২১ মে ২০২২
`

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ-খোলা নিয়ে এখনো বিভ্রান্তি

স্কুল খোলা থাকলেও শ্রেণীর পাঠ বন্ধ; বন্ধের মধ্যেও পরীক্ষা নেবে কলেজ ; ডিগ্রির ব্যবহারিক পরীক্ষাও চলবে; এখনো খোলা কিন্ডারগার্টেন স্কুল
-

করোনার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আর খোলা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বা বন্ধ নিয়ে খোদ কর্তৃপক্ষের কয়েকটি সিদ্ধান্তেই এমন বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে স্কুল বন্ধ তবে অফিস খোলা থাকবে। আবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেখানে অফিস ও অন্যান্য কার্যক্রম চলমান রাখতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্য দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের চলমান সব পরীক্ষা বন্ধ না করে সেগুলো চালু রাখারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ, মাস্টার্স প্রথম পর্ব ও বিভিন্ন বর্ষের চলমান ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলোও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর সরকারের ঘোষণাকে পাশ কাটিয়ে অনেকটা গোপনেই যথারীতি ক্লাস পরীক্ষা চলছে অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আর খোলার এক কানামাছির খেলা চলছে। আর এসব কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। তবে এ সময়ে অনলাইনে বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ক্লাস চলবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) শাহেদুল খবির চৌধুরীর স্বাক্ষর করা স্কুলগুলোর জন্য ১১ দফা নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, অধিদফতরের অধীন সব দফতর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাস্তবতার ভিত্তিতে অনলাইন বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে শিখন-শেখানা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমও চলমান থাকবে। একইসাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগারসহ প্রতিষ্ঠানের সব বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট পানি এবং গ্যাস সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাসে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছে তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাসগুলো খোলা থাকবে। তবে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অধিদফতরের অধীন সব দফতর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীর অবশ্যই টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে অনেকটা সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অধিভুক্ত সাত কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় পরেও চলমান বিধিনিষেধ ও শিক্ষপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো প্রভাব পরবে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের চলমান পরীক্ষায়। সেশনজট ও চাপ কমাতে বন্ধের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ক ও ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাত কলেজ কর্তৃপক্ষের অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, চলমান ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ, মাস্টার্স প্রথম পর্ব ও বিভিন্ন বর্ষের চলমান ব্যবহারিক পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। পরিস্থিতি খারাপ না হলে অনার্স চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের চুড়ান্ত পরীক্ষাও পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। করোনরা কারণে এসব পরীক্ষা আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। এ ছাড়াও খুব দ্রুতই স্থগিত ডিগ্রি পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানা গেছে।

করোনার প্রভাবে যেখানে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে এর মধেই অনেকটা গোপনে ক্লাস পরীক্ষা চালু রেখেছে বেশির ভাগ কিন্ডারগার্টেন। সেখানে এখনো নিয়মিত ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস চলমান রয়েছে। তবে মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কিছু কিন্ডারগার্টেন ভর্তি কার্যক্রম চালু রাখলেও প্রায় সবাই ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখেছেন।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী নয়া দিগন্তকে জানান, আমরা স্কুল-কলেজ বন্ধের সরকারের এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। কেননা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো সংক্রমণ এখনো হয়নি। তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্বে থাকতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এখতিয়ার রাখে কি না সেটাও আমাদেকে ভাবতে হবে।


আরো সংবাদ


premium cement