১৬ মে ২০২২
`

নাসিকে আইভীর জয়

ইভিএমের কারণে চরম ভোগান্তি
-

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে চূড়ান্তভাবে ঘোষিত ফলাফলে ১৯২ কেন্দ্রে আইভী পেয়েছেন এক লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাতি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট। ৬৭ হাজার ভোট বেশি পেয়ে আইভী বিজয়ী হন। এর আগে রাত ৮টার দিকে রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তার বেসরকারি ফলাফলে আইভীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ নিয়ে হ্যাটট্রিক জয় পেলেন আইভী।
আইভী ও তৈমূর আলম ছাড়া মেয়র পদে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেয়ালঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো: জসিম উদ্দিন (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল ইসলাম (ঘোড়া)। এ ছাড়া কাউন্সিলর পদে সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নাসিকের ২৭ ওয়ার্ডের ১৯২টি ভোটকেন্দ্রে এক হাজার ৩৩৩ ভোটকক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে মোট পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন ভোটার ছিলেন।
এ দিকে নির্বাচনকালে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ভোট দিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েন ভোটাররা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানুষ। অনেক কেন্দ্রে নষ্ট হয়ে যায় ইভিএম মেশিন। ভোটগ্রহণের ধীরগতিতে ভোটারদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ছাড়া বহু কেন্দ্রে আইডি কার্ড নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের আঙুলের ছাপ মেলাতে সমস্যা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক কেন্দ্রে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ছয়জনকে। নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তৈমূর আলম খন্দকারের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না, তবে ইভিএম নিয়ে দুইজনই একই রকম অভিযোগ করেছেন। গতকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এবার পুরো সিটির নির্বাচনই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হয়েছে।
ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতার পর দুই-দুবার (১৯৭৪ সালের ৪ মার্চ হতে ১৯৭৭ সালের ৯ মার্চ এবং ১৯৭৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর হতে ১৯৮৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আলী আহাম্মদ চুনকার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড় হলেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী।
বিগত দুই সিটি নির্বাচন ২০১১ ও ২০১৬ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক ও ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন আইভী। গত দুই মেয়াদে কেবল নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যই নয়, তিনি এই শহরে জনপ্রিয় আরো কয়েকটি কারণে। শহরের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা হলে তারা জানান, শুধু নারায়ণগঞ্জে নয় সারা দেশেই আইভী প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন, মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাসহ বিভিন্ন গুম-খুনের ঘটনায় সোচ্চার ছিলেন আইভী। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের পাশাপাশি আইভীকে সৎ হিসেবেও চিহ্নিত করেন শহরের মানুষ।
তৈমূরের সাথে দেখা করতে যাবেন আইভী : বিজয়ী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমার শক্তি জনগণ। জনগণ আমাকে মূল্যায়ণ করেছে। তিনি বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। তারা আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাসভবনে ফলাফল পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি ছিলেন তিনি আমার কাকা হন। আমি জয়ী হয়েছি তাতে কি, আমি মিষ্টি নিয়ে তার সাথে দেখা করতে যাবো।
আইভী বলেন, আমি মানুষকে কখনো মিথ্যা বলিনি, মিথ্যা আশ্বাস দিইনি। তিনি বলেন, যেসব কাজ হাতে নিয়েছিলাম সেগুলো শেষ করব। ভালো লাগছে হ্যাটট্রিক বিজয়ী হয়ে। কৃতজ্ঞতাটাই আসছে মনের ভেতর থেকে। ইভিএমে প্রথম ভোটে কাস্টিং কম হয়েছে। তবু আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সবাইকে নিয়ে নগর গড়তে চাই।
