০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

১৩৫টি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ

দাম বাড়ছে আমদানিকৃত ফল আসবাবপত্র ও প্রসাধন সামগ্রীর
-

প্রতি বছরই কিছু পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করায় বাজেটের পর সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বাজেট পেশের আগেই ১৩৫টি পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়বে। আরোপ বা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর দাম বাজেটের আগেই বেড়ে যাচ্ছে। এসব পণ্যের জন্য ভোক্তাদের গুনতে হবে বাড়তি দর। পণ্যগুলোর মধ্যে আপেল, আঙ্গুরসহ আমদানিকৃত বিদেশী ফল, ফুল, আসবাবপত্র ও প্রসাধনী সামগ্রী। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আমদানি প্রবণতা কমাতে ও দেশীয় পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে এনবিআর থেকে দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডলারের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দফায় দফায় ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। সর্বশেষ ৬ দিনের মাথায় গত সোমবার প্রতি ডলারের বিপরীতে ৪০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। ডলারের সঙ্কটের কারণে প্রায় প্রতিদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোকে ডলার সরবরাহ করছে। চলতি অর্থবছরের ২০ মে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরদিকে যে হারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে ওই হারে সরবরাহ বাড়ছে না। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ইতোমধ্যে ৪৮ বিলিয়ন থেকে ৪২ বিলিয়নের ঘরে নেমে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে কৃচ্ছ্রতাসাধনমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বিদেশ সফর বন্ধসহ বিলাসজাত পণ্যের আমদানি কমানোর নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গতকাল ১৩৫টি পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ২০২১ সালের এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরে দুপুরে ওই প্রজ্ঞাপনের ব্যাখ্যা দিয়েছে। এনবিআর জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়ম এ মু’মেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিলাসবহুল পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা ও আমদানি হ্রাসকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিদেশী ফল, বিদেশী ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকস জাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান শূন্য ও ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা গত ২৩ মে থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুল ও ফল চাষে যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী। এ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় ফুল ও ফল চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবে এবং ফুল ও ফল চাষে উৎসাহিত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। অন্য দিকে বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ফার্নিচার ও কসমেটিকস যথেষ্ট মানসম্পন্ন এবং দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ফার্নিচার ও কসমেটিকসে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশী পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় শিল্প বিকশিত হবে। এছাড়া এ ধরনের পণ্যের অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সরকারের রাজস্ব আহরণে তা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বৃদ্ধির তালিকায় ফলের মধ্যে রয়েছেÑ শুকনা, তাজা কিংবা হিমায়িত আপেল, নাশপাতি, আঙুর, কলা, আনারস, পেয়ারা, আম, তরমুজ, পেঁপে, বাদাম, কমলালেবু ও লেবুজাতীয় ফল, আলুবোখারা ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রসাধন সামগ্রীর মধ্যে আছে সুগন্ধি (পারফিউম), সৌন্দর্য বর্ধনের নানা উপাদান (যেমন সানস্ক্রিন, সান টান ইত্যাদি), হাত-পায়ের নখ কাটার প্রসাধনী, চুলের যতœ নেয়ার প্রসাধনী, দাঁতের যতœ নেয়ার পেস্ট ও পাউডার এবং সেভ করার প্রসাধনী। অন্যদিকে শোবার ঘর, রান্নাঘর ও অফিসের জন্য লোহা, কাঠ বা প্লাস্টিকের যেকোনো ধরনের আসবাব আমদানিতেও এখন থেকে বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। এ ছাড়া যেকোনো তাজা ফুল ও ফুলের গাছ আমদানিতেও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের আমদানি ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে মূল্যের ওপর।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে তিন হাজার ৪০৮টি পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি প্রযোজ্য রয়েছে। এসব পণ্যে সর্বনিম্ন ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত আরডি প্রযোজ্য রয়েছে। এর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল আইটেম হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ আইটেমগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক রয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement