১১ আগস্ট ২০২২
`

নাসিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রার্থীদের

মেয়রপ্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের গণসংযোগ; মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রচারণা : নয়া দিগন্ত -

প্রশাসন ভোট কেন্দ্রের সিসি টিভি বন্ধ রাখতে চাপ দিচ্ছে : তৈমূর
আমাকে পরাজিত করতে অনেক পক্ষ এক হয়ে গেছে : আইভী
আইভীকে ঠেকানোর মতো কোনো শক্তি নারায়ণগঞ্জে নেই : আ’লীগ
ডিসির সাথে রাতে নানকের বৈঠক নিয়ে অনেক প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হাসবেন শেষ হাসি, আইভী না তৈমূর? নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে এমন প্রশ্ন ভোটারদের মুখে মুখে। বিজয়ের মালা ছিনিয়ে নিতে সবারই প্রাণান্তকর চেষ্টা। সুষ্ঠু ভোট হলে তৈমূর মেয়র হবেন। আবার কেউ বলছেন, জয়ের মালাটা আইভীর গলাতেই যাবে। গতকাল শুক্রবার শেষ দিনের প্রচারণায় দুইজনের পক্ষেই গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তবে দুইজনেরই রয়েছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। আইভী বলছেন, তার ঘরে বাইরে সবাই তার বিরুদ্ধে এক। তবুও তার বিজয় সুনিশ্চিত। কারণ জনতা তার সাথে আছে। অপর দিকে তৈমূর বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণনা সঠিকভাবে হলে তার বিজয় হবে। জনতা তাকে গ্রহণ করেছেন। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

এ দিকে আইভীকে জেতাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। তাদের অনেক কর্মকাণ্ডে ভোটের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসকের সাথে নানকসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বৈঠক নিয়ে অনেকে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও নানক বলেছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তারা কাজ করছেন। ডিসির সাথে যে বৈঠক করছেন সেটা কোনো গোপন বৈঠক না।
গতকাল শুক্রবার মেয়রপ্রার্থী আইভী বলেছেন, কেন্দ্র কী করছে কেন্দ্রই বলতে পারবে। আমার প্রতিটা নির্বাচনই চ্যালেঞ্জিং ছিল। এ নির্বাচনও চ্যালেঞ্জবিহীন নয়। কেন্দ্রের লোকজন কাউকে প্রভাবিত করছে না। তারা হয়তো অন্য কোনো কারণে এখানে পর্যবেক্ষণে আছেন, যাতে এখানে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।

ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ভোটের মাঠে তারা কখনো নেগেটিভ কিছু বলেননি। আমি সহিংসতার বিপক্ষে। সহিংসতা আমার তরফ থেকে মনে হয় না হবে। কারণ আমার সে রকম কোনো বাহিনী নেই আর আমি কোনদিন সহিংসতা করিও নাই। সহিংসতা হলে আমার ক্ষতি হবে।

তিনি আরো বলেন, আমার ভোটাররা আসতে পারবে না- একটি পক্ষ এমনটিই চাচ্ছে। আমার নির্বাচনী জায়গাটি সবচেয়ে জমজমাট। সেখানে হয়তো কেউ সহিংসতা করে ভোটারদের আসতে বাধা দিতে পারে। আমি প্রশাসনকে বলেছি ভোটের দিন যেন উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। আমার নারী ভোটাররা যাতে আসতে পারে। কারণ আমি জানি এ ভোটগুলো আমার। আমার বিজয় সুনিশ্চিত জেনে যদি কেউ সহিংসতা করে তাহলে প্রশাসনকে বলব ব্যবস্থা নিতে।

তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আইভীকে পরাজিত করতে অনেকগুলো পক্ষ এক হয়ে গেছে। তারা ঘরেরও হতে পারে বাইরেরও হতে পারে। সবাই একসাথে মিলে গেছে, কিভাবে আমাকে পরাজিত করা যায় কিভাবে ভোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ঝামেলা করা যায়। যারা সহিংসতা করে তারা একসময় এক হয়ে যায়। এখানে আপন আর পর কী। এখানে নির্বাচনটা হচ্ছে আইভী বনাম অনেকে। সে ক্ষেত্রে অনেক পক্ষই এক হতে পারে। বারবার বলছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন সতর্ক থাকে। সবাই জানে আমার বিজয় সুনিশ্চিত।

