২১ মে ২০২২
`

ওমিক্রন রাজধানীতে স্থিতিশীল বাড়ছে অন্যান্য অংশে

নতুন শনাক্ত ১০৯০৬ জন মৃত্যু ১৪
-

ওমিক্রন ঢাকায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজারা ৯০৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। সারা দেশে এ সময়ের মধ্যে ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নুমনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার সাপেক্ষে দেশে করোনা শনাক্ত ছিল ৩১.২৯ শতাংশ। রাজধানী ঢাকায় ২১ হাজার ৫২৬টি নমুনা পরীক্ষা করে গতকাল একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৫৮১ জনের মধ্যে। সারা দেশের তুলনায় রাজধানীতে করোনা শনাক্তের পরিমাণ ৬০.৩৪ শতাংশ।
করোনার এই ভ্যারিয়েন্টটি খুবই সংক্রামক বলে দেশের অন্যান্য অংশেও চলে যাচ্ছে। ভাইরাসটিকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়নি। রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে গতকাল একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৯২ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে এক হাজার ৫৪৬ জন শনাক্ত হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছিল মাত্র ১৭৪ জন। রাজশাহী বিভাগে গতকাল একই সময়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫২৫ জন কিন্তু ১০ জানুয়ারি রাজশাহী বিভাগে করোনা শনাক্তের পরিমাণ ছিল ৩১ জন। অন্যান্য বিভাগে ১০ জানুয়ারি করোনা শনাক্ত রাজশাহী বিভাগের মতোই ছিল কিন্তু তা ৪০ এর কোঠা অতিক্রম করেনি।
এ দিকে গত দু’দিন করোনা শনাক্ত কিছু কমতির দিকে থাকলেও আজ সোমবার থেকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ছুটির দিনের পরদিন শনিবার সব সময় করোনা শনাক্ত কম হয়ে থাকে। অপর দিকে রোববার শনাক্তের পরিমাণ শনিবারের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও সোমবার থেকে দেশের প্রকৃত চিত্র কিছুটা পাওয়া যায়। সে কারণ আজ সোমবার করোনা শনাক্ত অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ে গতকাল রোববার অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা: নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনো করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য বেশি, তবে একটু একটু করে সে জায়গাটা ওমিক্রন দখল করে নিচ্ছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এসব তথ্য জানান তিনি।
করোনা সংক্রমণ সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. খোন্দকার মেহেদী আকরামনয়া দিগন্তকে জানান, ‘পুরো পৃথিবী করোনাভাইরাসে বর্তমানে কানায় কানায় পূর্ণ। আমরা ভেসে আছি ভাইরাসের মহাসমুদ্রে। সাঁতরে পালাতে গিয়ে তীরে ওঠার কোনো উপায়ও নেই। তবে ওই ভাইরাসের মহাসমুদ্রে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় সাঁতার শেখা, লাইফ জ্যাকেট পরে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা। আশা করা হচ্ছে, সময়ের আবর্তনে এই মহাসমুদ্র একদিন ছোট হ্রদে পরিণত হবে। কূলহীন সমুদ্রে আবার জেগে উঠবে তীর।’
এ প্রসঙ্গে ড. মেহেদী আকরাম বাংলাদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত কৌশলের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ রোধে প্রথম ঢেউয়ে যে নিয়ন্ত্রণ কৌশল নেয়া হয়েছিল, সেই একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে। গত দুই বছরে করোনাভাইরাসের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। অপর দিকে মানুষের শরীরেও প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় ভাইরাসটির ভয়াবহতা অথবা অনিশ্চয়তা যেমন ছিল এখনো তেমনি রয়েছে। কিন্তু মহামারী দমনে বাংলাদেশে যেভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অন্য সব কিছু খুলে দিয়ে তা কতটুকু যৌক্তিক তা ভাবার বিষয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কৌশল হতে হবে সর্বশেষ কৌশল।’ এ দিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্রিফিংয়ে অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা: নাজমুল ইসলাম বলেছেন, দেশে এখনো করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রাধান্য বেশি, তবে একটু একটু করে সে জায়গাটা ওমিক্রন দখল করে নিচ্ছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। ওমিক্রনের উপসর্গের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওমিক্রনে সংক্রমিতদের ৭৩ শতাংশ সর্দিতে আক্রান্ত, মাথাব্যথা করছে ৬৮ শতাংশের, অবসন্নতা বা ক্লান্তি অনুভব করছেন ৬৪ শতাংশ, হাঁচি দিচ্ছেন ৬০ শতাংশ, গলাব্যথা ৬০ শতাংশ এবং কাশি দিচ্ছেন ৪৪ শতাংশ রোগী। এই বিষয়গুলো সবার মাথায় রাখতে হবে। এর সাথে মৌসুমি জ্বরেরও মিল রয়েছে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রোগীর সংখ্যা যদি প্রতিদিন বাড়তে থাকে আর স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে নিজের মতো করে চলতে থাকলে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়বে এবং সেটা সামগ্রিকভাবে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে।’
রাজশাহী বিভাগে ৫২৫ জনের করোনা শনাক্ত
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে ৫২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ জনের। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। তবে টানা চার দিন রাজশাহী বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি। গতকাল রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) নাজমা আক্তার স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। এ দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষা আগের দিনের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় বিভাগে করোনা শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন সংক্রমিত ৫২৫ জনের মধ্যে রাজশাহীর বাসিন্দা রয়েছেন সর্বোচ্চ ১৪৯ জন। এ ছাড়া বগুড়ায় ১৪১, পাবনায় ৫৫, নওগাঁয় ৪৯, নাটোরে ৩৯, সিরাজগঞ্জে ৩৭, জয়পুরহাটে ৩৭ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
সিলেট বিভাগে শনাক্তের হার ৩৬ ছাড়াল
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৪৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে ৫২৯ জনের। শনাক্তের হার ৩৬ দশমিক ১৩। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বিভাগে শনাক্তের হার বেড়েছে ১২ দশমিক ১৫। এর আগে শনিবার সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৯৮। রোববার দুপুর ২টার দিকে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাসংক্রান্ত দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম থেকে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে। রোববার শনাক্তের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৫৯ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪২, সুনামগঞ্জের তিন, হবিগঞ্জে দুই এবং মৌলভীবাজারে ১২ জন। বিভাগে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৯৯৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৫০ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৪ জন। বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ১৯১ জন।


আরো সংবাদ


premium cement