১৯ জানুয়ারি ২০২১
`

অবরোধ উল্টো স্বাবলম্বী করেছে কাতারকে

অবরোধ উল্টো স্বাবলম্বী করেছে কাতারকে - সংগৃহীত

তেল আর গ্যাস রপ্তানীতে ভালোই চলছিল কাতার। তারা ছিল বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। গড় মাধাপিছু আয় এ বিশ্বের অন্যতম সেরা। তেল আর গ্যাস খনি আবিস্কৃত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাতার ছিল মুক্তা বিক্রেতা গরীব একটি আবর দেশ। সব চিত্রই পাল্টে দেয় দুই প্রাকৃতিক জ্বালানীর উৎস।

এরপরও ২০১৭ সালে জুনে চার আবর দেশের অবরোধ বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল পারস্য আর বাহরাইন সাগর বেষ্টিত দেশটিকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশরের অবরোধে ধাক্কা লাগে ১১৫৭১ বর্গ কিলো মিটারের এই দেশে। কিন্তু কাতার সরকারের তাৎক্ষণিক বলিষ্ঠ, সাহসি এবং যথাযথ পদক্ষেপ সে বিপর্যয়তো ঠেকানো দেছেই। উল্টো আরো স্বাভলম্বী করেছে দেশকে। আমদানীর পরিবর্তে তারা নিজেরাই এখন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য উৎপাদন করছে। সবই সম্ভব হয়েছে বর্তমান শাসক আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির যোগ্য নেতৃত্বে। বিদেশে লেখা পড়া করা এই স্মার্ট ব্যক্তি খুবই জনপ্রিয় দেশের সকলের কাছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি কারণেই অবরোধের শিকার দেশটি। তারা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানী করে। তবে অন্য সব জিনিস যেমন খাবার, সবজি, বস্ত্র, ঔষধ, দুধ, মেশিনারিজ সবই আমদানী করতো। খাবার তথা দুধ, সবজি আসতো সৌদি আরব থেকে। মেশিনারিজ পন্য এদেশে পাঠাতো আরব আমিরাত।

কাতার প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা জানান, এই অবরোধে উল্টো আত্মনির্ভর হয়েছে কাতার। সৌদি আরব থেকে দুধ আমদানী বন্ধ করে দেয়ার পরপরই কাতার সরকার হল্যান্ড থেকে বিমানে করে ৪ শত গাভী আমদানী করে। যা দিয়ে দুধের চাহিদা পূরণ হয়েছে ৩ লাখ কাতারী জনগনের। উল্লেখ্য এই দেশে স্থানীয় তিন লাখ লোকের বিপরীতে প্রবাসী ২৫ লাখ।

দেশের পতিত জমিতে শাক সবজি উৎপাদনের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীসহ অন্যদের আর্থিক সহায়তা করা শুরু করে কাতার সরকার। ফলে এখন দেশটিতে ব্যাপক হারে সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। আমিরাত থেকে মেশিনারিজ আসা বন্ধ হওয়ার পর কাতার নিজ উদ্যোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা শুরু করে।

এছাড়া তুরস্ক এবং ইরান সরকারও পাশে দাঁড়িয়েছে এই দেশটির। অবশ্য এতে দেশ দুটির ভালো ব্যবসায় হয়েছে কাতারে। ফলে সেই ধাক্কা সামলিয়ে কাতার আবার আগের অবস্থানে। বরং আরো ভালো অবস্থা তাদের।

সরকারের যথাযথ পদক্ষেপে তাই ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বড় আয়োজনের সব চেষ্টাই সাবলীল ভাবে এগুচ্ছে কাতারে। থেমে নেই কোনো কর্মযজ্ঞ। উল্টো আরো বড় বড় ক্রীড়া আসরের ভেন্যু পাচ্ছে।
শুধু এই অবরোধই নয়। ২০১০ সালে আরব বসন্তে বিভিন্ন দেশের শাসক গোষ্ঠী যখন ক্ষমতা হারান বা হারানো শংকায় তখন কোনো সমস্যা হয়নি কাতারে। বাংলাদেশীদের মতে, আরব বসন্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে কাতার সরকার স্থানীয়দের বেতন বাড়িয়ে দেয় তিন গুন। ফলে শান্তিপূর্ন অবস্থা।

নিয়ম শৃঙ্খলায় খুব কঠোর কাতার। আইন এখানে মানতেই হবে। তা ব্যক্তিটি যত বড় হোমড়া চোমড়াই হোক না কেন। এটাই দেশটির শাসকদের জনপ্রিয় করেছে। চলমান করোনা কালীন সময়ে করোনা রোগীদের সরকার নিজ উদ্যোগে বিনা চিকিৎসা করাচ্ছে। তা স্থানীয় বা প্রবাসী যেই হোক না কেন। এহতেরাজ অ্যাপস এর মাধ্যমে কার শরীরে করোনা জীবানু আছে বা নেই সহজেই তা সানক্ত করা যাচ্ছে। করোনা রোগী বা সন্দেহজনকরা বাইরে বের হলে এবং পুলিশ তা ধরতে পারলে তাৎক্ষণিক ২ হাজার রিয়াল (টাকায় ৪৫ হাজার) জরিমানা। এই পর্যন্ত দেশটিতে ২৩৯ জন করোনা রোগী মারা গেছেন।

এরমধ্যে বাংলাদেশী ২৯ জন। শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি। সবাই শিক্ষিত। বলতে পারে ভালো ইংরেজী। কাতারে বিদেশী শ্রমিকদের চিকিৎসা ফ্রি।

করোনায় অন্য দেশ থেকে কর্মহীন শ্রমিকদের বের করে দেয়া হলেও কাতার তা করেনি। বরং বেকার হয়ে পড়া দের কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে চেষ্টাই করছে। তবে বিমানন্দরে করোনা রোগী শনাক্তে কঠোর ব্যবস্থা। সবাইকে মোবাইলের সিম কিনতে বাধ্য করা হয়। এরপর এহতেরাজ আপস ডাউন লোড করতে হয়। ইমিগ্রেশনের আগেই করোনা টেস্ট। এরপর কাতারে প্রবেশের পর সে ব্যক্তি সেই অ্যাপসের আওতায়। তাই কাতারে করোনা রোগী কম।



আরো সংবাদ