৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রোহিঙ্গাদের যেতেই হবে : ভোয়াকে প্রধানমন্ত্রী

-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষে আর কোনো লোক নেয়া সম্ভব নয়। মঙ্গলবার সম্প্রচারিত ওয়াশিংটনে ভয়েস অব আমেরিকা (ভোয়া) বাংলা সার্ভিসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের বারবার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বিশাল জনসংখ্যার (সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা প্রায়) দায়িত্ব একা একটি দেশের পক্ষে নেয়া অসম্ভব। শুধু আশ্রয় দেয়াই নয়, এত বিশাল জনসংখ্যার জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করাও একটি বড় দায়িত্ব, যা কোনো দেশ একা বহন করতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান কোভিড-১৯-এর কারণে সমগ্র বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হচ্ছে, যা বিশ্ববাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘যারা (রোহিঙ্গাদের) সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল (স্থানীয় জনগণ), তারা এখন নিজেদের বেঁচে থাকতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য কতটা আর করতে পারে, কারণ এর বিশাল জনসংখ্যা রয়েছে এবং দেশটিকে তার জনগণের কথাও ভাবতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোররা এখন ঘিঞ্জি বস্তিতে (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) লালিত-পালিত হয়ে বড় হচ্ছে, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ও সুস্বাস্থ্যের সাথে বেড়ে ওঠার সুযোগ খুবই সীমিত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজারের বন ধ্বংস করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্টের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং এলাকার আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ১৬ কোটি বাংলাদেশীর পাশাপাশি কয়েক লাখ মানুষের (রোহিঙ্গাদের) দায়িত্ব নেয়ার জন্য তার ছোট বোন শেখ রেহানার আবেদনের কথাও স্মরণ করেন।
শেখ রেহানাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘আপনি ১৬ কোটি লোককে খাওয়াতে পারেন, আর কয়েক লাখ লোককে খাওয়াতে পারবেন না?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ইতিবাচক জবাবে বলেছেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশীরা একবেলা খেয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আরেক বেলার খাবার ভাগ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশী জনগণ প্রচুর খাবার নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, পরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে এসে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। এ সফরে তিনি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়াসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারটি নেয় ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ।
সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কট ছাড়াও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা অভিযোগ, মিডিয়ার স্বাধীনতা ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, মধ্য আয়ের দেশে উত্তরণের পথে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, গৃহহীনদের জন্য নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ তার সরকারের নেয়া নানা কল্যাণমুখী নীতি ও কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী, ট্রান্সজেন্ডারদের কল্যাণে নেয়া নানা পদক্ষেপ, জিয়া-এরশাদ আমলের সামরিক শাসন, আগামী নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
ভয়েস অব আমেরিকার পক্ষ থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়–য়া।


আরো সংবাদ


premium cement
অঘটন ঘটিয়ে শেষ ষোলতে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিল তিউনিসিয়া ফেসবুকে প্রেমের পর গণধর্ষণ, আটক ৫ বিএনপির আমলের চেয়ে ছয় গুণ বেশি রিজার্ভ আমাদের রয়েছে : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মরা-বাঁচা লড়াইয়ে প্রথমার্ধ শেষে গোলশূন্য ডেনমার্ক-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেনো বিএনপির অপছন্দ : ওবায়দুল কাদের ফ্রান্স-তিউনিসিয়া ম্যাচ গোলশূন্য ড্তে শেষ প্রথমার্ধ গণসমাবেশের লিফলেট বিতরণকালে গাজীপুরে বিএনপির নেতাকর্মী গ্রেফতার ১০ দফা দাবিতে জয়দেবপুর রেল স্টেশনে বিক্ষোভ দুর্নীতির অভিযোগ, বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত মির্জাপুরে ইটভাটা মালিককে কোটি টাকা জরিমানান

সকল