আইভী বলেন, আমি খুব শক্তিশালী পার্সোনালিটির মানুষ। আমার সাথে তৃণমূল পর্যায় থেকে সবাই আছে। আমাকে দুর্বল করা এত সহজ নয়। আমি কোন কিছুতে দুর্বল হবো না, আমাকে কিছুই প্রভাবিত করতে পারবে না।

নির্বাচনে কেউ যাতে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি সহিংসতার বিপক্ষে। নারী ও তরুণ ভোটাররা যাতে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল নির্বাচনী শোডাউন শেষে তৈমূর আলম খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থাপিত সিসি টিভি বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এতে বুঝা যাচ্ছে তাদের ভোট চুরির উদ্দেশ্য আছে।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিএনপির বিজয় র্যালিতে আমি রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে যাইনি। অথচ সরকারি দলের প্রার্থী এমপিদের নিয়ে সমাবেশ করেছে। তারা আমাকে আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে তিনটি অভিযোগ দিয়েছি। তোরণ নির্মাণ ও সড়ক দখল করে মার্কা স্থাপন করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল তারা তোরণ ভেঙে দিবে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এ ছাড়াও অন্যান্য আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারেও বারবার অবহিত করা হয়েছে। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। জনগণের মনের ধারণা নির্বাচন কমিশন একটা ঠুঁটো জগন্নাথ তারা সেই পথেই হাঁটছেন। তারপরেও আমি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে চাই।

তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হোটেল চেক করলেই দেখতে পারবেন বিভিন্ন জেলার সরকারদলীয় নেতারা এখানে অবস্থান করছেন। সার্কিট হাউজ, ডাকবাংলোকে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইনানুসারে সরকারি কোনো গাড়ি কোনো ডাকবাংলো ব্যবহার করার নিয়ম নেই। এটা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই আমাদের সরকারি দলের মেহমানরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক তার কিছু সঙ্গী নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পলিশ সুপারের সাথে আলাপ করেছেন। তিনি অবশ্য বলেছেন তিনি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যাননি। কিন্তু তার বক্তব্য ও দেখা করতে যাওয়ার সাথে কোনো সমন্বয় নেই। প্রথমত তিনি নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। তিনি নারায়ণগঞ্জের নাগরিকও না। এটা আইনগনভাবে আমি অন্যায় মনে করি। তিনি জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন। এটা একজন উচ্চপর্যায়ের সম্মানিত নেতার কাছ থেকে আমরা আশা করি না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যদি ব্যালটের মাধ্যমে আশার প্রতিফলন ঘটে এতে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমর্যাদা উজ্জ্বল হবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা অত্যন্ত আস্থার সাথে অনেকগুলো অভিযোগ করেছিলাম। সে অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বরং সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

তিনি বলেন, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমি নাকি বসে পড়ব। বসে পড়ার জন্য নির্বাচনে নামিনি। নির্বাচন করার জন্য নেমেছি।

আইভীকে ঠেকানোর মতো কোনো শক্তি নারায়ণগঞ্জে নেই : আ’লীগ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের জনতা আজকে জেগে উঠেছে। শহরে উত্তাল ঢেউ উঠেছে। আইভীকে ঠেকানোর মতো কোনো শক্তি নারায়ণগঞ্জে নেই।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় মেয়রপ্রার্থী আইভীর পক্ষে এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুর রহমান। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান বলেন, আইভী সাহসী নারী হিসেবে এ নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। যিনি আজ সন্ত্রাসবিরোধী সংগ্রামে নেমেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনকে বৃহত্তর নগরী হিসেবে গড়তে চান। তিনি আরো বলেন, আমাদের একজন প্রার্থী আছেন, তার মার্কা হাতি। প্রথমে বললেন আমি বিএনপির প্রার্থী। পরে বললেন তিনি জনতার প্রার্থী। আগামী ১৬ জানুয়ারি হাতি বনে ফিরে যাবে। জনতার বিজয় হবে।

