০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে তৎপর হচ্ছে সরকার

-

যেসব প্লাস্টিক পণ্য একবার ব্যবহারের পর আর কোনো কাজে লাগে না, সেগুলোই পরিচিত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক হিসেবে। এসব প্লাস্টিকের মাধ্যমে মানবদেহে ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এগুলো ব্যবহার বন্ধে তৎপর হচ্ছে সরকার। এ জন্য প্রণীত তিন বছরমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোস্তফা কামাল ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট রাফেউজ্জামান বলেন, সরকার কর্তৃক প্রণীত অ্যাকশন প্লানের বাস্তবায়নকে স্বাগত জানাই। প্রাকৃতিক ভারসাম্যপূর্ণ জলাভূমি নিশ্চিতকল্পে এর কোনো বিকল্প নেই। শুধু সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নয় বরং প্লাস্টিক লেমিনেটেড ডিজিটাল ব্যানার বা প্যানাফ্লেক্সও এর আওতাভুক্ত করার বিষয়ে মত দেন তিনি। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিকল্প ব্যবহারকে উৎসাহিত করার অনুরোধ জানান রাফেউজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইমাম ও শিক্ষকগণের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করা যেতে পারে। যাত্রীবাহী লঞ্চ ও জাহাজ মালিকদের শাস্তির আওতায় আনা এবং সিসিটিভির মাধ্যমে জাহাজ মনিটরিং করার প্রস্তাব করে তিনি বলেন, এটি করা হলে কেউ বর্জ্য নদী বা সাগরে ফেলতে পারবে না।
বিপিজিএমএর প্রেসিডেন্ট শামিম আহমেদ বলেন, সরকার জাতিসঙ্ঘের রেজুলেশনে অনুস্বাক্ষর করে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে তিনি জানান, প্লাস্টিক ব্যবহারে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর ও জাপানের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তাই আমাদের ব্যবস্থাপনায় মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। যেকোনো আইটেম নিষিদ্ধ করার আগে এর প্রভাব নির্ণয় করা দরকার। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো আইটেম বন্ধ করা হলে বিনিয়োগকারীদের প্রতি ভালো সঙ্কেত বহন করবে না। প্রাথমিকভাবে তিনি স্ট্র, স্ট্রিরার বন্ধ করার বিষয়ে মত দেন।
পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, শুধু এনফোর্সমেন্টের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে সবার মনোযোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পিছিয়ে থাকার কোনো অবকাশ নেই। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ এ বিষয়ে উপকূলীয় এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক রাজিনারা বেগম বলেন, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধের লক্ষ্যে প্রণীত তিন বছরমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কোস্টাল এরিয়ায় কয়েকটি আইটেম বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে। সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক দ্বারা সামগ্রী প্রস্তুত করছে। কিন্তু বিএসটিআইর অনুমোদনের অভাবে দেশীয় বাজারে বাজারজাত করতে পারছে না। এ বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিনিধির সহযোগিতা কামনা করেন। প্রজ্ঞাপনভুক্ত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বন্ধে ইতোমধ্যে ফ্রান্সসহ বেশ কিছু উন্নত দেশ যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা তিনি সভাকে অবহিত করেন। তিনি যাত্রীবাহী লঞ্চ ও জাহাজের মাধ্যমে দূষণ রোধের লক্ষ্যে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক জানান, তারা ইতোমধ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে লঞ্চ হতে সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা এবং প্লাস্টিক ও পলিথিন সংগ্রহ করে অপসারণ করছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি বলেন, তারা কর্ণফুলী নদী খনন করতে গিয়ে দেখেন, নদীর তলদেশে ৮০% কঠিন বর্জ্য এবং কঠিন বর্জ্যরে ৬০% প্লাস্টিক ও পলিথিন পণ্য।
এফবিসিসিআইর প্রতিনিধি জানান, মহামান্য হাইকোর্টে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও পলিথিন বিষয়ে দায়েরকৃত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে যে রুল জারি করেছেন তারা একটি পক্ষ হয়ে এর বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবেন এবং তিনি এ বিষয়ে সবার সহায়তা কামনা করেন।
উপস্থিত বিএসটিআইর প্রতিনিধি জানান, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক বাজারজাতকরণের অনুমোদনের জন্য তাদের কাছে যে আবেদন দাখিল করা হয়েছে তিনি সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে সাতটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলোÑ সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের মাধ্যমে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এর ম্যানেজমেন্টের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এর ব্যবহার বন্ধে সব মন্ত্রণালয়, দফতর, সংস্থায় এপিএতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে শিল্পী বা খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ করতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণপূর্বক তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অংশীজনদের সমন্বয়ে এর ব্যবহার বন্ধে বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে অন্তত একটি পরিবেশ সচেতনতামূলক ক্লাস অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় হতে ডিও লেটার প্রদান করা হবে। অংশীজনদের সমন্বয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম আয়োজন করতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement