১৩ আগস্ট ২০২২
`

ব্যয়সঙ্কোচনে সরকার

দুই অর্থবছরে সাশ্রয় ২৯ হাজার কোটি টাকা
-

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন করে গত দুই অর্থবছরে ২৯ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে সাশ্রয় হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। সদ্যসমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে খরচ কমানো গেছে চার হাজার কোটি টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি বাহুল্যব্যয় কমানোর জন্য গাড়ি কেনা বন্ধ, সরকারি কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ ছাড়ও বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল জানিয়েছেন, কোভিডকালীন সময় গত দুই অর্থবছর থেকে আমরা কৃচ্ছ্রসাধনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে সরকারি প্রকল্পে গাড়ি ক্রয়, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দেয়া অন্যতম। এ উদ্যোগের ফলে আমরা প্রথম বছরে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পেরেছি। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত অর্থবছরে কোভিড-পরবর্তী অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি থেকে আমরা কিছুটা পিছু হটেছিলাম। বন্ধ থাকা অনেক প্রকল্পে আমরা ছাড় করেছি, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে গেল অর্থবছরে অর্থ সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল বেশ কম। কিন্তু এবার গাড়ি কেনা, কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অর্থ ব্যয় বন্ধ করাসহ নতুন করে আরো একটি বিষয় যোগ করা হয়েছে। আর সেটি হলো, কর্মকর্তারা বিভিন্ন বৈঠকে যোগদান করে যে সম্মানী ভাতা পান তাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ দিকে গত রোববার অর্থ বিভাগ থেকে কৃচ্ছ্র সাধনের জন্য তিনটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
‘উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পসমূহের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন’ শীর্ষক পরিপত্রে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত প্রকল্পগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং অধীন দপ্তর/সংস্থাগুলো ‘এ’ ক্যাটাগরি চিহ্নিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন যথানিয়মে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলবে। ‘বি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি (জিওবি) অংশের ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত রেখে অনূর্ধ্ব ৭৫ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় আপাতত স্থগিত থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুসারে ‘সি’ ক্যাটাগরির প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ করা অর্থ আবার যোগ করে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের পূর্বানুমতি গ্রহণপূর্বক) ‘এ’ ক্যাটাগরি চিহ্নিত প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করতে পারবে।
এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অবমুক্তি ও ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৮-সহ বিদ্যমান আর্থিক বিধিবিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।’
‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের কতিপয় ব্যয় স্থগিত বা হ্রাসকরণ’ শিরোনামের পরিপত্রে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটে কিছু খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ে সব ধরনের যানবাহন কেনা (মোটরযান, জলযান ও আকাশযান) বন্ধ থাকবে। শুধু জরুরি ও অপরিহার্য ক্ষেত্র বিবেচনায় আপ্যায়ন ব্যয়, ভ্রমণ ব্যয়, অন্যান্য মনিহারি, কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ও আসবাবপত্র খাতে বরাদ্দ করা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। দেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ খাতে (প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ছাড়া) বরাদ্দ করা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। এসব খাতে বরাদ্দ করা অর্থ অন্য কোনো খাতে যোগ করা যাবে না।
‘উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কমিটির সম্মানী বাবদ ব্যয় স্থগিতকরণ’ শীর্ষক আরেক পরিপত্রে বলা হয়েছে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ, রাষ্ট্রায়ত্ত, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বাজেট ও নিজস্ব তহবিলের আওতায় বাস্তবায়নাধীন সব ধরনের প্রকল্প/ কর্মসূচি/ স্কিমসমূহের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি), প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), বিভাগীয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (ডিপিইসি), বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (এসপিইসি) এবং বিভাগীয় বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (ডিএসপিইসি) সভায় সম্মানী বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করা যাবে না।


আরো সংবাদ


premium cement