০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪
ads
`

৫ মাসে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ ২৯ হাজার কোটি টাকা

-

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার গত পাঁচ মাসে নিট ঋণ নিয়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। এ সুবাদে ২৯ নভেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা (দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা)। গত ৩০ জুনে যা ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এ ঋণের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ। আলোচ্য সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে দুই হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এক দিকে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি চাপ বাড়ছে মূল্যস্ফীতির। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশী-বিদেশী পুঞ্জীভূত ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে সুদ ব্যয়। প্রতি বছরই বেড়ে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধের ব্যয়। বিশ্লেষকরা জানান, সরকারের রাজস্ব ব্যয় বাড়ছে; কিন্তু যে হারে ব্যয় বাড়ছে সেই হারে আয় বাড়ছে না। এতে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। আর বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। উচ্চ সুদে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার পাশাপাশি ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে সুদ ব্যয়। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ছিল ৬৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এ সুদ ব্যয় অনুন্নয়ন বাজেটের একক খাত হিসেবে সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ২ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছরেও একক খাত হিসেবে সর্বোচ্চ ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এ হিসাবে এক বছরে ঋণ পরিচর্চা বাবদ সুদ ব্যয় বাড়ছে ১১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ১৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে যে হারে ঋণ নিচ্ছে তার বেশির ভাগ পরিশোধ করতে হচ্ছে ঋণের সুদে।


বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের টাকার সঙ্কট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে জোগান দেয়া হয়। এতে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যায়। টাকার প্রবাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি কার্যকারিতা হারায়। তারা বলেন, কাক্সিক্ষত হারে রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। অন্য দিকে কমছে না সরকারের ব্যয়। বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে গেলে মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে যাবে।


বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বাজারে সরাসরি মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যায়। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ হট মানি হিসেবে পরিচিত। এক টাকা ছাড়লে পাঁচ গুণ মুদ্রা সরবরাহ বাড়ে। মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি উসকে যায়; কিন্তু ব্যয় নির্বাহে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান করতে না পেরেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হেেচ্ছ না। এনবিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অক্টোবরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আমদানি শুল্ক কমে যাওয়া। ডলার সঙ্কটের কারণে ব্যবসায়ীরা কাক্সিক্ষত হারে এলসি খুলতে পারছে না। এতে এলসি খোলার হার চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে পণ্য আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যেখানে ৪৮ শতাংশ, সেখানে এবার একই সময়ে পণ্য আমাদানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ। পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় আমদানি শুল্ক কমে গেছে।


সরকারের ঋণ নেয়ার সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ২৯ জুন শেষে সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ১১৯ কোটি টাকা, যা গত ৩০ জুন ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে টাকার সঙ্কটের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গত ২৯ নভেম্বর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় ৮৭ হাজার ২৫২ কোটি টাকা, যা ৩০ জুনে ছিল ৫৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। অথচ ২৯ নভেম্বরে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যেখানে ৩০ জুনে ছিল দুই লাখ ১৪ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ফেরত দেয়া হয়েছে দুই হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।

 


আরো সংবাদ


premium cement
মেসির মুখে বাংলাদেশের নাম! সোনারগাঁওয়ে স্ত্রীকে হাতুড়ি পেটা করে হত্যা, স্বামী পলাতক রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৩৯ জাবিতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত শিক্ষার্থী লাইফ সাপোর্টে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ ফখরুলের সাংবাদিক মাজহারের পিতার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনের রহস্যময় নজরদারি বেলুন : পেন্টাগন রাজশাহীতে চুরির অভিযোগে দুই নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা ঈশ্বরগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নারী সদস্যকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এক সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি ডলার খোয়ালেন আদানি কক্সবাজারে বাসা থেকে নারী এনজিও কর্মীর লাশ উদ্ধার

সকল