০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

অবিশ্বাস্য কোর্তোয়ায় মুগ্ধ সবাই

অবিশ্বাস্য কোর্তোয়ায় মুগ্ধ সবাই - ছবি : সংগৃহীত

রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে তিনি যেন ছিলেন চীনের প্রাচীর। সব আক্রমণ রুখে দিলেন নিপুন দক্ষতায়। ঝাপিয়ে, গড়িয়ে, হাত পা দিয়ে; সব্যসাচি ঢঙে থিবা কোর্তোয়া ঠেকালেন অল রেডদের সব আক্রমণ। মাঝে এক গোল করে ভিনিসিউস গড়ে দিলেন ব্যবধান। লিভারপুলকে ১-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। জয়ের নায়ক কিন্তু কোর্তোয়া। অবিশাস্য কিছু সেভে তিনি এখন ভাসছেন প্রশংসার বৃষ্টিতে।

পুরো ম্যাচে মোট ৯টি সেভ করেন কোর্তোয়া। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি সেভ করার রেকর্ড এটি। প্রথমার্ধেই রিয়াল গোল খেতে পারত অন্তত দুটি। সেটি হয়নি কোর্তোয়ার কারণেই। ১৬ মিনিটে ছয় গজ বক্সে জটলার মধ্যে থেকে মোহামেদ সালাহ ঠিকমতো শট নিতে না পারলেও বল ছিল লক্ষ্যে, শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে ফেরান কোর্তোয়া।

পাঁচ মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে আরেক তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানের জোরাল নিচু শটে বল যাচ্ছিল জালের দিকে। ঝাঁপিয়ে হাত ছুঁয়ে বলের পথ কিছুটা পরিবর্তন করে দেন কোর্তোয়া। বল বাধা পায় পোস্টে।

৬৪ মিনিটে তো গোল প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল লিভারপুল। কিন্তু এবারও তারা পারেনি কোর্তোয়ার দেয়াল ভাঙতে। ডি-বক্সের বাইরে ডান দিক থেকে বাঁ দিকে বল পায়ে কিছুটা আড়াআড়ি গিয়ে দূরের পোস্টে চমৎকার বাঁকানো শট নেন সালাহ, অসাধারণ নৈপুণ্যে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। পাঁচ মিনিট পর আবারো তিনি রিয়ালের ত্রাতা। একেবারে গোলমুখে সালাহর প্রচেষ্টা কোনোমতে পা দিয়ে আটকে দেন এবার।

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এডউইন ফন ডার সারের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন কোনো গোলরক্ষক।

সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ইংলিশ ক্লাব চেলসির বিরুদ্ধে দুয়ো ধ্বনি শুনেছিলেন কোর্তোয়া। কারণ এর আগের চারটি মৌসুম চেলসিতে কাটিয়েছিলেন কোর্তোয়া। ফাইনাল জিতে সেই দুয়োর জবাবটা ভালো মতো দিলেন কোর্তোয়া।

শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর কোর্তোয়া বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, রিয়াল মাদ্রিদ যখন ফাইনালে খেলে, তারাই জেতে। এবার ইতিহাস আমার পক্ষে। আমার ক্যারিয়ারের জন্য, আমার নামের সম্মান রাখার জন্য, আমার সকল কঠোর পরিশ্রমের জন্য আজ আমাকে ফাইনাল জিততে হতোই।

কারণ, আমার মনে হয় না, আমি যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছি, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে। দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর পরও আমাকে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছিল।’

লিভারপুল কোচ ক্লপ প্রশংসা করেছেন কোর্তোয়ার। তিনি বলেছেন, সেই ম্যাচের মূল ব্যবধানটা গড়ে দিয়েছেন। আর শিষ্যর পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে রিয়াল কোচ আনচেলত্তির।

তিনি বলেন, ‘ গোলপোস্টের নিচে সে যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। তবে এটি করার সক্ষমতা তার আছে, এমন বিশ্বাস ছিল আমার।’


আরো সংবাদ


premium cement