৩০ মার্চ ২০২০
জাতীয় দলের ব্যর্থতার পরও হুশ হয়নি লিগ কমিটির

উল্টো বাড়ানো হলো বিদেশী ফুটবলারের সংখ্যা

উল্টো বাড়ানো হলো বিদেশী ফুটবলারের সংখ্যা - ছবি : নয়া দিগন্ত

সাফের পর দুই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ব্যর্থতা। এস এ গেমসে এবারও হলো না স্বর্ন পুনরুদ্ধার। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে গোল মিসের খেসারত দিয়ে সেমিতে বুরুন্ডির কাছে ০-৩ গোলে ধরাশায়ী। তাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বিদেশী ফুটবলার কমানোর জোর দাবী উঠে। এই দাবীতে স্বোচ্চার সবাই। বর্তমান জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে ও উচ্চ কন্ঠ এই বিদেশী কমানোর দাবীতে। কিন্তু এরপরও হুশ হয়নি বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটির। বরং ভোট বাণিজ্যে তাদের কাছে অগ্রাধিকার ক্লাব স্বার্থ। তাই বাড়ানো হলো আসন্ন লিগে বিদেশী ফুটবলারের সংখ্যা। পাঁচ বিদেশীই খেলতে পারবেন এক ম্যাচে। তবে পঞ্চমজন নামতে পারবেন বিদেশীর বদলী হিসেবে। বুধবার সভায় এই সিদ্ধান্তের সাথে লিগ পিছিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু করার পক্ষে সবাই। সভা শেষে এই তথ্য জানান, লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালা মুর্শেদী।

পাঁচজন বিদেশী রেজিস্ট্রেশন এবং চার জনকে একটি ক্লাব এক ম্যাচে খেলাতে পারবে, বিদেশীর বদলে অন্য বিদেশীকে নামানো যাবে না, এটা ছিল নিয়ম। কিন্তু বুধবার পেশাদার লিগ কমিটির জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত, পাঁচ বিদেশীকেই এক ম্যাচে মাঠে নামানো যাবে। সভায় লিগ পেছানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ৩১ জানুয়ারীর মধ্যেই মাঠে গড়াবে ২০১৯-২০২০ মওসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। কিন্তু কাল ক্লাব গুলোর সাথে পেশাদার লিগ কমিটির ঐক্যমত, ১৩ জানুয়ারী পর্দা উঠবে এবারের লিগের। তা ঢাকা আবাহনীর এএফসি কাপের প্রিলিমিনারী রাউন্ডের খেলার জন্য। ৫ ও ১২ ফেব্রুয়ারী তাদের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ মালদ্বীপের মাজিয়ার বিপক্ষে। বাংলাদেশী ক্লাবটি যদি মাজিয়া বাধা পেরুতে পারে তাহলে ১৯ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী তাদের প্লে-অফ ম্যাচ। এই সব বিবেচনায় নিয়েই লিগের শিডিউল করা হচ্ছে। জানান , সালাম মুর্শেদী।

এবার লিগ হবে দেশের সাতটি জেলার সাত স্টেডিয়ামে। এগুলো হলো ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বসুন্ধরা কিংসের হোম ভেনূ নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম আবাহনীর চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম, মুক্তিযোদ্ধার গোপালগঞ্জের শেখ মনি স্টেডিয়াম, শেখ রাসেলের সিলেট স্টেডিয়াম, সাইফ স্পোর্টিংয়ের ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন স্টেডিয়াম এবং নতুন ভেনূ কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়াম। মোহামেডানের হোম ভেনূ এই কুমিল্লা স্টেডিয়াম। ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল, পুলিশ, ব্রাদার্স, উত্তর বারিধারা, আরামবাগ এবং রহমতগঞ্জ হোম হিসেবে ব্যবহার করবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে।

জাতীয় দলে স্ট্রাইকার সংকট ক্লাবে এই বিদেশী ফুটবলারের আধিক্যের কারনে। এরপরও কেন বিদেশী বাড়ানো হলো। সালাম মুর্শেদীর জবাব, পাঁচ বিদেশীকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে একজনকে সারা বছর বসিয়ে রাখাটা ক্লাবের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারন। তাই বিদেশীর বদলে বিদেশীকে নামনোর অনুমিত দেয়া।’ তাহলেতো দেশী ফুটবলারদের খেলার সুযোগ আরো কমলো। তার বক্তব্য, দেশী স্ট্রাইকার সহ অন্যদের ভালো খেলার জেদ থাকতে হবে। তাদেরকে বিদেশীদের টপকেই জায়গা করে নিতে হবে একাদশে। আমি তো তাদের মধ্যে এই চেষ্টাই দেখি না। নেই গোলের ক্ষুদা।’ দেশী ফুটবলার বসে বসে টাকা নিলে তাকে কি ক্লাবের আর্থিক লোকসান হয় না, এর উত্তর অবশ্য এড়িয়ে যান লিগ কমিটির চেয়ারম্যান।


আরো সংবাদ