০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
এসকাপের অধিবেশনে বার্তা

আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবেলায় পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাতের পটভূমিতে আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যে প্রস্তাবগুলো রেখেছি সেগুলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে এসক্যাপ বিবেচনা করতে পারে এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’ গতকাল জাতিসঙ্ঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) ৭৮তম অধিবেশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় এসব প্রস্তাব দেন তিনি। ২৩ থেকে ২৭ মে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন কেন্দ্রে এবং এসক্যাপের ৭৫তম বার্ষিকীতে অনলাইনে এই অধিবেশনটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার পরামর্শের ব্যাখ্যায় আঞ্চলিক সঙ্কট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নত করতে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আরো বাস্তবসম্মত উপায়ে স্নাতক দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার অনুরোধ জানান। প্রস্তাবগুলোতে তিনি জ্ঞান ও উদ্ভাবনের জন্য সহযোগিতার সুবিধার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশে পর্যাপ্ত তহবিল এবং প্রযুক্তি বরাদ্দের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা করারও পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রী আরেকটি প্রস্তাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বৃদ্ধির জন্য আইসিটির প্রসারের কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, অধিবেশনের থিম ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন অগ্রসর করার জন্য একটি সাধারণ এজেন্ডা,’ একটি টেকসই বিশ্বের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব এবং সংহতি জোরদার করতে সঠিকভাবে পদক্ষেপ বেছে নেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে স্নাতক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা এসডিজি-১ ও এসডিজি-২ এর মূল প্রতিপাদ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশ নেতিবাচক বা নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও মহামারী চলাকালীন বাংলাদেশ একটি প্রশংসনীয় প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ইতোমধ্যে প্রায় সব নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়ার আওতায় এনেছে।
ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফের চেয়ার হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ¦ালানি স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’র খসড়া তৈরি করেছে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে সমৃদ্ধির দিকে, স্থিতিস্থাপকতার দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে এবং অন্যান্য পদক্ষেপের জন্য ‘এসক্যাপ’-এর উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের শরণার্থীদের নিরাপদ, টেকসই এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো আগ্রহ এবং সক্রিয় সমর্থন আশা করি।
ক্রিকেটের উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস আইসিসির : আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) চেয়ারম্যান গ্রেগ বারক্লে বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে গতকাল সকালে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বারক্লে এ আশ্বাস দেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আইসিসির সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরো এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী আইসিসি চেয়ারম্যানকে বলেন, তার পুরো পরিবারই ক্রীড়াপ্রেমী। কারণ তার দাদা, বাবা ও ভাইয়েরা খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
আইসিসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী উভয় ক্রিকেট দলের গত সাত বছরে অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। প্রথমবারের মতো আইসিসি নারী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ দল পাকিস্তানকে ৯ রানে পরাজিত করে বিশ্বকাপে জয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইসিসি নারী ক্রিকেটের উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিবে। আইসিসি চেয়ারম্যান ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সাবেক এক পরিচালক দুই দিনের সফরে রোববার ঢাকায় পৌঁছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো: তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ


premium cement