২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়

বিশ্বব্যাংকের চেজ অব ফেব্রিক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান : নয়া দিগন্ত -

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
-সংস্কার না হলে ৪ শতাংশের নিচে নামতে পারে
-কালো মেঘও দেখা যাচ্ছে : এম এ মান্নান


শীর্ষ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ প্রবৃদ্ধির বর্তমান কাঠামো টেকসই নয়। নতুন করে সংস্কার না হলে আগামী ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত পাঁচ দশকের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অগ্রগতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং একই সাথে প্রবৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করতে একটি শক্তিশালী সংস্কার এজেন্ডা প্রয়োজন। আর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সামনে রাজনৈতিক সঙ্ঘাত নয়, অনিশ্চয়তা আছে। রাজনীতির আকাশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। তবে আশা করি, ঝড় আসবে না। রাজনীতিবিদদের আলোচনার পথে আসতে হবে, সভ্যতা-ভব্যতার পথে আসতে হবে।


রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ নামক এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের মূল অর্থনৈতিক কনসালট্যান্ট জাহিদ হোসেন, এবং সিনিয়র ইকোনমিস্ট নোরা ডিহেল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান্ডান চেন, সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া বশির কবির, বিশ্বব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার হুন এস সোহ প্রমুখ।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্কার না হলে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। প্রবৃদ্ধির পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ন। সংস্কারে ক্রস-কাটিং থিম হিসেবে ডিজিটাল উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রফতানির অস্থিরতার ঝুঁকি কমানো, প্রবৃদ্ধির নতুন উৎস তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে রফতানি বহুমুখীকরণ জরুরি। তৈরী পোশাকের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং প্রতিরক্ষামূলক শুল্ক ব্যবস্থা বৈচিত্র্যময় রফতানি বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। অধিকন্তু কম মজুরি এবং পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বাণিজ্য প্রতিযোগিতার সাথে দেশটি রফতানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে পারে।


ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্য দিকে আধুনিক নগরায়নই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। আর মোটামুটি ধরনের সংস্কার হলে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ভালো রকম সংস্কার হলে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। সংস্কার না হলে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতিও কমে যাবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। নানা কারণে এসব খাতে অনেক ব্যর্থতা আছে। এসব খাত সংস্কার করতে হবে। অবশ্যই আমরা ভালো সংস্কার করার পক্ষে। জনগণ সংস্কার চায়। পুরো সংস্কার করতে না পারলেও কিছুটা করতে পারব। এ বিষয়ে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি। তিনি বলেন, সংস্কারের সাথে রাজনৈতিক অর্থনীতির সম্পৃক্ততা আছে। আমরা জোরকদমে হাঁটতে পারব না। তবে সামনে এগিয়ে যাবো। আপনারা যতটা জোরকদমে চান, ততটা জোরকদমে হয়তো হাঁটতে পারব না।
ড্যান্ডান চেন বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রগতিসহ নতুন ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো হলো- ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদা পূরণের জন্য নতুন নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন। তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের রূপকল্প অর্জনের জন্য বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও রূপান্তরমূলক নীতিগত পদক্ষেপ নিতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement