০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

বিরোধী দলগুলোর সাথে বিএনপির আলোচনা শুরু

কার্যকর আলোচনা : ফখরুল; বৃহত্তর আন্দোলন : মান্না
-

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়নে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি।
গতকাল বিকেলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন দলটির সাথে বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই আলোচনার সূচনা হয়।
নাগরিক ঐক্যের সাথে ‘কার্যকর’ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অন্য দিকে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই আলোচনা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার একটি পদক্ষেপ।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বিএনপির সংলাপ শুরুর প্রথম দিনে বিকেলে বিএনপি মহাসচিব তোপখানা রোডে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে আসেন। কার্যালয়ের পাশে শিশু কল্যাণ পরিষদ ভবনের সম্মেলন কক্ষে নাগরিক ঐক্যের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসেন বিএনপি মহাসচিব। বিকেল ৫টা থেকে দেড় ঘণ্টা এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সাথে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
নাগরিক ঐক্যের নেতৃত্ব দেন দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির উপদেষ্টা এস এম আকরাম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, জিল্লুর চৌধুরী দিপু, জাহেদ উর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবু জাহেদ মোহাম্মদ সারওয়ার, আনিসুর রহমান খসরু, মাহবুব মুকুল, মঞ্জুর কাদের, এসএমএ কবির হাসান, আবু তালেব দেওয়ান, মুহিদুজ্জামান মুহিদ, আবদুর রাজ্জাক রাজা প্রমুখ।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য এই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছি। উদ্দেশ্য একটাই, এটাকে একটা যৌক্তিক পরিণতির দিতে নিয়ে যাওয়া এই অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কার্যকরী আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি এই আলোচনার রেশ ধরে বাকি দলগুলোর সাথেও আলোচনা ফলোপ্রসূ হবে। আমরা অন্য দলগুলোর সাথেও কথা বলব। অতি দ্রুত আলাপ-আলোচনা শেষ করে আমরা একটা যৌথভাবে আন্দোলনের সূচনা করতে পারব এবং আমরা আশা করি শিগগিরই আমরা এই কাজটা করতে পারব।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ আশা করে আছে যে, বিরোধী দলগুলো একটা ঐক্যের মধ্যে এই সরকারের বিরুদ্ধে সফল কার্যকরী আন্দোলন গড়ে তুলবে, সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন আনবে এবং সেই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জনগণের একটা সরকার ও পার্লামেন্ট হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা আজকে নাগরিক ঐক্যের সাথে কথা বলেছি।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই বৈঠক আনুষ্ঠানিক হলেও আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আমাদের সাথে বিএনপির কথা হয়েছে। আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যেসব কাজ করা দরকার সব না হলেও মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আজকের সভায় আমরা আলোচনা করেছি। এই মৌলিক বিষয়গুলোর একটা হচ্ছে এই সরকারের অধীনে একটা সুষ্ঠু, ভালো, গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। এটা এ দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল বলেছে। এরই ভিত্তিতে এই সরকার চলে যাওয়ার পরে পরবর্তী নির্বাচন ও সরকার প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত যারা দায়িত্বে থাকবেন তাকে যে নামে ডাকি আমরা- একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করবেন এই দাবির ভিত্তিতে আমরা বিজয় পর্যন্ত লড়াই করব এই চিন্তায় কাজ করছিলাম-আজকে বৈঠকের প্রথমে আমরা সেই কথার পুনর্ব্যক্ত করেছি।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া যায় কিরকম করে, আমাদের দলগুলোর পারস্পারিক বুঝাপরা-সমঝোতা, নিজেদের দলগুলোর কোনো সমস্যা, কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট এগুলো নিয়ে আমরা কথাবার্তা বলেছি। একটা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ার তোলার পদক্ষেপ হিসেবে আজকের এই বৈঠককে আমরা বিবেচনা করছি। আমি মনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা মুখ্য হবে।
কী আলোচনা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন। আমরা আলোচনা করেছি নিরপেক্ষ সরকার গঠনের পর নির্বাচন কমিশন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলগুলোকে নিয়ে একটি মতামতের ভিত্তিতে একটা সরকার গঠন করা যেটা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন যে, একটা জাতীয় সরকার গঠন করা হবেÑ এগুলো আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল। আরেক বিষয় ছিল আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে তার মুক্তি। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, গায়েবি মামলা ও যাদের আটক করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবার সাথেই আলোচনা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সাথে হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কথা তো বলতে হবে। অবশ্যই। তাদের সাথে কথা না বললে কেমন করে হবে। সবার সাথেই তো কথা বলতে হবে।
২০ দলীয় জোট থাকবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০ দলীয় জোট তো আমরা এখন পর্যন্ত বিলুপ্ত করি নাই। এই জোটের কী হবে সেটা এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ফাইনালাইজড করব।
গত ২৩ মে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব তুলে ধরেন।
নতুন এই ঐক্যের ক্ষেত্রে জোটের কী নামকরণ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একে জোট বলছি না, অন্য কোনো কিছু বলছি না। আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ফরমেট নির্ধারিত হবে।
‘২৬ মে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি’ : স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৬ মে ঢাকা ছাড়া সকল মহানগর ও জেলা সদরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো যৌথভাবে বিভোক্ষ সমাবেশ করবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশে সিনিয়র সিটিজেনদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসম্মানজনক বক্তব্যের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান’ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় দুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ তৎপরতার একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এক দিকে যখন বন্যা দুর্গত মানুষের ত্রাণের জন্য আহজারি করছে সেই সময়ে জনৈক মন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণের সময় সাহায্যপ্রার্থী হাজার মানুষের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বন্যার্তদের ওপরে এই আক্রমণ আওয়ামী লীগের স্বভাবজাত অমানবিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রতিফলন। এছাড়া গতকাল সকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।


আরো সংবাদ


premium cement