০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯, ১০ রজব ১৪৪৪
ads
`

রাশিয়ার হামলায় খেরসন ছাড়ছেন ইউক্রেনীয়রা

-

রাশিয়ার অব্যাহত গোলা হামলা থেকে বাঁচতে গত রোববার কয়েক শ’ ইউক্রেনীয় খেরসন শহর ছেড়ে গেছেন। রাশিয়া সেনা প্রত্যাহার করে নিলে দুই সপ্তাহ আগে শহরটি আবার দখলে নেয় ইউক্রেনীয় বাহিনী। খেরসন বিজয়ের উদযাপনে মাতে ইউক্রেন। এ খবর দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ান। রাশিয়ার দখল থেকে খেরসন মুক্ত করা চলমান যুদ্ধে কিয়েভের বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রুশ বাহিনী নিপ্রো নদীর পূর্ব পাড়ে সরে গেলে শহরটি আবার নিয়ন্ত্রণে নেয় ইউক্রেন।
রুশ বাহিনী শহরটি ছেড়ে যাওয়ার আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দিয়ে যায়। এর পর থেকে পানি ও বিদ্যুতের অভাবে বাসিন্দাদের সেখানে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র শীতের মধ্যে তারা ঘর গরম করতে পারছেন না। যুদ্ধে জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় ইউক্রেনের তীব্র শীত সহ্য করা বাসিন্দাদের জন্য খুবই কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ আশঙ্কায় গত সপ্তাহে খেরসন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়।


রাশিয়ার গোলা হামলার কারণেও অনেকে শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। ৯ নভেম্বর রুশ বাহিনী শহরটি ছেড়ে যাওয়ার পর অব্যাহত গোলা হামলায় এখন পর্যন্ত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। খেরসন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান গালিনা লুগোভা বলেছেন, কর্তৃপক্ষ মানুষকে নিরাপদ করতে সব কিছু করবে। কিন্তু রুশ হামলা প্রতিদিনই তীব্র হচ্ছে। হামলার পর হামলা চলছে।
রুশ গোলা আঘাত হেনেছে ভিতালি নাদোচির ভবনেও। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট পুড়ে গেছে। জানালাগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আমরা এখানে থাকতে পারছি না। কোনো বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, বাসা গরম করার ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা আমার ভাইয়ের কাছে যেতে শহর ছাড়ছি।’
খেরসনে অব্যাহত বোমা হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়- রাশিয়া নিপ্রো নদী ঘিরে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান পোক্ত এবং ইউক্রেনের নতুন হামলা প্রচেষ্টা রুখে দেয়ার চেষ্টা করছে নাকি শহরটি আবার দখল করার চেষ্টা করছে। খেরসন থেকে সেনা প্রত্যাহার ছিল মস্কোর জন্য খুবই অপমানের।


জাপোরিজিয়া কেন্দ্র থেকে সরে যেতে পারে রাশিয়া : রুশ বাহিনী জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্র পরিচালিত পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানির প্রধান। পারমাণবিক জ্বালানি কোম্পানি এনারগোঅ্যাটম প্রধান পেত্রো কোটিন বলেছেন, রাশিয়ার সেনারা জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে পারে, এমন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছে তার কোম্পানি।
রোববার তিনি বলেন, ‘রুশ সেনারা জাপোরোজিয়া ছেড়ে যাচ্ছে এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা বলতে পারি, তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ রাশিয়ান মিডিয়া পাবলিকেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে কোটিন বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হতে পারে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কাছে। তিনি জানান, রুশ বাহিনী জাপোরিজিয়া কেন্দ্রে সামরিক সরঞ্জাম, সেনাসদস্য ও ট্রাক এনে রেখেছে, যেগুলোতে সম্ভবত আছে অস্ত্র ও বিস্ফোরক। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাঙ্গণে মাইনও পেতেছে তারা।
আইএইএ বলছে, গত ২০ নভেম্বরে জাপোরিজিয়া কেন্দ্রটির কাছে এক ডজনেরও বেশি বিস্ফোরক খুঁজে পেয়েছে তারা। ওই দিন সকালে রুশ বাহিনী কেন্দ্রটিতে গোলা হামলা চালিয়েছিল বলে জানায় এনারগোঅ্যাটম। ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর মার্চ মাসের শুরুতেই রুশ বাহিনী জাপোরিজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানোর জন্য তারা এ কেন্দ্রটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।


যুদ্ধবিরোধী পিটিশন রুশ মায়েদের : ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নতুন একটি অনলাইন পিটিশনে অংশ নিয়েছেন একদল রুশ সেনার মায়েরা। ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। রাশিয়ার একটি নারীবাদী যুদ্ধবিরোধী প্রতিরোধ গোষ্ঠী কর্তৃক এই পিটিশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রুশ পার্লামেন্টের এ-সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে change.org -তে এই পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এরই মধ্যে এতে দেড় হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর পড়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘৯ মাস ধরে কথিত বিশেষ সামরিক অভিযান চলছে। এটি ধ্বংস, শোক, রক্ত ও কান্না নিয়ে এসেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ায় যা কিছু ঘটে তা আমাদের হৃদয়কে উদ্বিগ্ন করে। জাতীয়তা, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থান যাই হোক না কেন, আমাদের রাশিয়ার মায়েদের একটি আকাক্সক্ষা রয়েছে। সেটি হচ্ছে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস এবং আমাদের সন্তানদের শান্তিপূর্ণভাবে বড় করে তোলা।’
পিটিশনে বলা হয়, বহু এলাকায় সামরিক সমাবেশের জন্য জড়ো করা পুরুষদের পেছনে ব্যয় করা অর্থও তাদের পরিবারের সদস্যদের জোগান দিতে হয়েছে। তাদের নিজস্ব খরচে সব কিছু, এমনকি বুলেটপ্রুফ ভেস্টও কিনতে হয়েছে। যেসব পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছে; তাদের কে এসবের জোগান দেবে?’


আলোচনায় বসার আহ্বান বেলারুশের : ইউক্রেনকে রাশিয়ার সাথে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে বেলারুশ। রোববার বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এমন আহ্বান জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। কিয়েভের দিক থেকে ‘কোনো পূর্বশর্ত’ ছাড়াই এমন আলোচনার তাগিদ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো। তিনি বলেন, রাশিয়ার সাথে আলোচনার জন্য পূর্বশর্ত রেখে কিয়েভ ভুল করছে।
এ ধরনের পূর্বশর্ত আলোচনার জন্য সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেন, ‘ভলোদিমির জেলেনস্কির তথা ইউক্রেনীয়দের ভুল হলো, তারা আলোচনা প্রক্রিয়ার সর্বোত্তম নীতি লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে যখন জায়ান্ট রাশিয়ার সাথে কথা বলছেন। আপনি আগে থেকে শর্ত দিতে পারেন না।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে বসুন এবং সেখানে যাবতীয় শর্ত তুলে ধরুন। দ্বিতীয় নীতিটি হলো সর্বোৎকৃষ্ট আপস।’

 

 


আরো সংবাদ


premium cement