২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

জাতিসঙ্ঘের হুঁশিয়ারি : লাখ লাখ আফগান মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে

-

আফগানিস্তানে চলমান মানবিক ও আর্থিক সঙ্কট বাড়ছে প্রতিদিন। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের লাখ লাখ নাগরিক ‘মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস।
আফগানিস্তানের বিদ্যমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ঠেকানোর জন্য জাতিসঙ্ঘের যে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা আবেদন রয়েছে, সেটিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। এ ছাড়া আফগানিস্তানকে সম্ভাব্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে দেশটির বাজেয়াপ্ত সম্পদ ছেড়ে দেয়া এবং আফগান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অচলাবস্থা থেকে কাটিয়ে জোরেশোরে চালু করতে হবে বলেও জানান জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের অ্যান্তেনিও গুতেরেস জানান, হিমায়িত তাপমাত্রা এবং হিমায়িত সম্পদ, উভয়ই আফগানিস্তানের জনগণের জন্য প্রাণঘাতী বিষয়। আর তাই মানুষের জীবন ও বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যবহার করা থেকে বাধা দেয় এমন নিয়ম ও শর্তগুলো এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে স্থগিত করতে হবে। এমনিতেই দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান। গত আগস্টে তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেই পরিস্থিতি দিনে দিনে কেবল খারাপই হয়েছে। আফগানিস্তানে বর্তমানে যা আর্থিক পরিস্থিতি, তাতে এই প্রবল শীতে লাখ লাখ মানুষ অভুক্ত থাকতে হতে পারে।
২০ বছর পর গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান দখলে নেয় তালেবান। এরপর সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে তালেবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। অবশ্য সরকার গঠন করলেও বিশ্বের কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর জেরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থাও আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাসহ অর্থ সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়। আলজাজিরা।
ফলে দেশটিতে অর্থনৈতিক সঙ্কট প্রতিদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়া তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই বিদেশী সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল আফগানিস্তানের অর্থনীতি। আগস্ট থেকে সেই সহায়তা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ও মানবিক সঙ্কট কেবলই বেড়েছে।
জাতিসঙ্ঘ বলছে, বর্তমানে ৮৭ লাখ আফগান অনাহারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। গুতেরেস বলছেন, সঙ্কটের শুরুতে আফগান অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এর মাধ্যমে দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও অসহায়ত্বের মুখে পড়া লাখ লাখ আফগানের সম্ভাব্য বিপর্যয়ও এড়ানো যেত। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, বিপর্যয় ও সঙ্কট এড়ানোটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে লাখ লাখ আফগান মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন।
এর আগে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে গত নভেম্বরের শেষের দিকেও সরব হয়েছিল জাতিসঙ্ঘ। আর তাই মানবিক ও আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে আফগান ব্যাংকগুলোকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতেও সেসময় আহ্বান জানিয়েছিল সংস্থাটি।


আরো সংবাদ


premium cement
আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারসথ ইউনিট ফান্ডের ১০ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা জুমার নামাজ শেষে মসজিদে দোয়ার আহ্বান হেফাজতের সাংবাদিক এমদাদুল হক খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ইউক্রেন নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দুবাইয়ে খেলবেন জোকোভিচ জাতীয় উশুতে এসএ গেমস স্কোয়াড বাছাই ইরাককে হারিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেল ইরান পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের হার কমে যাওয়ার কারণ কী? কোটি ডলার ব্যয়ের উৎস বিএনপিকে ব্যাখ্যা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বিটকয়েন : ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরিতে যেভাবে খনি হয়ে উঠেছে কাজাখস্তান দেশের অধস্তন আদালত তদারকিতে ৮ বিচারপতির মনিটরিং কমিটি

সকল