০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
মিয়ানমারের সৈকতে মিলল ১৪ রোহিঙ্গার লাশ

ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছে রোহিঙ্গারা : ইউএনএইচসিআর

-

নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রোহিঙ্গারা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সফররত জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি।
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, আমি বাংলাদেশে এসেছি কেননা এটি ইউএনএইচসিআরের অগ্রাধিকারে থাকা একটি দেশ। রোহিঙ্গা-সঙ্কট একটি অগ্রাধিকার পাওয়া ইস্যু। ধ্বংসযজ্ঞ ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইউক্রেনের দিকে আকৃষ্ট; কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও গুরুতর সঙ্কট চলছে, যা বিশ্ববাসীর মনোযোগ ও সম্পদের জোগানের দাবি রাখে।
ফিলিপো গ্রান্ডি বলেন, আমি কক্সবাজারে শরণার্থীদের জন্য নেয়া বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছি। আমি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিশোরী, ধর্মীয় নেতা, পরিবেশ কর্মী ও বহুদিন ক্যাম্পে বসবাসকারীদের সাথে মতবিনিময় করেছি। অনেকেরই ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। তবে সবার মধ্যেই ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা, বিশেষ করে ধর্মীয় নেতারা নাফ নদীর অপর পাড়ে মিয়ানমারে তাদের নিজ বাসভূমে ফিরে যেতে চায়। তবে ফিরে যাওয়ার জন্য তারা নিরাপত্তা, চলাফেরার স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য সেবা ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা চায়। এই মুহূর্তে তারা রাষ্ট্রহীন।
ইউএনএইচসিআর প্রধান পাঁচ দিনের সফরে গত শনিবার ঢাকা এসেছেন। সফরকালে তিনি কক্সবাজারের পাশাপাশি ভাসানচর পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের চাহিদা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। একই সাথে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনে ইতিবাচক যুক্তরাষ্ট্র : রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিকল্প সমাধান হিসেবে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানায় পশ্চিমা দেশটি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার পর রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয়া ভূমিকা পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থানীয় দেশ। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের প্রস্তাব করেছি। তারা প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য পৃথক ‘নিরাপদ অঞ্চল’ সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছি। আমি বলেছি, আফগানিস্তান থেকে লোক বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র; কিন্তু বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না। অথচ রোহিঙ্গারা দীর্ঘ দিন ধরে মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তারা কর্মঠ লোক। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজ দেশে পুনর্বাসন করতে পারে।
২০১০ সালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সমন্বয়ে নেয়া একটি উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন জায়গায় ৯২৬ জন রোহিঙ্গাকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
মিয়ানমারের সৈকতে মিলল ১৪ রোহিঙ্গার লাশ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক জানায়, মিয়ানমারের একটি সমুদ্র সৈকতে ১৪ জন রোহিঙ্গার লাশ পাওয়া গেছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। স্থানীয় একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট জানান, পশ্চিম মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই রোহিঙ্গারা।
মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত প্যাথেইন জেলার পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুন শোয়ে বলেন, চৌদ্দটি লাশ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নৌকার মালিকসহ ৩৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমার রেসকিউ অর্গানাইজেশন প্যাথেইনের এক সদস্য বলেন, গত রোববার আটজন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়।
অন্য একজন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। নৌকাটি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডাং, মংডু এবং সিত্তওয়ে শহর থেকে লোকদের নিয়ে যাচ্ছিল।
২০১৭ সালে সেনা অভিযানের জেরে মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে যায়। এদের বেশির ভাগই বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। অন্য দিকে প্রতি বছর শত শত রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।


আরো সংবাদ


premium cement