২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ২ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন বিশ্বমানের নির্বাচন : পিটার হাস

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার : তথ্যমন্ত্রী
রাজধানীর একটি হোটেলে রাজনৈতিক ই-প্রশিক্ষণ প্লাটফর্মের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত -

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি মৌলিক উপায় হলো তাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া। আমি যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা একটি জটিল কাজ। কিন্তু সমাজের প্রতিটি অংশের কল্যাণের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সরকার, গণমাধ্যম, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল সবারই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার প্রয়োজন। যদি তাদের কেউ একজন নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় কিংবা তাদের কেউ যদি অন্যকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএসএইড এবং বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত রাজনৈতিক ই-প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম পলিটিক্স ম্যাটারস ডটকম ডট বিডির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ডানা এল. ওল্ডসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি বক্তব্য দেন।
রাষ্ট্রদূত হাস বলেন, আলাদাভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে আমার ভালো লাগে ঠিকই, তবে আমি বেশি উপভোগ করি এ ধরনের সমাবেশ, যেখানে নীতি ও মতের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একাধিক দলের নেতারা একত্রিত হন। বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানার সাথে সাথে আগামীতে আমি সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে দেখা করা অব্যাহত রাখব। এটিই গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য বা সৌন্দর্য। একটা কথা আমি সুস্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলকে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দলের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয় না বা সমর্থন করে না।


পিটার হাস বলেন, আজ এখানে বাংলাদেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত আছেন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতা এবং তৃণমূল কর্মীদের উৎসাহিত করবেন যাতে তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র গড়ে তুলতে ও শক্তিশালী করতে ‘পলিটিকস ম্যাটার্স’ প্লাটফর্ম কাজে লাগান। এটি (www.politicsmatters.com.bd) বাংলা ভাষায় তৈরি করা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখান থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের অনুশীলন, নেতৃত্বের বিকাশ, দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত নিরসনের উপায় এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কোর্সগুলোতে বিনামূল্যে অংশ নিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, অব্যাহতভাবে নির্বাচন বর্জন ও তা প্রতিরোধের সংস্কৃতি লালন করলে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়ে। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র চালাচ্ছে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা গণতন্ত্রকে সংহত করা কোনো একক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়। সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত দায়িত্ব হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। তিনি বলেন, আমাদের গত ৫০-৫১ বছরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তখনই হুমকির মুখে পড়েছে, যখন অস্ত্র উঁচিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করা হয়েছে এবং সেই ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। দেশের কল্যাণে রাজনীতিসহ সব অঙ্গনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাংঘর্ষিক রাজনীতি এবং সব কিছুতে না বলার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতিতে তিক্ততা বাড়িয়েছে, এটি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে পরিবেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ হবে। সুতরাং আমি আশা করব যে, আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আগামী সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণ ভোট দেয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে না পারলে এই সব কার্যক্রম কোনো কাজে আসবে না।

 


আরো সংবাদ


premium cement