আব্দুর রহমান বলেন, তৃতীয়বারের মতো তিনি আমাদের কাছে ভোটের জন্য এসেছেন। আমাদের নেত্রী বলেছেন তুমি নারায়ণগঞ্জবাসীকে বলে দাও আমি আমার আইভীকে নারায়ণগঞ্জে পাঠালাম। তোমরা আইভীকে বিজয়ী করো। নারায়ণগঞ্জের সব উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নিজে বহন করব। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জনতার স্রোতে ভেসে গেছে। এ সমাবেশ দেখে মনে হয় আগামী ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত হয়েছে। আমরা ১৬ তারিখ ফলাফল নিয়ে গণভবনে যাবো। সেদিন আমার নেত্রী এ শহরের মানুষকে অভিনন্দন জানাবেন। আর কোনো কিশোর যেন হত্যার শিকার না হয়। আর যেন নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বাঁশি বেজে না ওঠে। আর যেন গডফাদারের জন্ম না হয় সে জন্য আইভী জীবন দিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি অপশক্তিদের নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত হতে দেবেন না।

নারায়ণগঞ্জ ডিসির সাথে রাতের বেলায় নানকের বৈঠক
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে রাতের বেলায় বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নাসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়রপ্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবির নানক। শুক্রবার রাত পৌনে ৭টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কক্ষে তারা এ বৈঠক করেন। কিন্তু বৈঠকটি দিনে না হয়ে রাতে হওয়ার খবরে নানা প্রশ্ন দেখা দেয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই গোপন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচে গণমাধ্যমকর্মীরা জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজকে এখানে কোনো গোপন বৈঠক করিনি। প্রধান ফটক দিয়েই ঢুকেছি এবং প্রধান ফটক দিয়েই বের হচ্ছি। ফলে এখানে লুকোচুরির কোনো বিষয় নেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি নির্বাচনটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দ উৎসব ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এখানে সন্দেহের কোনো কারণ নেই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই গোপন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তারা ঢাকার মেহমান, নারায়ণগঞ্জের ভোটার নন। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতেই এই বৈঠক করা হয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, বৈঠকটি একটি অনির্ধারিত বৈঠক ছিল। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এসেছিলেন ঝুঁকিপূর্ণ বেশ কয়টি ওয়ার্ড ও কেন্দ্রের বিষয়ে কথা বলতে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড ও কেন্দ্রে যাতে আমরা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়োগ করি সেটি জানাতে। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি।
এই বৈঠক নিয়ে নগরীতে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে বলে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, এটি নিয়ে সন্দেহ বা গুঞ্জনের কিছু নেই। তারা আসতেই পারেন। অনেকের সাথেই আমরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে কথা বলেছি।

ভোট কাল : এদিকে সব জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে সব আয়োজন সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয় আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এর আগে শুক্রবার দিনব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে মেয়র পদে প্রধান দুই প্রার্থী আওয়ামী লীগের সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার দিনব্যাপী গণসংযোগ করেছেন। সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তৈমূরের প্রচারণা শুরু হয়। এর পর জুমার নামাজের পর মাসদাইর এবং বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। অপর দিকে আইভী সকালে তার দেওভোগ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করে বিকেলে শহরে পথসভা করেন। এবারের নির্বাচনে প্রধান আকর্ষণ হলো তৈমূর-আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভোটাররা বলছেন এবার লড়াই হচ্ছে সেয়ানে সেয়ানে ।

