০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

মুন্সীগঞ্জ ও বগুড়ায় বিলীন হচ্ছে বহু বসতভিটা ও আবাদি জমি

পদ্মা ও বাঙালি নদীতে ভাঙন
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর : নয়া দিগন্ত -

পদ্মা ও বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে কপাল পুড়ছে নদীপাড়ের লোকজনের। পদ্মার তীব্র ভাঙনে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি। অন্যদিকে বাঙালি নদীর ভাঙনে প্রতিনিয়ত আবাদি জমি হারাচ্ছেন বগুড়ার সোনাতলা এলাকার লোকজন। ভাঙন রোধে নদী খনন কাজ চললেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার লৌহজংয়ে পদ্মাতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে উত্তাল ঢেউ আর প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পদ্মা নদী ঘেঁষা উপজেলার আশপাশের গ্রাম ও বসতভিটা। গত ১ সপ্তাহে লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বড় নওপাড়া গ্রামে ইতোমধ্যে ১৫টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। অনেকে সরে গেছেন নিরাপদ স্থানে। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস যাবত লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের বড় নওপাড়া গ্রামে কমবেশি ভাঙছে তবে সপ্তাহখানেক যাবত তীব্র গতিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে তেউটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বড় নওপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
এলাকাবাসী জানান, এর আগে ৫০ হাজার টাকার বাঁশ-খুঁটি ও বালুভর্তি ব্যাগ ফেলে ভাঙন থেকে বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টা করছি। কিন্তু ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। এর আগে গত ১৮ মে উপজেলার শামুরবাড়ি ও হাড়িদিয়া গ্রামে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। বাঁধ নির্মাণ নিয়ে উপজেলাবাসীর মধ্যে যখন আনন্দের বন্যা বইছে, ঠিক তখনই হঠাৎ নদীভাঙন দেখা দেয়ায় আবার হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।
খবর পেয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আব্দুল আউয়াল। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্তকে জানান, ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা কাজ শুরু করেছি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী বলেছেন, ভাঙন রোধে তেউটিয়া ইউনিয়নে আজ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হবে বলে জানান।
সোনাতলা (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, জেলার সোনাতলায় বাঙালি নদীতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে শত শত হেক্টর আবাদি জমি। নদী খননের পরও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় নদীভাঙন রোধ হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। গতকাল বুধবার সরেজমিন উপজেলার শ্যামপুর, পোড়াপাইকর, সর্জনপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, পারবগা, হলিদাবগা, রানীরপাড়া, রংরারপাড়া, নামাজখালী, হুয়াকুয়া এলাকায় শত শত হেক্টর আবাদি জমি নদী ভাঙনের ফলে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ওই উপজেলায় ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় আমাদের বাড়ি থেকে বাঙালি নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে সেই নদীটি আজ বাড়ির কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানকার মানুষগুলো জমিজমা হারিয়ে সর্বস্বান্ত। অচিরেই নদীভাঙন রোধে সিসি ব্লক স্থাপন করা না হলে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে প্রায় ৩০-৩২টি গ্রাম।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাহবুবুর রহমান জানান, বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট, শেরপুর ও গাবতলী আংশিক এলাকায় বাঙালি নদী খনন কাজ চলছে। ওই নদীটি পুরোপুরি খনন কাজ শেষ হলে নদীভাঙন রোধ হবে। সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলার ২১৭ কিলোমিটার এলাকায় নদী খননের কাজ চলছে। বগুড়ার ৪টি উপজেলায় ৯৯ কিলোমিটার নদী খনন শুরু হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে সিসি ব্লক স্থাপন পুরোদমে শুরু হবে।


আরো সংবাদ


premium cement