২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

বাংলাদেশের নির্বাচনে চোখ নর্ডিক দেশগুলোর

-

ঢাকায় নিযুক্ত নর্ডিক রাষ্ট্রদূতরা বলেছেন, তাদের দেশগুলো আগামী ৫০ বছর ও তার পরেও বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের সাথে ‘শক্তিশালী ও টেকসই’ অংশীদারিত্ব করতে চায়, যেখানে বৃহত্তর সহযোগিতার লক্ষ্যে সুযোগ অন্বেষণে প্রধান খাতগুলো থাকবে- জলবায়ু, সবুজ রূপান্তর, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সুস্থ মহাসাগর, লিঙ্গ সমতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ। ইউএনবি।
কসমস ডায়ালগে যৌথভাবে প্রস্তুত মূল বক্তব্য প্রদানকালে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ফন লিন্ডে, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিক্টর সভেনডসেন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি ইস্ট্রুপ পিটারসেনও বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব, বহুপক্ষীয়তা, বৈশ্বিক সংহতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কসমস গ্রুপের জনহিতকর বিভাগ ‘কসমস ফাউন্ডেশন’ তার চলমান রাষ্ট্রদূতের বক্তৃতা সিরিজের অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ-নর্ডিক সম্পর্ক : ভবিষ্যতের জন্য পূর্বাভাস’ শীর্ষক ওয়েবিনার বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইউএনবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও কূটনীতিক ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন কসমস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এনায়েতুল্লাহ খান।


আলোচনায় যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও ড. লাইলুফার ইয়াসমিন। ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত পিটারসেন বলেন, নর্ডিক দেশগুলো বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনে চোখ রাখছে এবং সংবিধান অনুযায়ী ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ নির্বাচন ও বাংলাদেশী জনগণের মতপ্রকাশের ক্ষমতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, নাগরিক ভোটার শিক্ষা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং নারী প্রার্থীদের প্রচারে নিয়োজিত সুশীলসমাজের সংগঠনগুলোকে সমর্থন করাও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের পক্ষে কাজ হিসেবে গণ্য হবে। পিটারসেন বলেন, ‘এই ৫০ বছরে আমরা একসাথে একটি উল্লেখযোগ্য যাত্রা করেছি। আমাদের অংশীদারিত্ব চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যের মধ্যদিয়ে হয়েছে। আর আমরা দৃঢ়ভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছি।’
ডেনিশ রাষ্ট্রদূত অবশ্য বলেন, তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, শ্রম অধিকারের পাশাপাশি একটি প্রাণবন্ত নাগরিক সমাজসহ মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি তৈরি করে।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত লিন্ডে বলেন, তার দেশ ‘টেকসইতা ও সবুজ রূপান্তর’ এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং একই সাথে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা জোরদার করতে চায়।


নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সভেনডসেন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমুদ্রগুলোর সুস্থতা ও উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা নরওয়ে ও বাংলাদেশ উভয়েরই এজেন্ডায় রয়েছে। তিনি বলেন, নরওয়ে সমুদ্রের প্লাস্টিক বর্জ্য ও মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রতিরোধে একটি বৈশ্বিক চুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নর্ডিক উদ্যোগে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার আশা করছে।
এনায়েতুল্লাহ খান বলেন, পাঁচ দশকে বাংলাদেশ ও নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে।
ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি নর্ডিক সপ্তাহ যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়েছে তা সুইডেন, নরওয়ে ও ডেনমার্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের উষ্ণতার প্রতিফলন ঘটায়।
ড. ইমতিয়াজ নর্ডিক রাষ্ট্রদূতদের বাংলাদেশে কার্বন নিরপেক্ষ গ্রামের মতো কিছু প্রতিলিপি করা সম্ভব কি না তা দেখার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। যেহেতু নর্ডিক দেশগুলোর পরিবেশের ওপর শক্তিশালী নজর রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিভাবে কার্বন নিরপেক্ষ স্থানে যাওয়া যায় তার একটি মডেল দাঁড় করানোর জন্য সেই কার্বন নিরপেক্ষ দ্বীপের একটা বা দু’টি কার্বন নিরপেক্ষ গ্রাম বাংলাদেশে অন্বেষণ করা যেতে পারে। নর্ডিক দেশগুলো যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারে... সেটা একটা মডেল হতে পারে।’
সাগরে অক্সিজেন মিনিমাম জোন (ওএমজেড) উল্লেখ করে লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে এটা বোঝার জন্য অন্যান্য দেশের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। যাতে আগামী বছরগুলোতে এটি বঙ্গোপসাগর এলাকায় বাংলাদেশের জন্য হুমকিতে পরিণত না হয়। ‘বাংলাদেশ ও অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সক্ষমতা নেই। এই ক্ষেত্রে নর্ডিক দেশগুলোর অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারে।’
রোহিঙ্গা সঙ্কট : ড. ইমতিয়াজ জানতে চান নর্ডিক দেশগুলোর প্রধানরা মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও নর্ডিক দেশগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য কোনো ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নিতে পারে কি না। যেহেতু নর্ডিক দেশগুলোর শান্তির এজেন্ডা খুবই মজবুত।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সভেনডসেন বলেন, সমস্যাটি অবশ্যই তাদের সবার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। ‘শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি আমরা শুরু থেকেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রতি আমাদের কূটনৈতিক সমর্থন প্রসারিত করেছি যখন শর্ত এর জন্য অনুমতি দেয়।’

 


আরো সংবাদ


premium cement