০৩ জুন ২০২০

ফুটবল মওসুম পরিত্যক্ত ঘোষণা

ফুটবল মওসুম পরিত্যক্ত ঘোষণা - সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত সমাপ্তি নয় পরিত্যাক্তই ঘোষিত হলো চলতি ২০১৯-২০ ফুটবল মওসুম। করোনা মহামারীর কারনে ১৫ মার্চের পর স্থগিত হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আর অনুষ্ঠিত হবে না। ক্লাব গুলোর খেলতে আপত্তি আগে থেকেই ছিল। বাকী ছিল এএফসির সবুজ সংকেত। এএফসি বাফুফেকে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছে। তাই রোববার বাফুফের জরুরী সভায় চলতি ফুটবল মওসুম পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে এই লিগের রেলিগেশন যেমন হবে না তেমনি প্রমোশন বা চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণও হবে না। এই চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারণ না হওয়ায় আগামী এএফসি কাপে বাংলাদেশের একটি কোটা কমে যেতে পারে। উল্লেখ্য ফেডারেশন কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন এই দুই দলের সযোগ হয় এএফসি কাপের প্লে-অফ এবং গ্রুপ পর্বে খেলার।

বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি এবং আবদুস সালাম মুর্শেদী অবশ্য জানান, ‘এএফসি কাপের সময় এলে তখন এএফসির সাথে এই আসরে বাংলাদেশের কোটা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে। সে সময়ে যে দল প্রস্তুত থাকবে এবং তাদের লাইসেন্স থাকলে তাদের সুযোগ দেয়ার চেস্টা করা যাবে লিগের সেরা দলের কোটায়। তাছাড়া ততোদিনে বাফুফেতে নতুন কমিটি এলে তারাই ঠিক করবে কোন দলকে এএফসি কাপে পাঠাবে।’ অবশ্য অন্য একটি সূত্র বলছে এই কোটা আগামীবার হাতছাড়া হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য ইতোমধ্যে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামী এএফসি কাপের প্লে-অফে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

ফুটবল মওসুম পরিত্যক্ত হওয়ায় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং রেলিগেশন হচ্ছে না এবার। সালাম মুর্শেদীর মতে, লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারনের ক্ষেত্রে জটিলতা আছে। শেখ জামাল এক ম্যাচ কম খেলেছে। সেই ম্যাচ হলে এবং জিতলে তারাই থাকতো শীর্ষে। আবার ঢাকা এবং চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট সমান। গোলে এগিয়ে ঢাকা আবাহনী। এখন ঢাকা আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষনা করা হলে অভিযোগ করা হতো, আমরা আবাহনীকে ফেবার করেছি। এ বিষয়ে বাফুফের পরবর্তী কমিটি নিতে পারবে সিদ্ধান্ত।’ সিজনের কার্যত: অপমৃত্যু হওয়ায় এখন ফুটবলারদের সাথে ক্লাবের চুক্তিও শেষ।

সিজন পরিত্যক্ত হওয়ায় এবারের স্বাধীনতা কাপ হচ্ছে না। হচ্ছে না পেশাদারী ক্লাবদের অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল টুর্নামেন্টও। তবে আগামী মওসুমের দলবদল সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে করার পরিকল্পনা আছে। অক্টোবরেই ফেডারেশন কাপ। জানান পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান। অবশ্য ততোদিনে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাফুফের নির্বাচনও সম্পন্ন হবে। তখন নতুন কমিটিই সব সিদ্ধান্ত নেবে। সে সাথে আগামী সিজনে দলবদলের সময় ক্লাব এবং ফুটবলার উভয়ের আর্থিক লাভ ক্ষতির বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হবে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, ফুটবলারদের আগামী সিজনে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে রেখে দেয়া হবে পুরনো দলে। কারন এবার তারা সিংহভাগ টাকা নিয়ে খেলেছে মাত্র আট থেকে ১১টি ম্যাচ। অর্থ্যাৎ সিজনের মাত্র পাঁচ শতাংশ ম্যাচ খেলেছে।

মওসুম শেষ মানে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগও (বিসিএল) না হওয়ার কথা। যে লিগের চলছে দলবদল। কাল অবশ্য এই নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। জানা গেছে বিসিএল এর ক্লাবদের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে চ’ড়ান্ত সিদ্ধান্ত।


আরো সংবাদ