজাল্ট মোটেই খারাপ ছিল না। ভালোই করেছিলাম আমরা। কিন্তু এখনতো সেই ফর্মে নেই জাতীয় দল। আমার মনে হয় এখনো বাফুফে পুরুষ জাতীয় দলের জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং হাই কোয়ালিটির সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারেনি। গত ২৫ বছর ধরে চলা সমস্যা এখনো বিদ্যমান।

প্রশ্ন : আপনি এখন কোন ক্লাবের কোচ?
জেমি ডে : আমি এখন ইংল্যান্ডের চতুর্থ ডিভিশনের দল সুইনডন টাউন এফসির কোচ। পূর্ন পেশাদারী এই ক্লাব। আমার বাড়ির কাছেই ক্লাবটির অবস্থান।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলেতো মোটামুটি সফল কোচ। তাহলে অন্য কোনো জাতীয় দলের কোচের পদে কেন নয়?
জেমি ডে : হয়তো অচিরেই কোনো জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমাকে দেখতে পাবে।

প্রশ্ন : নাবিব নেওয়াজ জীবন বাংলাদেশের সেরা স্ট্রাইকার। কিন্তু বর্তমান জাতীয় দলের কোচ তাকে দল থেকে বাদ দিয়েছে?
জেমি ডে : আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি যখন শুনলাম জীবনের মতো স্ট্রাইকার বাংলাদেশ দলে নেই। আমার মনে হয় তার প্রতি অবিচারই করা হয়েছে। অথচ তার যোগ্যতা ছিল দলকে ক্রিয়েটিভ কিছু দেয়ার।

প্রশ্ন : ফের কি বাংলাদেশ দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছে আছে?
জেমি ডে : আমি মনে হয় এক সময় ফের বাংলাদেশ দলের কোচ হবো। বাংলাদেশে আমার অনেক সুখ স্মৃতি। সোজা কথা বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ির মতো।


আরো সংবাদ


premium cement