২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

দুর্বার ব্রাজিল আর এশিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

-

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর স্থান নিয়েই কাতারে আসা ব্রাজিলের। রেকর্ড পাঁচবারের শিরোপা জয়ী তারা। লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য থেকে ষষ্ঠ ট্রফি জিতে নেয়া। কাতার বিশ্বকাপটা সেভাবেই শুরু করেছিল ল্যাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ দেশটি। মাঝে নেইমারের ইনজুরি দলের খেলার ছন্দে বিঘœ ঘটায়। যে কারণে সার্বিয়ার বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ও ক্যামেরুনের কাছে রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের নিয়ে হার। নেইমারের সাথে ইনজুরিতে পড়েন রাইট ব্যাক দানিলোও। কিন্তু পূর্ণ শক্তির ব্রাজিল কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে এর সর্বশেষ সাক্ষী স্টেডিয়াম ৯৭৪-এর উপস্থিত দর্শক এবং ভুক্তভোগী দক্ষিণ কোরিয়া। পরশু রাতে কোরিয়ানদের বিদায়ের ফলে বিশ্বকাপে এশিয়ার শেষ আশা-ভরসারও ইতি। কোরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সেলেকাওরা জানিয়ে দিয়েছে তারা কেন র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে। কেন তাদের বারবার ফেবারিটের তালিকায় রাখা হয়। নেইমারদের প্রবল আত্মবিশ্বাসের এই জয়োৎসবের রাতে বিদায় দুই এশিয়ার অপর দেশ জাপানেরও।
এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো এশিয়ার তিন দেশ নকআউটে উঠে। তবে এদের কেউই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। প্রথমে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। আর পরশু এক রাতে প্রথমে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে জাপানের হার। ১-১ গোলে খেলা ১২০ মিনিট শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুট আউটে ৩-১ গোলে জয় ছিল ক্রোয়েটদের। এরপর মধ্যরাতে ব্রাজিল ঝড়ে উড়ে যায় কোরিয়ানরা। এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াই বিশ্বকাপে প্রথম সেমিফাইনালে খেলেছিল। তা ২০০২ সালে নিজ মাঠে। তাই সাড়ে তিন ঘণ্টা আগে জাপানের বিদায়ের পর অনেকেরই আশা ছিল হয়তো কোরিয়ানরা নিজেদের আরো এগিয়ে নেবেন। কিন্তু ব্রাজিলের সাঁড়াশি আক্রমণের কাছে পাত্তাই পেল না সং হিউং মিনের দল। ৩৬ মিনিটেই ব্রাজিল এই ম্যাচের সব আকর্ষণের ইতি ঘটায়। তবে কোরিয়ার সমর্থকরা দলকে শেষ পর্যন্ত সমর্থন দিয়ে গেছেন। চার গোলে পিছিয়ে থেকেও ৭৬ মিনিটে দর্শনীয় এক গোলে ব্যবধান কমানোর পর তাদের সে কী উল্লাস।
কাতার বিশ্বকাপটা এশিয়ার জন্য স্মরণীয় হয়েই থাকবে। একেতো নিজ মহাদেশে খেলা হয়েছে। এরপর একের পর এক চমক এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর। তাদের কাছে তিন সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের হার। প্রথম অঘটন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের জয়। এরপর জাপান ধরাশায়ী করে জার্মানি ও স্পেনকে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয় ছিল পর্তুগালের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার জয় ছিল ডেনমার্ক ও তিউনিশিয়ার বিপক্ষে। ইরান প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-৬ গোলে হারলেও পরে ওয়েলসকে হারায়। একমাত্র স্বাগতিক কাতারই কোনো ম্যাচ জিততে ব্যর্থ। তবে এশিয়ানদের সব অর্জনই মাটি হয়ে গেল ব্রাজিলের কাছে কোরিয়ানদের এমন বাজে হারে। আর স্পট কিকে জাপানের হারে বিদায়টা অতি কষ্টের। আসলে ব্রাজিলের ক্ষুরধার আক্রমণভাগের কাছে কিভাবে পাত্তা পাবে কোরিয়া? নেইমারের নেতৃত্বে আক্রমণ ভাগ। সাথে ইনফর্ম রিচার্লিসন ও ভিনিসিয়স জুনিয়র। যোগ হয় পাকুয়েতার গোল। আর পোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক অ্যালিসন বাকের। সব মিলিয়েই ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি কোরিয়া।
বর্তমান ব্রাজিল দল তারুণ্য নির্ভর। রদ্রিগো, অ্যান্থোনিরা, পেদ্রো, গ্যাব্রিয়েলরা দলটির আগামীর আরো নির্ভরতাও। ইনজুরির মতো আর কোনো বাজে ঘটনা তিতে দলের ওপর ভর না করলে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ এই দেশকে আটকানোটা কঠিনই হবে। নেইমারদের এখন কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা ক্রোয়েশিয়া। গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি এবারের বিশ্বকাপে এখনো অপরাজিত। তবে ব্রাজিল যেভাবে ক্রমেই নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে তাতে শেষ আটের ম্যাচে ক্রোয়েটদের থিতু হওয়ার কথা নয়।
ব্রাজিলের যে নান্দনিক ফুটবল সবাই প্রত্যাশা করে কোরিয়ানদের বিপক্ষে সে রূপের তাদের দেখা গেছে। ডিফেন্স যেমন পোক্ত। তেমনি মাঝমাঠেও দাপট। যার ফলে সহজ জয় নিয়েই তাদের গোল উৎসবে কবুতর নাচ। নেইমার গোলের দেখা পেলেন। ভিনিসিয়স জুনিয়রও জালে বল পাঠালেন। চার ম্যাচে তিন গোল করে রিচার্লিসনও এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে। সব মিলিয়ে দারুণ ফর্মে পেলের দেশ। কোরিয়াকে হারিয়ে এটাও প্রমাণ করা ক্যামেরুনের কাছে হারটা ছিল স্রেফই দুর্ঘটনা। আর তাও হতো না যদি রিজার্ভ বেঞ্চের ৯ ফুটবলার সেদিন একাদশে না খেলতেন।


আরো সংবাদ


premium cement