০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি

বাজার দর
-

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া আলু গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা কেজিতে। প্রতি কেজি আলুতে দাম কমেছে ১০ টাকা। একইভাবে দেশী পেঁয়াজেও কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ৪০ টাকা বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীত আসার আগে সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। আগের চেয়ে দাম এখন কিছুটা কমেছে। তবে অন্যান্য বছরের মতো খুব বেশি কমেনি। এর কারণ বাড়তি পরিবহন ভাড়া বেশি, বাজারে বিভিন্ন রকমের চাঁদাবাজি। আমরা সবজি কিনতে গেলে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতার হাত পর্যন্ত এসব সবজি পৌঁছানো পর্যন্ত একটু বেশি দাম পড়ে যাচ্ছে।
বাসাবো বাজারে আসা ক্রেতা ফরিদুল বলেন, অন্যান্য বার শীতে সবজির দাম অনেক কম থাকত। এবার শীতে সবজির দাম সেভাবে কমেনি। সব সবজিই বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আগে বাজারে এলে সেসব সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন দাম শুনে আধা কেজি করে কিনি।
বাজারে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন (গোল) ৮০ টাকা, বেগুন (লম্বা) ৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া পিস ৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা ও পেঁপের কেজি ৪০ টাকা।
বাজারে ভোজ্যতেল ও ডালের দাম বেড়েছে। ইন্ডিয়ান ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে। গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। দেশী ডালের দামও ৫ টাকা বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা। এ ছাড়া বাজারে ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকায়। গত সপ্তাহে লিটার বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকায়।
বাজারে দাম কমেছে চায়না রসুনের। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। দেশী রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। দেশী আদার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। গত সপ্তাহে দেশী আদা বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। চায়না আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। গত সপ্তাহে চায়না আদা বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকা।
বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। আটা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়।
বাজারে কমেছে মুরগির দাম। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। ১০ টাকা দাম কমে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ২৬০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা।
এ দিকে মুরগির দাম বাড়লেও কমেছে ডিমের দাম। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা। সোনালি (কক) মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাছ ও গোশতের দাম। গরুর গোশত এখনো ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির গোশত ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কাতল মাছও। এ ছাড়া শিং ও টাকি মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্য দিকে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে।


আরো সংবাদ


premium cement