০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`

আ’লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয় পদ্মা সেতু : ফখরুল

বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : নয়া দিগন্ত -

পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয় মন্তব্য করে সেতু নির্মাণের হিসাব চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান। তিনি বলেন, জনগণ জানতে চায় যে, পদ্মা সেতুর জন্য তাদের কাছ থেকে কত টাকা কেটেছেন? কত টাকা আপনারা এই পদ্মা সেতুতে ব্যয় করেছেন আর কত টাকা দুর্নীতি করে পকেটে ভরেছেন। জনগণ আরো জানতে চায়, পদ্মা সেতুর জন্য এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কত টাকা গুনতে হবে ঋণ শোধ করার জন্য।
ফখরুল বলেন, আজকে শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করার বড়াই করছেন। আমরা বলতে চাই, পদ্মা সেতু আপনার একার না, আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। জনগণের পকেট থেকে যে ট্যাক্স কেটে নিয়েছেন সেই টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে এতে যে দুর্নীতি হয়েছে তা সমস্ত দুর্নীতির মাত্রা ছড়িয়ে গেছে।
ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কটূক্তির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে টুস করে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফেলে দেয়ার উক্তির জন্য শেখ হাসিনার প্রতি ধিক্কার জানাই। আজকে সমস্ত দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ধিক্কার জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে আপনারা হত্যার হুমকি দিয়েছেন। আমরা ভাবতেও পারি না যে, জোর করে ক্ষমতা দখল করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরেও আপনার মুখ থেকে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন, সন্ত্রাসী বক্তব্য কিভাবে আসে? কোনো সভ্য সমাজে, গণতান্ত্রিক সমাজে এই ভাষা ব্যবহার করার চিন্তাই করা যায় না। তিনি বলেন, আপনাদের এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান জনগণের কাছে। অন্যথায় জনগণ আপনাদের ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেবে না।
এখনো সময় আছে, পদত্যাগ করুন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনে জনগণের যে সরকার গঠন হবে সেই সরকারই হবে জনগণের সরকার।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা এখন নার্ভাস হয়ে গেছেন। তিনি দেখতে পারছেন যে, তার ক্ষমতার দিন শেষ, তার ক্ষমতার তখতে-তাউস টলমল হয়েছে গেছে।
আজকে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন উন্নয়ন করে চিৎকার করে। কিসের উন্নয়ন, কার উন্নয়ন করেছেন? উন্নয়ন করেছেন পি কে হালদারের, উন্নয়ন করেছেন আপনাদের শিক্ষামন্ত্রীর ভাইয়ের, উন্নয়ন করেছেন আপনাদের ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের (সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী) ভাইয়ের এবং উন্নয়ন করেছেন আপনাদের প্রত্যেকের, যারা আজকে ক্ষমতায় আছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। কৃষক-শ্রমিক, যারা দিন আনে দিন খায় তারা আজকে হিমশিম খাচ্ছেন না শুধু, তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আর আপনি (শেখ হাসিনা) স্বেচ্ছায় বন্দী হয়ে আছেন। কারণ আপনি জনগণকে ভয় পান। তাই জনগণের সামনে আপনি আসেন না।
মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় সমাবেশে বিএনপির উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, নাজিম উদ্দিন আলম, কামরুজ্জামান রতন, মীর সরফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণসহ মহানগরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া সমাবেশে শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, ইশরাক হোসেন, সুলতান, সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এস এম জাহাঙ্গীর, হাসান জাফির তুহিন, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধা, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রূপগঞ্জে সম্মেলনে হামলার নিন্দা : গত রোববার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলা, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম ফারুক খোকনের বাসভবনে ভাঙচুর, তার বাবা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাসান আলীর সাথে অশালীন আচরণ, গুলিবর্ষণ এবং নেতাকর্মীদেরকে মারধর করে আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী অবৈধ সরকারের টিকে থাকার একমাত্র উপায় হলো বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের, গ্রেফতার ও দলীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জুলুম-নির্যাতন। রূপগঞ্জে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে হামলা, ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনা বর্তমান সরকারের চলমান হিংসাশ্রয়ী ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।


আরো সংবাদ


premium cement