০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ৭ জিলহজ ১৪৪৩
`
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ড. দেবপ্রিয়

অর্থনীতিতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের টানাপড়েন

পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে
-

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। বিদায়ী বছরে আমাদের আর্থিক আয়-ব্যয়ের যে হিসাব রয়েছে, তা সব সময়ই দুর্বল ছিল। দুর্বলতার লক্ষণ হচ্ছে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। একই সাথে উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় অনেক বেশি। দেশে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা হলো- একদিকে অর্থের অভাব, অন্যদিকে সম্পদ থাকলেও তা যথোপযুক্তভাবে খরচ করতে না পারা। এই যখন পরিস্থিতি তখন আগামী বাজেটে দেশের সাত লাখ বেকার যুবককে মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেয়া উচিত।
গতকাল সোমবার বেসরকারি সংগঠন ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আয়োজিত ‘বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট ও অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংগঠনের আহ্বায়ক ও ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় সিপিডির বিশেষ ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক উপস্থিত ছিলেন।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকেই কমার ধারা শুরু হয়েছে। আমাদের বর্তমানে যে মজুদ আছে, তা দিয়ে ৪ থেকে ৫ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে না। বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্য যদি আরো বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদের রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের টান পড়বে। অন্যদিকে বাজার স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ছাড়ার সক্ষমতা থাকছে না। এর ফলে টাকার মান পতনের ধারা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে টাকা ও ডলারের বিনিময় হারে বড় ধরনের পার্থক্য হয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মুদ্রাস্ফীতির যে তথ্য দিচ্ছে তা বাস্তবসম্মত নয়, এমনকি বিজ্ঞানসম্মতও নয়। বিবিএসের হিসাব মতে, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৬.২২ শতাংশ। এর সাথে বাস্তবতার আদৌ মিল নেই। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ১২ শতাংশ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আগামী দিনে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ববাজারে যে পণ্যের দাম বেড়েছে, সেই পণ্য এখনো দেশের বাজারে আসেনি। সেগুলো যখন আসবে, তখন নিত্যপণ্যের দাম আরেক দফা বাড়বে। সাম্প্রতিককালে সরকার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়াতে চাচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো অনুচিত।
দেশের বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি। যেমন- ভোজ্যতেল ও পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশের ওপরে। আটা-ময়দার মতো পণ্যের দামও ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি। কিন্তু মাঝারি বা সুগন্ধি চালের দাম অনেক বেড়েছে। সার্বিকভাবে তেল, ডাল, ডিম, মুরগি ও মাছসহ ইত্যাদি পণ্যের দাম বাড়ার যে হার দিচ্ছে টিসিবি, তা বিবিএসের দেয়া তালিকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথেও মিলে না।
সুদের হার, বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, অন্যদিকে টাকার মূল্যমান কমে যাচ্ছে। এখন টাকার আমানতে গড় সুদের হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ৬.২২ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রতি বছর প্রকৃত মূল্য ২ শতাংশ করে কমে যাবে। এটা বড় ধরনের সঞ্চয়বিরোধী। আগামীতে টাকার মান অবশ্যই নি¤œমুখী হবে। অন্যদিকে যে প্রত্যাশায় সুদের হার কম রাখা হচ্ছে, সেই বিনিয়োগ কত কয়েক বছরের বেড়েছে এমন কোনো তথ্য নেই। সুদের হার কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে এমন সূত্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।
তিনি বলেন, অবশ্যই সুদহার বাড়াতে হবে। সামষ্টিক অর্থনীতিকে ধরে রাখতে হলে, মূল্যস্ফীতিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে গরিব, নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ তাদের আয় পণ্যমূল্যের সাথে সাথে বাড়ে না।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় এডিপি বাস্তবায়নের হার কম উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, যেখানে সার্বিক এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৪১ শতাংশ, সেখানে ওই তিন খাতে বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫ শতাংশের নিচে। এই কমের হার গত বছরের ৩৭ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। মানে আরো কমেছে।
গরিব, নি¤œ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে এসব কারণে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা করা উচিত। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান দামের সাথে মোকাবেলা করতে সর্বনি¤œ এক হাজার টাকায় সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নির্ধারণ করা এবং দেশের বেকার যুবকদের অন্তত ১০ শতাংশকে (প্রায় ৬ লাখ ৬৯ হাজার) সরকারের নিরাপত্তা বেষ্টনী উদ্যোগের আওতায় আনা। এজন্য সরকারকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৩৪ শতাংশ) বরাদ্দ করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রান্তিক ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখতে হবে। সুরক্ষাভাতা বাড়াতে হবে। আগামী দিনে ভর্তুকি ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রণোদনা অব্যাহত রাখা কঠিন বিষয় হয়ে যাবে। ভর্তুকির টাকা যেন মেগা প্রকল্পের খাতে ব্যয় না হয়, সেটি লক্ষ রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো মহামারীর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি। এর ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আগামী ২০২৩-২৪ সালে পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তুলবে বলে শঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি।


আরো সংবাদ


premium cement
পদ্মা সেতুর নাট খোলা বায়েজিদের জামিন নামঞ্জুর ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা চিকিৎসার জন্য আবার ব্যাংককে রওশন এরশাদ সিলেটে আবারো বাড়ছে পানি, অবনতি বন্যা পরিস্থিতির লঞ্চে মোটরসাইকেল ১০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ ব্রিটেনে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে বিদ্রোহ, কতক্ষণ টিকে থাকতে পারবেন বরিস জনসন ঢাবি অধ্যাপক ড. মোর্শেদের রিট খারিজ করায় উদ্বেগ আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল শিক্ষকদের ওপর হামলা মানে শিক্ষার ওপর হামলা : ইউনিসেফ মানিকনগরে উঠতি মাস্তানদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রেকর্ড রাজস্ব আদায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূরিভোজ করালেন মেয়র

সকল