এ দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে শতাধিক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিহ্নহ্নহ্নহ্নত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো হচ্ছে- ১৯নং ওয়ার্ডের মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মদনগঞ্জ কেন্দ্র-১), মদনগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মদনগঞ্জ কেন্দ্র-২), কেরামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (লক্ষার চর ভোটকেন্দ্র) ও শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০ নং ওয়ার্ডের বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (মহিলা ভোটকেন্দ্র), সোনাকান্দা উচ্চবিদ্যালয় (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), সোনাকান্দা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), ফরাজিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র)। ২১ নং ওয়ার্ডের সালেহনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সোনাকান্দা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২২ নং ওয়ার্ডের বিএম ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় (এসএস শাহ রোড কেন্দ্র নং-১ পুরুষ ভোটকেন্দ্র), বিএম ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় (এসএস শাহ রোড কেন্দ্র নং-১ মহিলা ভোটকেন্দ্র), বন্দর গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৮২ নং এসএস শাহ রোড কেন্দ্র নং-১ পুরুষ ভোটকেন্দ্র) বন্দর গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১৮২ নং এসএস শাহ রোড কেন্দ্র নং-২ মহিলা ভোটকেন্দ্র)। বন্দর শিশুবাগ বিদ্যালয় (এইচএম সেন রোড পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), বন্দর বালিকা জামাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (এইচএম সেন রোড পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), ২৩ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়, হাজী সিরাজ উদ্দিন, একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (বন্দর উইলসন রোড একরামপুর পুরুষ ভোটকেন্দ্র), (বন্দর উইলসন রোড একরামপুর মহিলা ভোটকেন্দ্র), ২৪ নং ওয়ার্ডে নবীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নোয়াদ্দা খাইতাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৫ নং ওয়ার্ডের লক্ষণ খোলা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), দক্ষিণ লক্ষণখোলা সরকারি প্রাথমিক (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র), উত্তর লক্ষণখোলা সরকারি প্রাথমিক (পুরুষ ও মহিলা ভোটকেন্দ্র)। ২৭ নং ওয়ার্ডে ফুলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, চাপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নির্বাচনের দিন পুরো সিটি করপোরেশনজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত চার হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটের দু’দিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের পরদিন পর্যন্ত প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং তিনজন পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৫ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও আনসারসহ ১৬ জন দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি মোবাইল ফোর্স, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১টি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। প্রতি থানায় রিজার্ভ ফোর্স রাখা হবে। এ ছাড়া ১৪ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। নগরে গতকাল রাত থেকে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় চলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল। ভোটারদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। প্রতি কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবে র্যাব সদস্যরাও।

ভোটের পরিবেশ সুশৃঙ্খল রাখতে গতকাল শুক্রবার থেকেই অভিযানে নেমেছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় নাশকতার মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন, নির্বাচনে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে। একটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৪-৫টি টিম থাকবে। আর একটি টিমে কমপক্ষে ৪-৫টি পুলিশ সদস্য ও ২০-২২ জন আনসার থাকবে। তাহলে আপনারা বুঝতে পারছেন একটি প্রতিষ্ঠানে ২৫-৩০ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে। এটা তো শুধু ভোটকেন্দ্রের ভিতরে। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে আমার তিনটি করে টিম ফোর্স থাকবে। একটি বিজিবির টিম থাকবে, একটি র্যাবের টিম থাকবে এবং একটি পুলিশের টিম থাকবে। ভোটের সময় দেখবেন, কেন্দ্রে ভোটারের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশি দেখা যাবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ দিকে আজ শনিবার রাত থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে নির্বাচনী সরঞ্জাম। নির্বাচন হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে)। এই যন্ত্রে কীভাবে ভোট দিতে হয় গতকাল শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তা শেখানো হয়। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মক ভোটিং অনুষ্ঠানে সব প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার উপস্থিত থেকে মক ভোটিং সম্পন্ন করেন। মক ভোটিং শেষে সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ইভিএমসমূহ উপজেলা নির্বাচন অফিসারকে বুঝিয়ে দেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার জানান, সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের আহ্বান জানান।

শীতলক্ষ্যার কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জে পৌরসভা গঠিত হয় ১৮৭৬ সালে। এর ১৩৫ বছর পর ২০১১ সালে পৌরসভাকে উন্নীত করা হয় সিটি করপোরেশনে। এবার তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সিটির নির্বাচন। এবার নারায়ণগঞ্জ নগরীতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৬ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৯৩টি ও ভোটকক্ষ ১৩৩৩টি। নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে পাঁচটি রাজনৈতিক দল মনোনীত ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৭ জন প্রার্থী। সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩২ জন এবং ২৭টি সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ১৪৮ প্রার্থী।


আরো সংবাদ


premium cement