২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
`

হোমে নয়, শিরোপা গেল রোমে

হোমে নয়, শিরোপা গেল রোমে - ছবি : সংগৃহীত

ফাইনালের আগে বাক্য দুটি বেশ শোনা গেছে। ইটস কামিং টু হোম। ইংলিশদের স্লোগান। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জেতার পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ইংল্যান্ড। শিরোপা নেশায় বুঁদ ছিল কেইন শিবির। অন্যদিকে শোনা গেছে, ইটস কামিং রোম। ইতালিয়ানদের ব্যবহৃত বাক্যটিই শেষ অবধি বাস্তবে ধরা দিলো। ইউরোর শিরোপা হোমে নয়, গেল রোমে। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে টাইব্রেকার ভাগ্যে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালি, ৫৩ বছর পর। ঘরের মাঠ ওয়েম্বলিতে স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের। প্রথমবারের মতো ইউরোর ফাইনালে এসেও শিরোপাটা অস্পর্শ থাকলো ইংলিশদের।

অথচ ম্যাচের গতি প্রকৃতি অনেকটা ছিল ইংল্যান্ডের হাতেই। শুরুতেই ম্যাচে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইতালির ফিরে আসা। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানো। এবং অবশেষে টাইব্রেকার। যেখানে নায়ক ইতালির গোলরক্ষক। শেষ হাসি ইতালিয়ানদের (৩-২)।

দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোর শিরোপা জিতল ইতালি। সর্বশেষ ১৯৬৮ সালে এই আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ওটাই ছিল ইতালির প্রথম ইউরো। এরপর কেবল সময়ই গেছে, দুটি আসরে ফাইনালও খেলেছে আজ্জুরিরা; কিন্তু শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। অবশেষে ফুরাল তাদের অপেক্ষা।

টাইব্রেকারে ইতালির হয়ে গোল করেন দমেনিকো বেরার্দি, লিওনাদ্রো বোনুচ্চি ও ফেদেরিকো। ইংল্যান্ডের পক্ষে গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও হ্যারি মাগুইরে। মার্কাস রাশফোর্ডের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জ্যাডন সানচো ও বুকাইয়ো সাকার শট ফিরিয়ে দেন দোনারুমা।

ম্যাচের বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ইতালি। ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখে তারা। ইউরোর নতুন চ্যাম্পিয়নরা গোলমুখে শট নিয়েছে ১৯টি, এর মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যে। গোলমুখে শট নেয়াতেও অনেক পিছিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। তাদের নেয়া ৬টি শটের ২টি ছিল লক্ষ্যে।

ম্যাচ শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মাঝ মাঠ থেকে লম্বা করে বাড়ানো পাস খুঁজে নেয় কাইরান ট্রিপিয়ারকে। ইংলিশ এই রাইট ব্যাক ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে দারুণ এক ক্রস করেন। বাম পাশে অরক্ষিত থাকা লুক শ উড়ে আসা বলে সরাসরি নেয়া অসাধারণ শটে বল জালে জড়ান। ইউরোর ইতিহাসে ফাইনালে এটাই সবচেয়ে দ্রুততম গোল।

শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে খেলার গতি বাড়ায় ইতালি। আক্রমণ হানাতে থাকে ইংলিশ রক্ষণভাগে। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডি-বক্সের একটু বাইরে ফ্রি-কিক পায় ইতালি। লরেঞ্জো ইনসিনের নেওয়া শট উপর দিয়ে চলে যায়।

১২তম মিনিটে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের বাড়ানো পাস খুঁজে নেয় ট্রিপিয়ারকে। দারুণ একটি ক্রস বাড়ান তিনি। কিন্তু বাম প্রান্ত থেকে কেউ বলের সংস্পর্শে যেতে পারেননি। ২৮তম মিনিটে ইনসিনের দূরপাল্লার শট অনেক বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

৩৪তম মিনিটে ওয়ান টু ওয়ানে ইতালির ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ম্যাসন মাউন্ট ও রাহিম স্টার্লিং। কিন্তু মাউন্টের শেষ পাস স্টার্লিংয়ের কাছে পৌঁছাতে দেয়নি ইতালির রক্ষণ দেয়াল। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে যায় ইতালি। মাঝ মাঠের একটু দূর থেকে দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন ফেদেরিকো কিয়েসা। ইতালি উইঙ্গারের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৩৬তম মিনিটে আক্রমণ সাজায় ইংল্যান্ড। বাম প্রান্ত থেকে দারুণ একটি ক্রস বাড়ান লুক শ। কিন্তু ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়ের পায়ে বল পৌঁছায়নি। যোগ করা সময়ে দারুণ সুযোগ তৈরি করে ইতালি। চিরো ইমোবিলের শট ইংল্যোন্ডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে শট নেন কিয়েসা। কিন্তু তার দুর্বল শট সহজেই ধরে ফেলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

৫৬তম মিনিটে লুক শয়ের ফ্রি-কিকে হ্যারি মাগুইরের নেওয়া হেট গোল বারের উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে বাম প্রন্ত থেকে আক্রমণ সাজিয়ে শট নেন কিয়েসা। ফিরে আসা বলে শট নেন ইনসিনে। ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড।

৬২তম মিনিটে ইংলিশ রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের পরীক্ষা নেন কিয়েসা। বাম প্রান্ত থেকে ইংল্যান্ডের তিনজন ফুটবলারকে কাটিয়ে ডান পায়ে অসাধারণ এক শট নেন ইতালির এই উইঙ্গার। ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান পিকফোর্ড।

৬৭তম মিনিটে সমতায় ফেরে ইতালি। কর্নার কিকে হেড নেন মার্কো ভেরাত্তি। ফেরান পিকফোর্ড, কিন্তু দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। পাশেই থাকা লিওনার্দো বোনুচ্চি বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়ান। ইউরোর ফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করলেন ৩৪ বছর ৭১ দিন বয়সী বোনুচ্চি।

৭২তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে লম্বা করে তুলে পাঠানো পাস থেকে ইংল্যান্ডের ডি-বক্সে শট নেন দমেনিকো বেরার্দি। তার শট উপর দিয়ে চলে যায়। ৮৪তম মিনিটে বাম পাশ দিয়ে ইতালির ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান ম্যাসন মাউন্ট। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি স্টার্লিং। তার গায়ে বল লেগে দূরে চলে যায়। বাকি সময়ে আর গোল হয়নি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে।

এই অর্ধে ইতালি বেশি গোলের সুযোগ নষ্ট করেছে। টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ালে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয় আজ্জুরিরা। ইংল্যান্ড প্রথম দুটি শটেই সফল। অন্যদিকে ইতালি প্রথম দুটির একটিতে ব্যর্থ। ইংল্যান্ড পরের তিনটি শটেই ব্যর্থ। দুটি শট ঠেকিয়ে ইতালির জয়ের নায়ক দোন্নারুমা। ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে ইতালি।



আরো সংবাদ