০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

হজ ফ্লাইট ৫ জুন থেকে

-

বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইটের সময় পাঁচ দিন পিছিয়ে গেল। আগামী ৩১ মের পরিবর্তে ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি সৌদি থেকে এখনো ঢাকায় না আসায় পূর্বনির্ধারিত সময়ে হজ ফ্লাইট শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো: ফরিদুল হক খান।
গতকাল সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় ২০২২ সালের পবিত্র হজে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী শতভাগ হজযাত্রীর সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩১ মে প্রথম হজ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরনের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। কিন্তু ২৩ মে রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নকারী সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসে জানান, রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের জন্য ৪০ জনের সৌদি টিম আগামী ২ জুনের আগে ঢাকায় এসে পৌঁছাতে পারবে না। প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস/ যন্ত্রপাতিও এখনো ঢাকায় এসে পৌঁছেনি। এসব ডিভাইস/ যন্ত্রপাতি সৌদির ওই টিমের সাথে ঢাকায় আসবে। এ যন্ত্রপাতি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইনস্টল করতে কিছু সময় লাগবে। এ জন্য আগের সিদ্ধান্ত অনুসারে ৩১ মে প্রথম হজ ফ্লাইট শুরুর কথা থাকলেও হজযাত্রীদের প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি ও বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় হজচুক্তি অনুসারে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে হজে গমনকারী বাংলাদেশের সব হজযাত্রী ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটে সৌদি আরব যেতে পারবেন। একই সাথে ঢাকায় তাদের প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা হবে। এ অবস্থায় ৩১ মের পরিবর্তে আগামী ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিমান মন্ত্রণালয় ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত জানিয়ে ফরিদুল হক খান বলেন, তারা বলেছেন, এ ক্ষেত্রে হয়তো একটা করে ফ্লাইট সিডিউল পিছিয়ে যাবে। এর মানে এই না যে আমাদের শেষে গিয়ে পেছাতে হবে। মাঝখানে কিন্তু অনেক ফ্লাইট ফাঁকা রয়ে গেছে, কাজেই অসুবিধা হওয়ার কোনো শঙ্কা আছে বলে আমি মনে করি না। তিনি আরো বলেন, ৫ জুন থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং শিডিউল সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।
হজক্যাম্পে হজের কার্যক্রম উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হজ ক্যাম্পে হজযাত্রীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উদ্বোধন ঘোষণা করবেন সম্ভবত জুনের তিন বা চার তারিখে।
বিমান প্রতিমন্ত্রী : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আমরা আজকে চিঠি পেয়েছি। ৩১ মে থেকে হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। আমাদের স্লটও নেয়া ছিল। আমাদের প্রস্তুতিটা চূড়ান্তভাবে নিয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ অংশে সৌদি আরব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ফ্লাইট যদি ৫ জুন থেকে শুরু হয়, আমরাও পাঁচ তারিখ থেকে শুরু করতে পারব।
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা সনদ : চলতি বছর হজযাত্রীদের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সময় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা গ্রহণের সনদ দেখাতে হবে। এ জন্য হজযাত্রীদের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত ২৩ মে থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ কথা জানানো হয়েছে।
টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ গ্রহণের সময় অনুসরণীয় বিষয়গুলো হলোÑ সরকারি হাসপাতাল অথবা সরকার অনুমোদিত বেসরকারি যেকোনো হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বুকের এক্সরে, ইসিজি, ব্লাড গ্রুপ, ইউরিন-আরএমই, ব্লাডসুগার রিপোর্ট উল্লেখিত টিকা কেন্দ্রে আসার সময় সাথে নিয়ে আসতে হবে। এসব পরীক্ষা বিগত তিন মাসের মধ্যে করা হয়ে থাকলে পুনরায় পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। শুধু পূর্বের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে টিকাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিজ নিজ এজেন্সির মাধ্যমে ই-হেলথ প্রোফাইল ফরমের প্রিন্ট কপি সাথে আনতে হবে। কোনো হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণে ব্যর্থ হলে আজ বুধবার থেকে আশকোনার হজক্যাম্পে স্থাপিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ গ্রহণ করবেন।
সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী ঢাকার : আসন্ন হজে সবচেয়ে বেশি ১১ হাজার ১৬ জন হজে যাবেন রাজধানী ঢাকা থেকে। আর সবচেয়ে কম ৩৬ জন হজযাত্রী যাবেন বান্দরবন থেকে। গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক তিন হাজার ৬০৮ জন হজযাত্রী যাবেন চট্টগ্রাম থেকে, তৃতীয় দুই হাজার ২৬৩ জন বগুড়া থেকে, চতুর্থ এক হাজার ৮৮২ জন যাবেন রাজশাহী থেকে এবং পঞ্চম এক হাজার ৬২১ জন হজযাত্রী যাবেন সিরাজগঞ্জ থেকে।


আরো সংবাদ


premium cement