দেওভোগের চুনকা কুটিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন নবনির্বাচিত মেয়র আইভী। তিনি বলেন, আমার কাকা (তৈমূর) আগেও আমাকে অনেক কথা বলেছে, সহযোগিতা করেছেন। উনিও নারায়ণগঞ্জের মানুষ। উনি আমাকে অবশ্যই সহযোগিতা করবেন। কাকাও বলেছে জয়-পরাজয় যা হয় হবে। আমি উনাকে সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। উনি নারায়ণগঞ্জের কল্যাণের কথা বলেছে, আমিও বলেছি। তার পরিকল্পনার সাথে অনেক কিছুই আমার মিল রয়েছে।
নগর গড়তে শামীম ওসমানকে সাথে রাখবেন কি না এমন প্রশ্নে আইভী বলেন, যে কেউ আমার সাথে উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। সবার কথাই আমি গ্রহণ করব। প্রত্যাশা অনেক বেশি। মানুষ যেই প্রত্যাশা রাখে সেগুলো পূরণ করব। আর চ্যালেঞ্জ থাকবেই, আগেও মোকাবেলা করেছি আগামীতেও করব।
ইভিএম স্লো হওয়ার অভিযোগ আইভীর : এ দিকে বেলা ১১টার দিকে নগরীর শিশুবাগ বিদ্যালয়ের নারী কেন্দ্রে ভোট দেয়া শেষে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ নির্ধারণ করে ফেলেছেন আমাকেই ভোট দেবেন। ইনশাআল্লাহ নৌকার জয় হবেই হবে, আইভীর জয় হবেই হবে।’ ইভিএমে ধীরগতি হওয়ায় অনেকে ভোট দিতে পারছেন না জানিয়ে বিকেলে আইভী বলেন, ভোটের সময় শেষ হওয়ার পরও অনেকেই লাইন ধরে আছেন। যেহেতু ইভিএম পদ্ধতিটা একটু নতুন। মেশিন অনেক স্লো, সে কারণেই হয়তো অনেকে ভোট দিতে পারছে না। আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, একটি ভোটার থাকতেও তারা ভোটগ্রহণ করবে। সুতরাং কেন্দ্রের ভেতরে যারা আছে তাদের সবার ভোটই নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, দুঃখের বিষয় যেখানে নারী ভোটার সেই জায়গাতেই ইভিএম বেশি স্লো ছিল।
এটা আমাদের নয়, সরকারের পরাজয় : প্রতিক্রিয়ায় তৈমূর
এটা আমাদের নয়, সরকারের পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসায় আমরা জয়ী, তাদের প্রতি, মিডিয়ার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। বেসরকারি ফলাফলে পরাজয় হওয়ার খবরে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তৈমূর বলেন, ‘আপনারা দেখবেন আমি ঘটনাগুলো আপনাদের জানিয়েছি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আমার সমন্বয়ককে কাগজসহ গ্রেফতার করা হয়। তার মাধ্যমেই শুরু হয় এবং আমার লোকজন প্রতিদিনই গ্রেফতার হতে থাকে। এ ছাড়া হেফাজতের মামলা দেয়া হয়েছে সকলকে। এদের মধ্যে হিন্দু লোকও আছে। এখন দেখা যায় মুসলমান তো করেই হিন্দুরাও হেফাজত করে। আজ সকাল থেকে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন্দরের সমন্বয়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় একটা মানুষ স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে কিভাবে ঠিক থাকতে পারে। তার পরেও জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি বলেন, ঢাকার মেহমানদের অতিরঞ্জিত কথার পর গ্রেফতার শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানককে যখন জিজ্ঞেস করা হয় তখন তিনি বলেছিলেন ১২ ও ১৩ নং ওয়ার্ড তাদের জন্য ঝুকিপূর্ণ। ১৩ নং ওয়ার্ডে আমি থাকি, আমার ভাই তিনবারের কাউন্সিলর। আর ১২ নং ওয়ার্ড সরকারি এমপির ওয়ার্ড। আমি বললাম সরকারই যদি তার এমপির কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তাহলে আমার কিছু করার নেই। আমার কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই। তৈমূর বলেন, বেশ কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ ও স্লো ছিল। অনেক লোক ভোট দিতে পারেনি। ইভিএমের কারচুপির জন্য আমাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাই, যারা নির্বাচনে আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। আমার লোকজন বাড়িতে থাকতে পারেনি। এটিএম কামালের মতো লোককে ঘেরাও করা হয়েছে গ্রেফতার করার জন্য। এটা খেলা হয়েছে সরকার বনাম জনগণ, সরকার বনাম তৈমূর আলম খন্দকার।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় নারায়ণগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। ভোট দেয়া শেষে তিনি লক্ষাধিক ভোটে জয় পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেলে দৃশ্যমান কোনো কারচুপি না হলে তিনি জনগণের রায় মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, গোলযোগ ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিতর্কিত কিছু হয়েছে কি না, সেটা দেখতে হবে। কারণ ইভিএমের বিষয়ে আমাদের শঙ্কা আছে।
এ খেলাতে আমরা জিতব : শামীম ওসমান
