০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সাথে দেখা করতে চান জেলেনস্কি; রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে ইইউ ; জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত রুশ কূটনীতিকের পদত্যাগ
-

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধের অবসানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে দেখা করতে ইচ্ছুক। সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে দেয়া ভাষণে জেলেনস্কি এ কথা বলেন। জেলেনস্কি বলেন, পুতিনই একমাত্র রুশ কর্মকর্তা; যুদ্ধের অবসান কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে তার সাথেই আলোচনা করতে ইচ্ছুক আমি। খবর আলজাজিরার।
একজন দোভাষীর মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের সব সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট। তাই আমরা যদি ব্যক্তিগতভাবে পুতিন ছাড়া এ যুদ্ধের সমাপ্তির বিষয়ে কথা বলি, তাহলে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ছাড়া দেশটির আর কারো সাথে কোনো ধরনের বৈঠকের বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেন না। জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একমাত্র পুতিনের সাথেই আলোচনা হতে পারে। অন্য কোনো বিষয়ে দেশটির অন্য কারো সাথে বৈঠকের কোনো ভিত্তি নেই।
রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা দেবে ইইউ : কয়েক দিনের মধ্যেই রুশ তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার রাতে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন, জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। রবার্ট হ্যাবেক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যেই রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ নিয়ে আরো অগ্রগতি হবে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়া অবশ্য সহসাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও জানান জার্মান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তুলনামূলক কম রফতানি করেও অধিক পরিমাণে উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেলের দাম সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানান রবার্ট হ্যাবেক। বিবিসি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশ এবং আমদানিকৃত তেলের ২৭ শতাংশ সরবরাহ করে রাশিয়া। এ জন্য দেশটিকে বছরে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ইউরো পরিশোধ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো। তবে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে রুশ জ্বালানির ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার উপায় খুঁজতে শুরু করে ইউরোপের দেশগুলো।
বন্দি বিনিময়ে প্রস্তুত কিয়েভ : রাশিয়ার সাথে বন্দি বিনিময়ের জন্য কিয়েভ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিষয়টি নিয়ে মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।
বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি মানবিক এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। রাজনৈতিকভাবে, শক্তিশালী ব্যবসার মাধ্যমে, ব্যবসা বন্ধ করার মাধ্যমে, তেল নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এবং এসব হুমকির মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আমাদের রাশিয়ান সেনাদের দরকার নেই। আমাদের কেবল আমাদের লোকজনকেই দরকার। এমনকি আগামীকালও আমরা বন্দি বিনিময়ের জন্য প্রস্তুত।
রুশ কূটনীতিকের পদত্যাগ : ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে চাকরি ছেড়েছেন একজন রুশ কূটনীতিক। পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বিরুদ্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ‘রক্তাক্ত, বুদ্ধিহীন’ যুদ্ধের প্রতিবাদে রাশিয়ার ওই কূটনীতিক তার চাকরি ছাড়েন। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স ও বিবিসি। পদত্যাগ করা রুশ ওই কূটনীতিকের নাম বরিস বোন্ডারেভ। তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার মিশনে কাজ করছিলেন।
বিবিসিকে তিনি বলেছেন, মস্কোর বিরুদ্ধে তার কথা বলার সিদ্ধান্তের অর্থ ক্রেমলিন এখন তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করতে পারে এবং এটি তিনি আগেই জানতেন। অন্যদিকে রুশ হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজনৈতিক কারণে কোনো কূটনীতিকের চাকরি ছাড়ার এ ঘটনা বেশ বিরল বলেই জানিয়েছে রয়টার্স। বার্তাসংস্থাটি বলছে, লিংকডইন প্রোফাইলে বরিস বোন্ডারেভ নিজেকে জেনেভায় জাতিসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের একজন কাউন্সিলর হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।
সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় : যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু সৈন্য ইউক্রেনে পাঠানোর বিষয় বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউক্রেনে সেনা পাঠালেও সেসব সেনা কম্ব্যাট সেনা হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি এ তথ্য জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুসারে, ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ সমন্বয় এবং দেশটিতে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা প্রদানে সেনা রাখার বিষয়টি নিম্নপর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সৈন্য ছিল। কিন্তু রাশিয়া দেশটিতে আক্রমণের পূর্বে বাইডেন প্রশাসন সেসব সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশটিতে সমরাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করলেও রুশ সেনাদের মোকাবিলায় সরাসরি তাদের সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা একাধিকবার নাকচ করেছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসাথে তিন দিক চলা রাশিয়ার সর্বাত্মক এই হামলা গড়িয়েছে চতুর্থ মাসে।


আরো সংবাদ


premium cement