২০ আগস্ট ২০২২
`

ক্ষুব্ধ বিএনপির টানা কর্মসূচি

ভোলায় গুলি সরকারের পরিকল্পিত
-

ভোলায় পুলিশের গুলিতে নিহত দুই কর্মীর স্মরণে তিন দিনের শোক পালন করছে বিএনপি। একইসাথে ঘোষণা করা হয়েছে ছয় দিনের টানা বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি। বিএনপির মিছিলে গুলি চালিয়ে দু’জনকে নিহত করার এ ঘটনাটি সরকারের পরিকল্পিত বলেই মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তাদের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এমন একটি সময়ে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, যখন বিএনপি সরকারবিরোধী সব দলকে সাথে নিয়ে ভোটের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি মনে করছে, আন্দোলন দমনে সরকার বরাবরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও প্রকাশ্যে গুলি চালানো হয়েছিল। আন্দোলন দমাতে আগামীতেও তারা সেই পুরনো পথই বেছে নেবে এমন বার্তাই ভোলায় গুলিয়ে চালিয়ে বিএনপিকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, ভোলায় বিএনপির মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন দমন করতেই আবারো এই পথ বেছে নিয়েছে সরকার। তবে এতে তাদের শেষ রক্ষা হবে না বলে মনে করেন ড. মোশাররফ।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিরোধী দলগুলোকে সাথে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটি সরকারের জন্য কোনোভাবেই স্বস্তিকর নয়। যে কারণে সরকারপ্রধানও ‘চক্রান্তের’ কথা বলছেন। আসলে বিএনপি কোনো চক্রান্ত করছে না। বিএনপি দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপি শোককে শক্তিতে পরিণত করে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায় বলেন, সরকারের যদি নির্দেশ না থাকতো ইতোমধ্যে ভোলার এমপি সাসপেন্ড হতো। যারা গুলি করেছে তারা ডিপার্টমেন্টে ক্লোজড হতো, কিন্তু এমন কিছুই হয়নি। তার মানে হলো এটা সরকারের নির্দেশেই হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা আজকে নতুন নয়। এই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা একদলীয় সরকার পাকাপোক্ত করতে ১৫ বছর ধরে আমাদের ওপর হামলা-মামলা চালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত ছয় শ’ নেতাকমীকে গুম করা হয়েছে, সহ¯্রাধিক নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে, ৩৫ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি জেগে উঠবে। গণ আন্দোলন সৃষ্টি করেই ভোলায় দুই কর্মীকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলা বিএনপির মিছিলে পুলিশের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিম ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নূরে আলম নিহত হন। এ ছাড়া আরো প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। এদের মধ্যে কমপক্ষে ১৯ জন গুরুতর আহত বলে জানিয়েছে বিএনপি।

এ ঘটনায় বিএনপির সর্বস্তরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে নূরে আলমের নামাজে জানাজার আগে-পরে দীর্ঘসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় ভোলা জেলায় অর্ধদিবস হরতাল পালনের পর সারা দেশে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। এ ছাড়া ৬ আগস্ট ছাত্রদল, ৭ আগস্ট কৃষকদল, ৮ আগস্ট যুবদল, ১০ আগস্ট শ্রমিক দল, ১১ আগস্ট মহিলা দল ও ১২ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশব্যাপী সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বিএনপি সব দিক বিবেচনা করে সতর্ক পদক্ষেপে সামনে এগোচ্ছে। আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
বিএনপি ভোলার এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বললেও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নেতারা তাদের কর্মীদের সঙ্ঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে, ফলে ভোলায় মৃত্যুর জন্য প্রকারান্তরে তারাই দায়ী। তাদের এ দায় স্বীকার করে দল থেকে পদত্যাগ করা উচিত।

হাছান মাহমুদ আরো বলেন, ভোলায় পুলিশের ওপর গুলি করা হয়েছে। পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মানুষের সহায়-সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বই এই সঙ্ঘাতের জন্য দায়ী।

 


আরো সংবাদ


premium cement