২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

ফ্রান্সকে হারিয়েও লাভ হলো না তিউনিসিয়ার

ডেনমার্ককে হারিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া
-

দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে ফ্রান্সকে হারাতে হবে। সে সাথে ডেনমার্কের কাছে পয়েন্ট খোয়াতে হবে অস্ট্্েরলিয়াকে। তাহলেই নকআউটে খেলা হবে তিউনিসিয়ার। একই সময়ে হওয়া এই দুই ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ঠিকই ১-০তে হারাল আফ্রিকান দেশটি। কিন্তু অপর ম্যাচে ডেনমার্ককে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে চলে গেল অস্ট্রেলিয়া। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়ে গতবারের বিশ্বকাপ জয়ীদের হারিয়ে সান্ত্বনা নিয়ে বিদায় নিল তিউনিসিয়া। আসরে প্রথম হারের মুখ দেয়া ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট সমান ৬ হলেও গোল পার্থক্যে ফ্রান্স হয়েছে গ্রুপ সেরা। আর সকারুজরা রানার্সআপ। চার দলের গ্রুপে এক পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ ডেনমার্ক। কাল জয়ের ফলে ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের পর চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারাল অপর আফ্রিকান দেশ তিউনিসিয়া।
আগেই দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলা নিশ্চিত। তা ‘ডি’ গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। তাই গতকাল এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে নিয়মরক্ষার ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়দের নিয়ে একাদশ সাজান ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশাম। এমবাপ্পেরা বিশ্রামে। অন্য দিকে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখতে ফরাসিদের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না তিউনিসিয়ানদের। তাই তারা পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামে। ৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দারুণ ফ্লিকে গোলও করেন উত্তর আফ্রিকান দেশটির ডিফেন্ডার নাদের ঘান্দ্রি। তবে ফ্রি-কিকটি নেয়ার আগেই তিনি ছিলেন অফসাইডে। ফলে সহকারী রেফারির পতাকা। মানে গোল বাতিল অফসাইডে। ২৯ মিনিটে তাদের আনিস বিন সিলিমানের দুর্বল হেড ফরাসি গোলরক্ষক ধরে ফেললে গোলবঞ্চিত এই মুসলিম দেশটি। এরপর খাজরির বাম পায়ের তীব্র ভলিতেও বাধা ফরাসি বদলি কিপার স্টেভ মাডান্ডা। ফলে গোলশূন্যতে শেষ প্রথমার্ধ।
প্রথম ম্যাচে ডেনমার্কের সাথে ড্র করা তিউনিসিয়া পরের ম্যাচে হেরে বসে এশিয়ার দেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছে। তাতেই তাদের প্রচণ্ড ধাক্কা খাওয়া। কাল তারা অবশ্য জিততে মরিয়া ছিল। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো গোল না পেলেও ৫৮ মিনিটে তিউনিসিয়া এগিয়ে যায় খাজরির গোলে। মাঝ মাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গতিতে বক্সে ঢুকে বাম পায়ের চমৎকার প্লেসিংয়ে বাম পাশ দিয়ে পরাস্ত করেন বিপক্ষ কিপারকে। গোল করার পরপরই তুলে নেয়া হয় খাজরিকে।
ম্যাচের ৬৭ মিনিটের সময় মাঠে ঢুকে পড়েন এক তিউনিসিয়ান দর্শক। ঢুকেই তার জিমন্যাস্ট স্ট্রাইলে দুই দফা ডিগবাজি খাওয়া। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে চ্যাং দোলা করে বের করে নিয়ে যায়। তিউনিসিয়ার ওয়ার্মআপ করা ফুটবলাররা প্রহরীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। ৪৩,৬২৭ জন দর্শক উপস্থিত ছিল এই ম্যাচের গ্যালারিতে।
পিছিয়ে পড়ার পর ফরাসি কোচ ম্যাচে ফিরতে মাঠেন নামান এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান ও ওসমান দেম্বেলেদের। তাতে আক্রমণে গতি আসে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের খেলায়। ৮৮ মিনিটে এমবাপ্পের দুরূহ কোণ থেকে নেয়া শট রুখে দেন তিউনিসিয়ান গোলরক্ষক আইমান দাহমেন। পরের মিনিটে কোলোমানের শট যায় পোস্ট ঘেঁষে। ৯২ মিনিটে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে বক্সের বাইরে বিপজ্জনক স্থানে ফ্রি-কিক পায় ফ্রান্স। তাতে কাজ হয়নি। সে বলই ঘুরে এমবাপ্পের কাছে গেলে তার নেয়া প্রচণ্ড শট রুখে দেন বিপক্ষ কিপার। ৮ মিনিট ইনজুরি টাইমের ৬ মিনিটে গ্রিজম্যানের শট ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তিউনিসিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও তা বাতিল হয় ভারের সিদ্ধান্তে নেয়া অফসাইডে।
ডেনমার্ককে হারিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়া
সারা বিশ্ব ক্রিকেটের দেশ হিসেবে চেনে অস্ট্রেলিয়াকে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হলেও সকারুজরা ফুটবলে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি সেভাবে। তবে ফুটবলের মেগা আসরে নিজেদের জাত চেনাল অসিরা। ডেনমার্ককে ১-০ গোলে পরাজিত করে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে উঠল সকারুজরা।
আল জানুব স্টেডিয়ামে গতকাল ম্যাচের শুরু থেকে প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে ডেনমার্ক। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ম্যাশহলে ডি বক্সের ভেতর থেকে শট নিলেও অসি গোলরক্ষক রায়ান সেভ করেন। ২১ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকগ্রির ভলি শট সোজা স্মাইকেলের হাতে।
পুরো ম্যাচের ৬৯ ভাগ বল পজিশনে রাখা ডেনমার্ক মাঝমাঠ দখলে রেখেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ। দ্বিতীয়ার্ধ দুই দলেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ ছিল উত্তেজনা ঠাসা। ৪৮ মিনিটে অস্ট্রেলিয়া ম্যাকগ্রির শট চলে যায় গোলবারের ওপর দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য ম্যাচ ড্র। কিন্তু ৫৭ মিনিটে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল দিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায় তিউনিসিয়া। এতে কিন্তুর সমীকরণে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সব সমীকরণকে পেছনে ফেলে ৬০ মিনিটে ম্যাকগ্রির পাস থেকে বল পেয়ে বাম পাশ থেকে দারুণ শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন লেকি। এই গোলের সুবাদে গ্রুপের রানার্সআপ হওয়া নিশ্চিত হয় অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাচের বাকি সময় গোল পরিশোধের চেষ্টায় মরিয়া অপরিকল্পিত আক্রমণে ব্যর্থ ডেনমার্ক। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ডি’র রানার্সআপ হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া।


আরো সংবাদ


premium cement