শেষ সময়ে সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তিনি ভোট দিতে আসেন। আদর্শ স্কুল কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে তিনি ভোট দেন। ভোট প্রদান শেষে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে যেই খেলা হয়েছে, সেই খেলা চলছে। এই খেলাতে আমরা জিতব। তিনি বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী হারবে না, যদি বলে কোনো কথা নেই। নৌকার বিজয় হলে সম্পূর্ণ অবদান জনগণের। আমি একটা ভোট দিয়েছি জনগণ হিসেবে। আমার তো দুই ভোট নাই, আমারও এক ভোট, জনগণেরও এক ভোট। সবকিছুর এচিভমেন্ট জনগণের। যেই খেলা হয়েছে, সেই খেলা চলছে। এই খেলাতে আমরা জিতব।’
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী ভোট চেয়েছেন কি না জানতে চাইলে শামীম ওসমান বলেন, ‘যার কথা বললেন তিনি আমার কাছে ভোট চাননি। তবে সে জানে, ভোট না চাইলেও আমি তার জন্য ভোট চাইব।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের অ্যাচিভমেন্ট হলো জনগণ সেটিসফাইড কি না। জনগণ সেটিসফাইড যে তারা তাদের ভোট দিতে পেরেছে। এই পর্যন্ত আমি জানি। পরেরটা পরে। প্রার্থীরাও বলেছেন, তারা সেটিসফাইড। জনগণ যদি সন্তুষ্ট হয়, সেটাই বঙ্গবন্ধু কন্যার অ্যাচিভমেন্ট বলে মনে করি।’
প্রিজাইডিং অফিসারের অসহায়ত্ব : ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারীদের ভোটগ্রহণে দেরি এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার। বেলা ৩টায় ভোটগ্রহণের শেষ বেলায় এসে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার নাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, একজন নারী ভোটার ২০ মিনিটও সময় লাগাচ্ছে। আমি অসহায়। নারীদের অনেক চেষ্টা করে লাইনে রাখা যায় না। তারা একেবারেই বোঝে না। তারা চায় আমরা তাদের ভোট দিয়ে দেই। আমাদের ডাকে ভোট কিভাবে দেবে দেখিয়ে দেয়ার জন্য। এ দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শান্তিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বুথ আছে আটটি। তার মধ্যে নারীদের জন্য চারটি ও পুরুষদের জন্য চারটি। দু’টি বুথ অস্থায়ী। অস্থায়ী বুথে পুরুষরা লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সাথে ভোট দিলেও অন্য বুথগুলোতে রয়েছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। সেখানে নারীদের বুথে নেই কোনো লাইন। ফলে ভোটগ্রহণ চলে ধীরগতিতে।
নারী কেন্দ্রে পুরুষের ভিড় : ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে নারীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের দু’টি নারী কেন্দ্রে পুরুষদের অতিরিক্ত ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভিড় সামলাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। সকাল থেকে মিজমিজি পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চবিদ্যালয় নারী কেন্দ্রে দেখা যায়, কেন্দ্রের বাইরে থেকে লাইন দাঁড়িয়ে রয়েছেন নারীরা। ভিড় ঠেলে একে একে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এখানে পুরুষরা কেন্দ্রের বাইরে ভিড় করছেন। জটলা করেও থাকতে দেখা গেছে তাদের। ভিড় কমাতে পুলিশ একাধিকবার সতর্ক করার পরও পুরুষরা সাময়িকভাবে সরে গেলেও পরে আবারো ভিড় করেন।
কেন্দ্রের সামনে জটলা সরাতে লাঠিচার্জ : বেশির ভাগ কেন্দ্রে ভোটারদের জটলা দেখা গেছে। এ জটলা ভাঙতে অনেক স্থানে লাঠিচার্জ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুপুরে র্যাব-১১ এর একটি টহলরত গাড়ি ও বিজিবির গাড়ি নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কেন্দ্রটির সামনে আসে। কেন্দ্রের সামনে অতিরিক্ত জটলা দেখতে পেয়ে লাঠিচার্জ করে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা। লাঠিচার্জের পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক করে গেটের বাইরে বের দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানতে চাইলে পুলিশ পরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তৈমূরের পথ আটকিয়ে ছাত্রলীগের স্লোগান : স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের পথ আটকে নৌকার স্লোগান দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় তৈমূরের কর্মী-সমর্থকরাও পাল্টা স্লোগান তোলেন। গতকাল দুপুরে নগরীর ৯নং ওয়ার্ডের আলম পাঠানতলী স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে তৈমূরকে ঘিরে ধরে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় পেছন দিক থেকে নৌকার স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তৈমূরের সাথে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও তখন হাতি মার্কার পক্ষে স্লোগান তোলেন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তৈমূর।
