০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

ড্র-তে হতাশ মুমিনুলরা

ম্যাচ ড্র হওয়ার পর মাঠ ছাড়ছেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটাররা : নয়া দিগন্ত -

ড্রতেই শেষ হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। ৬৮ রানে পিছিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে পঞ্চম ও শেষ দিন পর্যন্ত ৯১.১ ওভারে ছয় উইকেটে ২৬০ রান করে সফরকারিরা। তামিম-সাকিবদের ইচ্ছে ছিল দ্বিতীয় সেশনের আগেই লঙ্কানদের আউট করার। কিন্তু শেষ দিকে ডিকবেলা ও চান্দিমালের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে হতাশই হতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত দ্ইু দলই ম্যাচটি ড্র মেনে নেয়। প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা ৩৯৭ ও বাংলাদেশ ৪৬৫ রান করেছিলো। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে ১৩১তম ম্যাচে ১৮তম ড্রর স্বাদ পেল বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটি পঞ্চম ড্র। আগামী ২৩ জুন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
এই ড্রতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ৪ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ। সাত ম্যাচে এক জয়, পাঁচ হার ও এক ড্রতে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ। আর পাঁচ ম্যাচে দু’টি করে জয়-হার ও একটি ড্রতে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে লঙ্কানরা।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন বিকেলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে শ্রীলঙ্কা। দিন শেষে দুই উইকেটে ৩৯ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা। ফলে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ২৯ রানে পিছিয়ে ছিল। অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। আগের দিন ১৮তম ওভারের প্রথম বলে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন লাসিথ এম্বুলদেনিয়া। তাই নতুন ব্যাটার কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে গতকাল সকালে খেলতে নামেন করুনারতেœ। ২২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে তাইজুলকে চার মেরে শ্রীলঙ্কাকে লিড এনে দেন কুশল। এরপর ২৫তম ওভারে প্রথম ইনিংসের সফল বোলার নাইম হাসানকে একটি করে চার-ছক্কা মারেন কুশল।
২৬তম ওভারে ডেলিভারি কুশলের ব্যাটে লেগে উইকেটরক্ষক ও সিøপে থাকা ইয়াসির আলির মাঝ দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করে। ক্যাচের জন্য কেউই চেষ্টা করেননি। নিজের ইনিংসের শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ছিলেন কুশল।
হাফ সেঞ্চুরির দিকেই ছুটছিলেন। তবে কুশলকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তাইজুল। গুড লেংথের বলে পা নিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন কুশল। কিন্তু বল টার্ন করলে, ব্যাট মিস করেন কুশল। তাতে বল গিয়ে কুশলের অফ-স্টাম্প ভেঙে দেয়। ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৩ বলে ৪৮ রান করেন কুশল। অধিনায়কের সাথে ৮৮ বলে ৬৭ রান যোগ করেন তিনি।
এরপর ক্রিজে আসেন প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। প্রথম ১৪ বলে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। নিজের ১৫তম বলে তাইজুলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ম্যাথুজ। তাইজুলের জোড়া আঘাতে প্রথম সেশনে কুশল ও মেন্ডিসকে হারায়। এ সময় লঙ্কানদের রান ছিল, চার উইকেটে ১২৮।
বিরতির পর ফিরে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩২ বলে ২৮তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন করুনারতেœ। তবে হাফ সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। ইনিংসের ৪৮তম ও তাইজুলের ১৭তম ওভারের প্রথম বলে উইকেট ছেড়ে মারতে গিয়ে ব্যাট-বলের সংযোগটা যুৎসই হয়নি করুনারতেœর। মিড-উইকেটে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। দু’টি চারে ১৩৮ বলে ৫২ রান করেন লঙ্কান অধিনায়ক।
করুনারতেœকে শিকার করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন তাইজুল। তবে পরের ওভারেই পাঁচ উইকেট পূর্ণ করতে পারতেন তাইজুল। ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিটি লেগ সাইডে খেলেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। বল কিছুটা শূন্যে মিড উইকেটের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে ছিলেন মুশফিক। কিন্তু বল মাটিতে পড়ার আগে হাতে নিতে ব্যর্থ হন। তখন ২২ রানে ছিলেন ধনাঞ্জয়া। শেষ পর্যন্ত সেই মুশফিকের হাতেই শেষ হয় ধনাঞ্জয়ার ইনিংস। সাকিব আল হাসানের ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল শট ডেলিভারি। সেটি পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে মুশফিককে ক্যাচ দেন ধনাঞ্জয়া। ৬০ বলে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ৩৩ রান করেন। ধনাঞ্জয়া যখন ফিরেন তখন দলীয় রান ছয় উইকেটে ১৬১।
ক্রিজে নতুন ব্যাটার নিরোশান ডিকবেলাকে প্রথম বলেই ফেরাতে পারতেন সাকিব। তার ডেলিভারিটি লেগ সাইডে সুইপ করেন ডিকবেলা। স্কয়ার লেগ দিয়ে বল যাওয়ার সময়, সেটি থামানোর চেষ্টা করেছিলেন তাইজুল। কিন্তু তার আঙুলে লেগে বল চলে যায় বাউন্ডারিতে। জীবন পেয়ে চান্ডিমালকে নিয়ে প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলেন ডিকবেলা। বাংলাদেশ বোলারদের সামনে দারুণ লড়াই করতে থাকেন। ফলে ৭০ ওভারে ২০০ রানে পৌঁছে শ্রীলঙ্কা। এ সময় লিডও হয়ে যায় ১৩২ রান।
৮৪তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ডিকবেলা। ৯০তম ওভার পর্যন্ত চান্ডিমাল ও ডিকবেলার জুটি ভাঙতে না পারার কারণে, ৯১তম ওভারের প্রথম বলের পর ম্যাচটি ড্র মেনে নেয় দু’দল। সে সময় শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ছয় উইকেটে ২৬০ রান। ডিকবেলা ৬১ ও চান্ডিমাল ৩৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। বাংলাদেশের তাইজুল ৮২ রানে চারটি ও সাকিব ৫৮ রানে এক উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ১৯৯ রান করায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (টস-শ্রীলঙ্কা)
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস : ১৫৩ ওভারে ৩৯৭ (কুশল ৫৪, ম্যাথুজ ১৯৯, চান্দিমাল ৬৬, নাঈম ৬/১০৫, তাইজুল ১/১০৭, সাকিব ৩/৬০)।
শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস : ৯০.১ ওভারে ২৬০/৬ (ওশাদা ১৯, এম্বুলদেনিয়া ২, করুনারতেœ ৫২, কুশল মেন্ডিস ৪৮, ম্যাথুজ ০, ধনঞ্জয়া ৩৩, চান্দিমাল ৩৯*, ডিকবেলা ৬১*, নাঈম ০/৭৯, খালেদ ০/৩৭, সাকিব ১/৫৮, তাইজুল ৪/৮২)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৭০.১ ওভারে ৪৬৫ (জয় ৫৮, তামিম ১৩৩, মুশফিক ১০৫, লিটন দাস ৮৮, সাকিব ২৬, তাইজুল ২০, আসিথা ৩/৭২, এম্বুলদেনিয়া ১/১০৪, ধনঞ্জয়া ১/৪৮, রাজিথা ৪/৬০)।
ম্যাচ সেরা : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (শ্রীলঙ্কা)।


আরো সংবাদ


premium cement