১৩ আগস্ট ২০২২
`

আশুলিয়ায় যুবককে পিটিয়ে ও রাজশাহীতে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

-

ঢাকার আশুলিয়ায় ফোন করে ডেকে নিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে এবং রাজশাহীতে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আশুলিয়া (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার আশুলিয়ায় ফোন করে ডেকে নিয়ে রাকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল (২৪) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
সোমবার সকালে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় উজ্জ্বলের। বিষয়টি হাসপাতালের কর্মকর্তা ইউসুফ আলী নিশ্চিত করেন। এর আগে গত ১ জুলাই শুক্রবার আশুলিয়ার ভাদাইলের কাঁঠালতলা এলাকায় বাসা থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে এক বন্ধুসহ আরো পাঁচ-সাতজন মিলে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
নিহত রাকিবুল ইসলাম উজ্জ্বল বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানাধীন চন্দনবাইশা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ভাদাইলে ভাড়াবাসায় থেকে নতুন ইপিজেডের ‘প্যাকজার বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই সজীব জানান, বেশ কিছুদিন আগে বন্ধু গোলাম রব্বানির সাথে নারীঘটিত ঘটনায় উজ্জ্বলের সাথে জুয়েল নামের এক বন্ধুর মারামারি হয়। পরে বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যে মীমাংসাও করে নেয়। গত শুক্রবার রাতে জুয়েল ফোন করে উজ্জ্বলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া আরো ৫-৭ জন উজ্জ্বলকে দেখা মাত্রই রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা চলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে নারীঘটিত ওই বিষয় নিয়েই পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলেও জানান সজীব।
আশুলিয়া থানার এসআই রাজু মণ্ডল জানান, হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে সাভার থানা পুলিশ। ঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ছাড়া আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্র সনিকে (১৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ সবজিপাড়া এলাকায় সনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সনি রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ওরফে পাখির ছোট ছেলে। সনি এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি নগরের বোয়ালিয়া থানার দড়িখরবোনা এলাকায়।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। রোববার রাতেই নিহত সনির বাবা রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৯/১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার আসামিদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সনি তার এক বন্ধুকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যায়। এ সময় কয়েকজন যুবক হাসপাতাল থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান। তারা সনিকে হেতেম খাঁ সবজিপাড়া এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রাস্তার পাশে ড্রেনে ফেলে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন সনিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সনির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার তার ছোট ছেলে সনির ১৭তম জন্মদিন ছিল। তিনি সন্ধ্যায় ৩৫০ টাকা দিয়ে জন্মদিনের কেক কিনে দিয়েছিলেন। পরে বন্ধুদের নিয়ে সনি জন্মদিন পালন করে। তিনি বলেন, খেলতে গিয়ে সনির এক বন্ধু আহত হয়েছিল। জন্মদিন পালন শেষে রাতে সনি তার বন্ধুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহত সনির বাবা হত্যা মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, সনির লাশ রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। সকালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুরের পর লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে নিহত সনির লাশ নিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে সনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


আরো সংবাদ


premium cement