ইসির কাছে ভোটারদের বিস্তর অভিযোগ : বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। দুপুরে নগরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তিনি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। এতে নির্বাচন কমিশনারকে এনআইডি দেখান ভোটাররা। এ সময় বেশ কয়েকজন ভোটার ভোট দিতে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেন। তিনি ভোটারদের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন।
এ ছাড়া সিটি নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটগ্রহণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করবেন বলে জানান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে আদর্শ স্কুল, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ভোট যত বেশি কাস্ট হবে, আমি তত বেশি খুশি হবো। বিদায়লগ্নে আমি একটা ভালো নির্বাচন দেখতে চাই। সেজন্যই আমি এখানে এসেছি।’
যন্ত্রের মধ্যে ভেজাল আর ভেজাল : ‘যন্ত্রের (ইভিএমে) মধ্যে ভোট দেয়া খালি ভেজাল আর ভেজাল। এমনডা দেহি নাই আগে। কোনডায় টিপ দিমু বুঝিও না। দেখাইয়া দিছে, খালি টিপে দিয়েছি। আগে ট্রেনিং করা দরকার ছিল।’ সকালে ভোট দিয়ে বেরিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ৮৬ বছর বয়সী মনসুর আহমেদ। তিনি নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রে ভোট দেন। মনসুর আহমেদ বলেন, ‘মেশিনে ভোট দিয়ে আগের মতো আর আনন্দ নেই। ভোট দিতে আগে দৌড়াইয়া আইতাম। এখন আর সেই অবস্থা নাই। ঠিকমতো ভোটটা হইলো কি না, তাও বুঝতে পারিনি। নিজে ভোট দিলাম নাকি অন্যজন দিলো তাও বুঝলাম না। চিন্তা করেন, কেমনডা লাগে।’ তিনি বলেন, ‘যন্ত্র দিয়ে ভোট দেয়াটা না বুঝলে অনেক ঝামেলার। একজনের তো ভোট দিতে দেখলাম ১০/১২ মিনিট ধরে। আমার একটু কম সময় লাগছে।’
৭টায় এসে ১২টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেনি শিউলী : সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাড়ি চলে যাবেন ফাতেমা আক্তার। এমন প্রত্যাশা নিয়ে সকাল ৮টার দিকে ভোট কেন্দ্রে আসেন তিনি। দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভোট দিতে পারেননি। রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে লাইন ছেড়ে গাছের ছায়াতে বসে পড়েন তিনি। ভোট দেয়ার আশা নিয়ে সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা বসে আসেন। শুধু ফাতেমা আক্তার নয়। ফাতেমা আক্তারের মতো অনেককে দেখা গেছে নাসিক নির্বাচনে সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। বিলম্ব হওয়ার ব্যাপারে ফাতেমা আক্তার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি শুনেছি ইভিএম ভালোভাবে কাজ করছে না। যার জন্য দেরি হচ্ছে। একটা ভোট কেন্দ্রে ডিস্টাব ইভিএম নিয়ে আসবে কেন? প্রয়োজনে নতুন ইভিএম আনুক। মানুষের এত ভোগান্তির তো দরকার নেই। আমরা আসছি, ভোট দিয়ে বাসায় গিয়ে দুপুরে রান্না করব। পরিবারের সবাই খাবে। নিয়মের মধ্যে কাজটা হলে আমাদের জন্য ভালো।’
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বসে পড়েন বৃদ্ধা কহেনুর বেগম। দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়ান তিনি। দুই ঘণ্টা পর একই জায়গা আছেন বলে জানান। তার অভিযোগও ইভিএম নিয়ে। ৭টার সময় ভোট দিতে আসেন শিউলি। ৮টায় লাইনে দাঁড়ান। বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি তিনি।
তবে ইভিএম ‘স্লো’ কাজ করছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দায়িত্বরত পোলিং অফিসার ইদ্দিস আলী। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, এখানে বয়স্ক মানুষ ভোট দিচ্ছে। তারা ইভিএমে ভোট দিতে যেয়ে অধিকার সময় নিচ্ছেন। ইভিএমে তিন বাটনে একাধিকবার চাপ দিচ্ছেন। যার কারণে অন্যদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।


আরো সংবাদ


premium cement
ম্যাথুজ-বিশ্বর ব্যাটে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ কাটছে না ভিসা সঙ্কট : হতাশায় জার্মানগামী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় কয়েক মাসে প্রাণহানি দুই শতাধিক বাংলাদেশে ফিরতে চান পি কে হালদার আশুলিয়ায় কুকুরের গোশত দিয়ে বিরিয়ানি বিক্রি, আটক ১ রাশিয়ার হামলা ঠেকাতেই নদীর বাঁধ কাটলেন গ্রামবাসী শিগগিরই একটি কার্যকর যুদ্ধের ঘোষণা আসবে : ছাত্রদল সম্পাদক বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়, স্থিতিশীল রাখতে চায় সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আকলেহকে হত্যার নিন্দা বাংলাদেশের দেশ দ্রুতগতিতে দেউলিয়াত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে : রিজভী সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা দরকার : বিএসএমএমইউ

সকল