২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর

ধানমন্ডিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি : বাসস -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি স্বাধীনতার স্থপতির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সশস্ত্রবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল সেখানে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভয়াল রাতে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ওই সময় বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
প্রধানমন্ত্রী এরপর বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও মুনাজাত করেন। এ ছাড়াও জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী এরপর দলের সভাপতি হিসেবে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে সমাধিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।


পরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সমাধি সৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
এর আগে শেখ হাসিনা দিবসটির জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক নিবাস টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী মহান এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডের ঐতিহাসিক বাসভবন পরিদর্শন করেন, যা ৪৭ বছর আগের এ দিনে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ছিল। বাড়িটি এখন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে, সেখানে শেখ হাসিনা কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। সারা দেশে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি থেকে পরে বনানী কবরস্থানে যান যেখানে তার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদের চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও তিনি ফাতেহা পাঠ করেন এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে।

 


আরো সংবাদ


premium cement