০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরখাস্ত

-

রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিমিত্রি বুলগাকভবে ‘অপসারণ’ করে ‘অন্য একটি দায়িত্বে’ নিয়োগ করা হয়েছে। মস্কো থেকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ খবর প্রকাশ করেছে।
বুলগাকভবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন কর্নেল জেনারেল মিখাইল মিজিনটসেভ। তিনি আগে ন্যাশনাল ডিফেন্স কন্ট্রোল সেন্টার অব রাশিয়ার প্রধান ছিলেন। আলজাজিরা।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিজিনটসেভ মরিউপলের আজব বন্দর অবরোধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই অভিযানের ছদ্মনাম ছিল ‘দি বুচার অব মরিউপোল।’ এ দিকে গত মে মাসে রুশ বাহিনী মরিউপোল দখল করেছিল। এ সময় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ দিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কো সম্ভবত এক বা একাধিক ‘কৌশলগত’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু বোমা ব্যবহার করবে। এগুলো হলো ছোট অস্ত্র, সবচেয়ে বড় মার্কিন কৌশলগত ওয়ারহেডের ১.২ মেগাটন অথবা ১৯৬১ সালে রাশিয়া যে ৫৮ মেগাটন বোমা পরীক্ষা করেছিল তার তুলনায় এই পরমাণু বোমাগুলো ০.৩ কিলোটন থেকে ১০০ কিলোটন বিস্ফোরক শক্তির হবে। কৌশলগত বোমাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সীমিত প্রভাব ফেলতে ডিজাইন করা হয়েছে। কৌশলগত আরো শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র সর্বাত্মক যুদ্ধ জয়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। কিন্তু ‘ছোট’ এবং ‘সীমিত’ আপেক্ষিক; কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হিরোশিমায় ১৯৪৫ সালে যে পরমাণু বোমা ফেলেছিল, তা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ছিল মাত্র ১৫ কিলোটন।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু বোমা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার লক্ষ্য হবে আত্মসমর্পণ বা আলোচনায় বশ্যতা স্বীকার করা এবং দেশটির পশ্চিমা সমর্থকদের বিভক্ত করা। ওয়াশিংটনে সিএসআইএস আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সামরিক বিশেষজ্ঞ মার্ক ক্যানসিয়ান বলেছেন, রাশিয়া সম্ভবত সামনের সারিতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তিনি বলেন, মস্কো এর পরিবর্তে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে পারে এবং পানির উপর একটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা এড়াতে পারে, অথবা একটি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস তৈরি করতে ইউক্রেনের আকাশের অনেক উচ্চতায় একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অচল করে দিতে পারে।
অথবা পুতিন বৃহত্তর ধ্বংস এবং মৃত্যু বেছে নিতে পারেন : ইউক্রেনের সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ করা, বা কিয়েভের মতো একটি নগরীর কেন্দ্রস্থলে আঘাত করা, ব্যাপক হতাহতের সৃষ্টি করা এবং সম্ভবত দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা করা।
হোয়াইট হাউজের সাবেক পরমাণু নীতি বিশেষজ্ঞ জন উলফস্টাল গত শুক্রবার সাবস্ট্যাকে লিখেছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি ‘সম্ভবত পুতিনের বিরুদ্ধে ন্যাটো জোট এবং বিশ্বব্যাপী ঐকমত্যকে বিভক্ত করার জন্য ডিজাইন করা হবে’। তবে ‘এটি সফল হবে কি না তা অস্পষ্ট এবং সহজেই সঙ্কল্প হতাশা হিসাবে দেখা যেতে পারে।’
পশ্চিমারা কৌশলগত পরমাণু হামলার প্রতিক্রিয়া কিভাবে দেবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে এবং পছন্দগুলো জটিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো একটি অন্তর্নিহিত পরমাণু হুমকির সামনে দুর্বলতা দেখাতে চায় না। কিন্তু ইউক্রেন ন্যাটো সদস্য না হলেও তারা ইউক্রেনের যুদ্ধ এড়াতে চাইবে না। এতে যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হবে এবং বিধ্বংসী বৈশ্বিক পারমাণবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না এবং ন্যাটোর কাছ থেকে এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিক্রিয়া আসা উচিত।

 


আরো সংবাদ


premium cement