২০ আগস্ট ২০২২
`

ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্য

বাজার দর
-

ঈদুল আজহার পর থেকে স্থিতিশীল ছিল প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। এর তিন সপ্তাহ পর আবারো বাড়তে শুরু করেছে সবজিসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম। এ সময়ের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। ঈদের আগে ১০০ টাকার কাঁচামরিচ গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৫০থেকে ২৮০ টাকায়। দেড় শ’ টাকার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। সব ধরনের সবজিতেই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া এবং খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশেই কাঁচা মরিচের দাম বেশি। এমনকি দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদফতরের তথ্যমতে, গত মাসে একই দিনে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ৯০-১০০ টাকায়। যদিও গত বছর একই সময় কাঁচামরিচের দাম সেই তুলনায় বেশি ছিল ১২০-১৫০ টাকা। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে এখন দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৯০ টাকা, গোল বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, ধুন্দল কেজি ৬০ টাকা। এ ছাড়া চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, আকারভেদে প্রতিপিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকা, লেবুর হালি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। এ ছাড়া শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।
রাজধানীর ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে কাঁচামরিচ ও সবজির। সরবরাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে সবজির দাম। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। আর একটু ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। এসব বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। এ ছাড়া আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। এ ছাড়া প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এসব বাজারে দেশি মসুরের ডাল কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, ইন্ডিয়ান মসুরের ডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্যাকেট আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, খোলা আটার কেজি ৫০ টাকা। এ ছাড়া ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এসব বাজারে লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিমের ডজন ১৯৫ থেকে ১৯০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১৯০ টাকায়। বাজারে গরু গোশতের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা ও খাসির গোশত ৯০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়।
সরবরাহ বাড়লেও কমছে না ইলিশের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, গত দুই দিনে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে দেড় শ’ থেকে দুই শ’ টাকা। ক্রেতারা বলছেন, ভরা মৌসুমে বাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়তি থাকার বিষয়টা ব্যবসায়ীদের কারসাজি ছাড়া কিছুই নয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদপুর-বরিশাল এলাকার নদীগুলোতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। সেখান থেকে ইলিশ সরাসরি আমাদের কাছে আসেও না। আড়তদাররাও যদি সরাসরি ইলিশ কিনতে পারত, তাহলে দাম অনেকটা কমে আসত। কিন্তু আড়তদারের ওপর আড়তদার, এর ওপর দাদন ব্যবসায়ী। ফলে জেলেদের থেকে হাত বদল হওয়ার পরই ইলিশ দাম দৌড়াতে থাকে।
মাছবাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকায়। শিং ও পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪৬০ টাকা। শৈল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়।


আরো সংবাদ


premium cement