১৭ মে ২০২২, ০৩ জৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩
`

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তৈরি করবে দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা

সিপিডির জরিপ প্রতিবেদন
-

দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে দুর্নীতি ও অদক্ষ প্রশাসনকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এর বাইরে অর্থায়নে সীমাবদ্ধতা, ট্যাক্স রেট সমস্যা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে না পারা, স্বাস্থ্যসম্মত কর্ম পরিবেশ ও কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারাও ব্যবসার সমস্যা। তবে ব্যবসার ১৬টি সমস্যার মধ্যে দুর্নীতিকেই এক নম্বরে রেখেছেন বলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) ‘বাংলাদেশে ব্যবসা পরিবেশ ২০২১ উদ্যোক্তা জরিপ ফলাফল’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সিপিডির আশঙ্কা, মানবাধিকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, এ নিয়ে যদি জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদে আশঙ্কা তৈরি হবে।
রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ সিপিডি কার্যালয়ে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জরিপের ফল প্রকাশ করে সিপিডি। জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। জরিপ বলছে, ব্যবসায় পরিবেশ জরিপের সময়কাল ছিল গত বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই। দেশের ৭৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। যাদের মূলধন ছিল ১০ কোটি টাকার বেশি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ফরিদপুর এলাকায় অবস্থিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০টি সূচকের উপর ভিত্তি করে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। কৃষি, সেবা ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যবসায়ীদের ওপর জরিপটি করা হয়।
সিপিডি বলছে, ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, তাদের ব্যবসায় প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো দুর্নীতি। লাইসেন্স নিতে গিয়ে, কর দিতে গিয়ে এবং বিভিন্ন পরিষেবার জন্য গেলে সেখানে আর্থিক লেনদেন (ঘুষ) করতে হয়। ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসার পথে বাধা হিসেবে দুর্বল ও অদক্ষ আমলাতন্ত্রকে দায়ী করেছেন। টাকা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকার কথা বলেছেন ৫৫ শতাংশ ব্যবসায়ী। এর পরে আছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, ঘনঘন নীতি পরিবর্তন। দুর্নীতি বাধা ৫২ শতাংশ বড় ব্যবসায়ীর জন্য। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের শত ভাগকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যবসার ব্যয় সবার কাছে সমান নয়। ৬৩ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন করোনাকালে প্রণোদনা প্যাকেজ বণ্টন দুর্বল ছিল, আর ৪২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন দেশের অর্থনীতি চাপে রয়েছে।
সিপিডি বলছে, করোনার পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে এটা ঠিক, কিন্তু সে পুনরুদ্ধার অন্তর্ভুক্তিমূলক না, একধরনের বৈষম্যমূলক। এ বিষয়টি সরকারের নীতিকাঠামোতে চিন্তা করতে হবে। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দুর্নীতি, অদক্ষ প্রশাসন ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় ব্যবসায়ীদের খুব একটা সমস্যা করছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিকে যারা ব্যবসা করছেন তারা। গত ২০২০ সালেও সিপিডি ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে একটি জরিপ করেছিল। সে সময় ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে উঠে এসেছিল অদক্ষ প্রশাসন। ওই সময় ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিকে দ্বিতীয় এবং সীমিত অর্থের সুযোগকে তৃতীয় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বলেছিল। এবারের জরিপে দুর্নীতি এক নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দুর্নীতি, অদক্ষ প্রশাসন ও সীমিত অর্থের সুযোগÑ এই চ্যালেঞ্জ ব্যবসায়ীদের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এ কারণে ব্যবসার খরচ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর। ২৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন, করোনার প্রভাবে তাদের খরচ কমাতে হচ্ছে। আর খরচ কমাতে গিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে।
৬৭ শতাংশ বলেছেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা আরো বিকশিত করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ খাতকে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। তৃতীয় অবস্থানে আছে ডেটা ম্যানেজমেন্ট। করোনা মহামারীর কারণে তাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারে আরো তিন বছর সময় লাগবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীরা এখনই ফিরে এসেছেন, এটা বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তারা যে ঋণ পেয়েছেন তা গড়ে পুরুষ উদ্যোক্তাদের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। ফলে এখানে একটা সন্দেহ থাকে যে, তারা প্রকৃত উদ্যোক্তা কি না।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বিশ্বজুড়ে ভূ-অর্থনীতি, পরিবেশ, রাজনৈতিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসছে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে, প্রযুক্তিগত দুর্বলতাও বিদ্যমান।


আরো সংবাদ


premium cement