০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বাজেটের বড় অংশ থেকে যাচ্ছে অবাস্তবায়িত

সক্ষমতা ও টাকার সঙ্কট
-

বিগত অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের বড় অংশ অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। মে ’২২ পর্যন্ত ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসের প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী পরিচালন খাতে বাজেট বরাদ্দের মাত্র ৭১.২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অন্য দিকে উন্নয়ন খাতে এই ১১ মাসে ব্যয় হয়েছে বাজেট প্রাক্কলনের মাত্র ৩৯.৫০ শতাংশ। বছরের শেষ মাসে পরিচালন খাতে ২৯ শতাংশ বা উন্নয়ন খাতে ৬০ শতাংশের বেশি অর্থ কার্যত ব্যয় করা সম্ভব হবে না। উন্নয়ন খাতে টাকা আলাদা করে রেখে ব্যয় দেখানো হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের গুণগত মান হবে একেবারেই দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাজেটের এভাবে বড় একটি অংশ অবাস্তবায়িত থাকার পেছনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্ষমতা ও অর্থের অভাবকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসময় লেগে যাওয়া আর সেই সাথে দেশের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতির দুরবস্থার কারণে সময়মতো বাজেটের কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে উঠছে না।
এদিকে অর্থবছরের বিবেচ্য ১১ মাসে সারা বছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৮৭.৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে এনবিআর রাজস্বের নির্ধারিত লক্ষ্যের ৯১.৩ শতাংশ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্য দিকে এনবিআর বহির্ভূত খাতে ১১ মাসে সারা বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫.৩ শতাংশ আদায় হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, বিবেচ্য ১১ মাসে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। বিবেচ্য ১১ মাস শেষে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব অনুপাত দাঁড়ায় ৮.৫৪ শতাংশ। আগের অর্থবছর এই হার ছিল ৭.৯৪ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৯.৭৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি আগের বছরের বাজেটের তুলনায় ১০.৬৬ শতাংশ বেশি ছিল। শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সরকারের চলতি ব্যয়ে বছরের বিবেচ্য ১১ মাসে সবচেয়ে বড় স্থান ছিল সুদ খাতের খরচের। এ খাতে মোট রাজস্ব ব্যয়ের ২৪ শতাংশ খরচ হয়েছে। এরপর ২১ শতাংশ সাধারণ সরকারি সেবা খাতে, ১৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে, ১০ শতাংশ প্রতিরক্ষায় এবং ৭ শতাংশ জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় হয়।
বিগত অর্থবছরের ১১ মাসে বরাদ্দের তুলনায় সর্বাধিক ৯১.৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে সুদ খাতে। এরপর উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে শিক্ষায় ৭৮.৩৯ শতাংশ, প্রতিরক্ষায় ৭৪.৫ শতাংশ, কৃষিতে ৭৬.৭ শতাংশ এবং সাধারণ সরকারি পরিষেবায় ৫৪.৩ শতাংশ ব্যয় হয়।
উন্নয়ন খাতে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন অগ্রগতি কমে আসছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে সেটি আরো নিচে নেমে গেছে। আগেরবার ১১ মাসে ৪৩ শতাংশ আর এবার ১১ মাসে উন্নয়ন খাতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয় সাড়ে ৩৯ শতাংশ। প্রতিরক্ষা ও সরকারি সাধারণ পরিষেবার মতো খাতে উন্নয়ন খাতের গড় ব্যয়ের চেয়েও খরচ কম হয়েছে।
বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ খরচ না হওয়ায় বিবেচ্য সময়ে বাজেট ঘাটতি কম হয়েছে। ২০২১ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি যেখানে ৩.৭২ শতাংশ ছিল সেখানে ২০২২ অর্থবছরের ১১ মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ০.৪১ শতাংশে।

 


আরো সংবাদ


premium cement