২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ৫ রজব ১৪৪৪
ads
`

শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অনেক অসুবিধা সত্ত্বেও বাংলাদেশ যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য সরকার নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা অব্যাহত রাখতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস এবং যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) আমাদের জন্য অনেক বাধা তৈরি করেছে। আমরা এ সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। তবে আমাদের আরো সতর্ক এবং সাশ্রয়ী হতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষাব্যবস্থা যাতে পিছিয়ে না যায় সে জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে (পিএমও) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও পরিসংখ্যান তুলে দেন। পরে বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান স্ব স্ব বিভাগের ফলাফলের পরিসংখ্যান প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।


শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার নতুন প্রজন্মকে উপযুক্ত শিক্ষায় সময়োপযোগী করে প্রস্তুত করতে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাকে বহুমাত্রিক করে চলেছে, যাতে তারা আধুনিক সমাজে প্রতিযোগিতা করতে পারে। তিনি বলেন, তরুণরা বাংলাদেশের শক্তি, তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য তাদের যোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে তা ডিজিটালাইজড ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবির্ভাবের ফলে দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তার সরকার দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের শিশুদের শৈশব থেকেই এমনভাবে শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে যাতে তারা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনার পর থেকে পরিবর্তনগুলো মোকাবেলা করতে পারে।’ তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশীদের অদক্ষ জনশক্তি হিসেবে বিদেশে পাঠানোর পক্ষপাতী নন বরং যোগ্য হিসেবে পাঠানোর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘তাই, আমরা শিক্ষাকে বহুমাত্রিক (শিক্ষায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং বৃত্তিমূলক মাধ্যম অন্তর্ভুক্ত করে) করছি, যাতে আমাদের দেশ আধুনিক শিক্ষার সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে যা তাদের ভাগ্য গড়তে সাহায্য করবে, কারণ সবাই বিএ ও এমএ ডিগ্রি নিয়ে বড় পদে যাবে না।


কেউ যেন পরীক্ষায় ফেল না করে সে জন্য শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার বিষয়ে তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং অন্যদের পরের বারের জন্য শুভকামনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী সন্তানরা কোনো বিখ্যাত স্কুলে না পড়লে ভালো শিক্ষা পাবে না অভিভাবকদের এমন মানসিকতা পরিবর্তন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদিও অতীতে দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, সিভিল সার্ভিস অফিসার এবং নেতারা জেলা স্কুল থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
দেশের বহু জ্ঞানী, বিজ্ঞানী, নেতা,পাকিস্তান আমলের বহু সিএসপি অফিসার জেলা স্কুলগুলো থেকে পাস করেই হয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন কারো কারো ধারণা এমন যে, মাত্র কয়েকটা স্কুল ভালো, ওখানে না পড়লে ভালো পড়া হয় না। এই যে মানসিকতা এটাও বদলাতে হবে।’


ক্ষমতায়ন ছাড়া নারীর অবস্থান উন্নত হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে নারীর অবস্থান উন্নত হবে না এবং যেকোনো সঙ্ঘাত ও দুর্যোগের সময় তাদের দুর্দশা বহু গুণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘এটা প্রশ্নাতীত যে নারীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। তারা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা, অপুষ্টি, অশিক্ষা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশ যৌথভাবে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী শান্তি ও নিরাপত্তা-ডব্লিউপিএস সেমিনার-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে ১,৩২৫ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যা নারীর শান্তি ও নিরাপত্তা-ডব্লিউপিএস এজেন্ডা প্রতিষ্ঠা করেছে। বাংলাদেশ এই প্রস্তাব প্রণয়নে অংশ নিতে পেরে গর্বিত।


শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার নারীনীতি ২০১১ প্রণয়ন করেছে এবং নীতিমালায় নারীর সামগ্রিক উন্নয়ন ও মূলধারার আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তাদের ক্ষমতায়নের পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, ব্যবসা, খেলাধুলা, সশস্ত্র বাহিনী প্রভৃতি খাতে তাদের বর্ধিত অংশগ্রহণ ও অবদান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক দৃশ্যপটকে বদলে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণের কারণে বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতার উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
সরকারপ্রধান আরো বলেন, বাংলাদেশে নারীরা এখন সরকারের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।


শেখ হাসিনা বলেন, সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের সাথে মতবিনিময় করবেন জেনে তিনি আনন্দিত। তিনি আশা করেন যে ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনটি যুদ্ধ এবং সঙ্ঘাতের শিকারদের বুঝতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ, কানাডা ও যুক্তরাজ্য কর্তৃক চালু হওয়া প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রধানের বর্তমান চেয়ার হিসেবে সবাই ডব্লিউপিএস এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো যুদ্ধ-সঙ্ঘাত রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ এবং সঙ্ঘাতের ক্ষতি বুঝি। সে জন্য আমি বিশ্ব নেতাদের আহ্বান জানাই, দয়া করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান। যেকোনো সঙ্ঘাত সংলাপ, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে। আমরা যুদ্ধ চাই না। আমরা চাই না কোনো মানুষ উদ্বাস্তু হোক। কারণ আমার সব অভিজ্ঞতা আছে।’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও বক্তব্য রাখেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শুরুতে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 


আরো সংবাদ


premium cement