০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের আগে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বিএনপির সমাবেশে পুলিশের বাধা : নয়া দিগন্ত -

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধা ঠেকিয়ে রাজধানীর হাজারীবাগে সমাবেশ করেছে বিএনপি। গতকাল বিকেলে হাজারীবাগে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে বিএনপির সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। বিএনপির নেতাকর্মীরা রুখে দাঁড়ালে কিছু সময়ের জন্য সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে উভয় দলের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হয়।
জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দলের চার নেতাকর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকার ১৬টি স্থানে সমাবেশের অংশ হিসেবে গতকাল হাজারীবাগে সমাবেশ ছিল বিএনপির। এর আগে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সেখানে সমাবেশ করতে না পেরে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা পৌনে ২টার দিকে হাজারীবাগের টালি অফিস রোডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকেরা বাধা দেয়। বিএনপির কর্মীরা বাধা প্রতিহত করে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকজন কর্মীকে বেধড়ক লাঠিপেটা করতেও দেখা যায়। কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মীও এ সময় আহত হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষ দুই দিকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে টালি অফিস রোডের মোড়ে আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে অবস্থান নেয়। পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখে।


শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঠিক উল্টে পাশে বেড়িবাঁধের পাশেই একটি মাঠে বিএনপির সমাবেশ হয়। সমাবেশে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী লাঠি ও জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে জড়ো হন। এ সময় সড়কের দুই প্রান্তে থাকা দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুই পক্ষকেই নিভৃত রাখার চেষ্টা করে। পুলিশ বিএনপি'র কর্মী সমর্থকদের লাঠির সরিয়ে ফেলতে বলে। এরপরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আজকে যে ঝড়-ঝাঁপটা গেছে, অলিগলি থেকে ওরা (আওয়ামী লীগ) আমাদের ওপরে গুপ্ত হামলা করেছিল। পুলিশ যদি আমাদের জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় বেতন ভুক্ত না হয়ে ওদের দলীয় কর্মী হতো তাহলে আমরা এখানে সভা করতে পারতাম না। এজন্য আমি পুলিশ ভাইদের ধন্যবাদ দেই। আমি তাদের চিনি। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের রাতে রাজারবাগে পুলিশ লাইনে আক্রমণ করেছিল সেদিন পুলিশরা তা প্রতিহত করেছিল। সেই দিন সৌভাগ্যক্রমে আমি তাদের সাথে ছিলাম। যে পুলিশ ভাইয়েরা গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছিল আপনারা তার উত্তরসূরি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য রুখে দাঁড়াবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, আজকে আমি হঠাৎ করে দেখলাম আমাদের ছেলেদের হাতে লাঠি। আমি একটু শঙ্কিত হলাম। আসলে বিএনপির কর্মীদের মারতে মারতে তারা এমন জায়গায় নিয়ে গেছে তারা আজকে আত্মরক্ষার জন্য লাঠি হাতে নিয়েছে। টেলিভিশনের টকশোতে বিএনপির লাঠি নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই, লাঠি আপনারা তুলে দিয়েছেন। বিএনপির কর্মীরা নিজ ইচ্ছায় লাঠি তোলে নাই।
ক্ষমতার জন্য জনসভা বা আন্দোলন নয় : টুকু বলেন, দেশে গণতন্ত্র নাই। আজকে আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনসভা করছি না, আমরা এই জনসভা করছি, আন্দোলন করছি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। আজকে সেই গণতন্ত্র তোমরা লুট করে নিয়ে গেছ। আমরা কিছু বললেই আমরা নাকি পাকিস্তানি দালাল। আরে আপনারা এখন যেটা করছেন, আমরা তো পাকিস্তান ছেড়েছি, তাদের বিতাড়িত করেছি। আমাদের তো ওসির কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে মিটিং করতে হয় নাই।


তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন কেন করি? মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তদের জীবন চলছে না, তাদের জীবনধারণ কষ্টকর হয়ে গেছে। বাজারে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়েছে, চালের দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে, নুনের দাম বেড়েছে। কোনটা বাড়ে নাই? তারপরেও রান্না করে খাব সেই গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেল নাই, গ্যাসও নাই। নাই বিদ্যুৎ। এই সরকার বাংলাদেশকে একটা শশ্মানে রূপান্তরিীত করেছে।
এর থেকে উত্তরণে সরকার পতন ছাড়া কোনো পথ নাই উল্লেখ করেন স্থায়ী কমিটির এই সদস্য ।
‘বিদেশী ঋণের উন্নয়ন জনগণের জন্য ফাঁস’ : ইকবাল হাসান টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়ন উন্নয়ন করে। এ দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব বর্তমানে আওয়ামী লীগ করে উন্নয়ন দেখতে দেখতে অসহ্য হয়ে পড়লেন। কয়েক দিন আগে কমিশনারদের মিটিংয়ে তিনি বললেন, আমাদের যে বহির্সম্পদ বিভাগে যাদেরকে আপনারা রাখেন তারা চুরি করার জন্য বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আসে, ঋণ নিয়ে চুক্তি করে, চুক্তি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়, পরিকল্পনা কমিশন সেটা পাস করে দেয়। পরে সেই ঋণ আমাদের গলার ফাঁস হয়ে যায়। এই কথা আমার নয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের।
মহানগর দক্ষিণের যুগ্মআহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবদুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, শেখ রবিউল আলম রবি, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ নেতারা বক্তব্য রাখেন।

 


আরো সংবাদ


premium cement
ফ্রান্সে হিজাব পরা নারীকে রেস্টুরেন্টে প্রবেশে বাধা, মালিকের জরিমানা লালমোহনে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা আশুলিয়ায় পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি বেলজিয়ামকে হারাতে আত্মবিশ্বাসী ক্রোয়েশিয়ান কোচ সুনামগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে ৯৪ বার পেছাল সাগর-রুনির তদন্ত প্রতিবেদন রসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোঘণা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ফুটবলের রাজা আমেরিকার সাথে পরমাণু যুদ্ধ ঠেকিয়েছিলেন এক সোভিয়েত কর্মকর্তা! গ্রুপ অফ ডেথে কঠিন সমীকরণ, স্বস্তিতে নেই কোনো দল

সকল