০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯, ১০ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
১০ বছরেও সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি নেই

আসামিদের বিচারের আওতায় আনতে হাইকোর্টের রুল শুনানিতে উঠছে

-

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন। এই দম্পতি খুনের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ৯০ বার পিছিয়েছে। এ ঘটনায় ২০১২ সালে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের শনাক্ত করতে হাইকোর্টের জারি করা রুল শুনানিতে উঠছে। সম্প্রতি রিট আবেদনটি কার্যতালিকায় আসার পর বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। আগামী ২৩ আগস্ট এ রুলের ওপর শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আদালতে এ রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
এ বিষয়ে তিনি বুধবার বলেন, আগামী ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে জারি করা রুল শুনানির জন্য রয়েছে। আমরা শুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, আগে এ মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে। ১০ বছর ধরে এ মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ৯০ বার পিছিয়েছে। তিনি বলেন, তারা ইচ্ছা করলে সাগর-রুনি যে বাসায় থাকত, ওই বিল্ডিংয়ে কারা ঢুকেছে তা বের করতে পারে। কারণ সে ধরনের ডিজিটাল সিস্টেম রয়েছে।
মনজিল মোরসেদ জানান, সাগর-রুনি মামলার তদন্ত সঠিকভাবে করা এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য ২০১২ সালে আমরা একটি রিট দায়ের করেছিলাম। সেই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এরপর আমাদের পৃথক একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত র‌্যাবের কাছে চলে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই ১০ বছরে এ মামলার চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখনো তদন্ত পর্যায় রয়ে গেছে। ১০ বছর আগে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আমরা কোর্টে আবেদন করেছিলাম। আদালত রুল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি তদন্ত যেন তাড়াতাড়ি শেষ করে প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা যায়। ১০ বছর আগে জারি করা রুলের শুনানির জন্য আমরা কোর্টে আবেদন করেছিলাম।
আদালত রুল শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো: রবিউল আলমের ওপর। দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাবকে। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি র‌্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা। এ জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ২৪ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯০ বার পেছাল।


আরো সংবাদ


premium cement