২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবেই

গোলটেবিল আলোচনায় মির্জা ফখরুল
বিএনপির গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবেই উল্লেখ করে এই ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে না থাকার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ ডিসেম্বর নিয়ে কোনো দ্বিধা রাখবেন না মনে। ১০ ডিসেম্বর অবশ্যই ঢাকায় সমাবেশ হবে। এই সমাবেশ থেকে নতুন স্বপ্ন দেখবে মানুষ, এই সমাবেশ থেকে মানুষ নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আরো তীব্রভাবে নামবে এবং আমাদের ওপর যে দানব চেপে বসে আছে তাকে পরাজিত করে জনগণের সরকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেই কাজ তারা করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি যে, আমরা এই সরকারের পতন চাই, আমরা সংসদ বিলুপ্ত চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর চাই, আমরা নতুন একটি নির্বাচন কমিশনের মধ্য দিয়ে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই যা জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে সবাই গ্রহণ করবে। বিএনপির উদ্যোগে গুলশানে হোটেল লেক শোরে ‘ভায়োলেন্স অ্যান্ড পলিটিক্স অব ব্লেমিং’ শীর্ষক এই গোল টেবিল আলোচনা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের আমলে সন্ত্রাসের বিভিন্ন ঘটনার ওপর একটি তথ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ যখন স্বতস্ফূর্তভাবে তাদের দাবি নিয়ে মাঠে নামছে তাকে বন্ধ করার জন্য সরকার হীন চক্রান্ত আবার শুরু করেছে। আমরা ইতোমধ্যে পত্রপত্রিকায় দেখেছি, বিভিন্নভাবে খবরও পেয়েছি যে, প্রায় ২০০ বাস রেডি করা হয়েছে পুড়িয়ে দেয়ার জন্য। এটা অসমর্থিত কিছু সূত্র থেকে পাওয়া খবর। ইতোমধ্যে কিছু আলামতও আমরা পেয়েছি যে, ছাত্রলীগ নামধারী, য্বু লীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসীকে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, থানায় থানায় নামিয়ে দিয়ে সেখানে তারা সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে। আমরা তখন থেকে এ ব্যাপারে সচেতন হয়েছি, সজাগ হয়েছি। যে কারণে আজকে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠান করা হয়েছে আমাদের সুধী সমাজকে, সুশীল সমাজকে, রাজনৈতিক দলগুলো এবং কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদেরকে জানাতে চাই যে, সরকার আবার সেই পুরনো খেলা, সেই উদোর পিণ্ডি বুঁধোর ঘাড়ে চাপানোর জন্য আবার কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে। একটা বিখ্যাত গান আছে যে, ‘রাইজ আপ স্ট্যান্ড আপ’। এখন উঠে দাঁড়াতে হবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়, জনগণের ম্যান্ডেট এদের কাছে নেই। এরা ১৫টি বছর ধরে মানুষের ওপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে গেছে। আমাদের ৬০০ নেতা-কর্মীকে গুম করে দিয়েছে। মানুষ আজকে এই ভয়াবহ দানব থেকে মুক্তি চায়। সরকার বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার, মেগা প্রজেক্টের নামে অর্থ লুটসহ বিভিন্ন খাতে অর্থনীতিকে ফোকলা করার কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সরকার চুরি-চামারি করছে এখন জোড়াতালি দেয়ার চেষ্টা করছে। আর সমানে মুখে বলছে যে, পৃথিবী সঙ্কট আছে, বাংলাদেশে সঙ্কট নাই। আজকেও বলেছে যে, বাংলাদেশে খুব চমৎকার একটা অবস্থা বিরাজ করছে অর্থনৈতিক কোনো সঙ্কট নাই। এই যে মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা, জাতিকে সবসময় একটা অন্ধকারের মধ্যে রেখে দেয়া এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের শাসনকে আরো স্থায়ী করতে চায়, স্থায়ী ব্যবস্থা করতে চায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে ফখরুল বলেন, আসুন দেশের স্বার্থে পরিবর্তন নিয়ে আসি।
সত্যিকার অর্থেই আমরা যে কারণে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম সেই লক্ষ্যে আমরা একটা বাসযোগ্য রাষ্ট্র তৈরি করতে ঐক্যবদ্ধ হই।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুলের যৌথ সঞ্চালনায় এই গোল টেবিল আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান ওমর, জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পাটির্ (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত সিরাজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইরান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসঙ্ঘের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা কেউ বক্তব্য রাখেননি।
গোল টেবিলের এই আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর নাসির, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, আবদুস সালাম, জয়নাল আবেদীন ফারুক, আবদুল কাইয়ুম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, বিজন কান্তি সরকার, এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আসাদুজ্জামান, জহির উদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, কাদের গনি চৌধুরী, তাবিথ আউয়াল, মীর হেলাল, শাম্মী আখতার, চৌধুরী নায়াবে ইউসুফ, তাইফুল ইসলাম টিপু, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফারুক রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির খন্দকার লুৎফর রহমান, এসএম শাহাদাত, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবুল করিম খান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনডিপির আবু তাহের, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, পিপলস লীগ সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সালেহিন প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ


premium cement
এবার কুরআন পোড়ানো হলে ডেনমার্কে তুর্কি দূতাবাসের সামনে মায়ের মৃত্যুতে ছুটি নেন ইঞ্জিনিয়ার, চাকরিতে ফেরার ৪ দিনের মাথাতেই ছাঁটাই গুগলের ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই হাত মিলিয়ে হারল ভারত পূর্ব জেরুসালেমে সিনাগগে গুলি, নিহত ৭ পাকিস্তান হাই কমিশনের উদ্যোগে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে মাওলানা আব্দুর রাফঈকে তুলে নেয়ার অভিযোগ পরিবারের মাশরাফির সিলেটকে হটিয়ে শীর্ষস্থান দখলে নিল সাকিবের বরিশাল লাদাখে সৈন্য বাড়াচ্ছে চীন, সংঘর্ষের আশঙ্কা ভারতের যুগপৎ আন্দোলন জোরদারের সিদ্ধান্ত লোডশেডিংয়ের ফলে সোলার প্যানেলের ব্যবহার বাড়ছে কে যাচ্ছেন বঙ্গভবনে

সকল