১১ আগস্ট ২০২২
`

নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি প্রতিমন্ত্রী মুরাদের

ফোনালাপের অডিও ভাইরাল সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
-

এক নায়িকাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছেন তথ্য ও স¤প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসান। এমন এক ফোনালাপের অডিও প্রকাশ পাওয়ার পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরব হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নানা কথা বলছেন সাধারণ মানুষও। বিষয়টিকে চরম ‘নারীবিদ্বেষী’ হিসেবে উল্লেখ করে এখনই ডা: মুরাদকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
কখনো ধর্ম নিয়ে, কখনো রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদের নিয়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে রীতিমতো সমালোচিত ডা: মুরাদ হাসান। সবশেষ ওই নায়িকার সাথে ফোনে তিনি যে অশ্রাব্য কথা বলেছেন তা শিউরে ওঠার মতো। ফোনালাপের ওই অডিও শুনে এমনই মন্তব্য করেছেন অনেকে। স¤প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের এক সদস্যকে নিয়ে তথ্য ও স¤প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানের ‘নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। বক্তব্যটিতে বর্ণবৈষম্যেরও স্পষ্ট ছাপ রয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এর আগে তিনি ধর্ম নিয়ে কথা বলে সমালোচিত হয়েছেন। এরই মধ্যে ফাঁস হয়েছে একটি ফোনালাপ। দাবি করা হচ্ছে, এই কথোপকথনটি ডা: মুরাদ হাসান ও চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির। ফোনালাপে থাকা চিত্রনায়ক ইমন ইতোমধ্যে সেটি স্বীকারও করেছেন। ফাঁস হওয়া ওই কথোপকথনে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মাহিকে ধর্ষণের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তুলে আনার হুমকি দেন। পুরো বক্তব্যে ‘অশ্রাব্য’ কিছু শব্দ উচ্চারিত হয়েছে, বলা বা লেখার অনুপযুক্ত। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাইরাল। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। তবে এ নিয়ে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী কিংবা মাহিয়া মাহির কোনো বক্তব্য মেলেনি।
ফোনালাপের শুরুতে ডা: মুরাদের দাবি করা কণ্ঠের অন্যপাশে চিত্রনায়ক ইমনকে কথা বলতে শোনা যায়। চিত্রনায়ক ইমন ডা: মুরাদকে জানান, তিনি বনানীর একটি রেস্তোরাঁয় রয়েছেন। কথা বলার একপর্যায়ে মাহিয়া মাহিও তার সঙ্গে রয়েছেন জানিয়ে ইমন ডা: মুরাদের সাথে কথা বলিয়ে দেন। ডা: মুরাদ মাহিয়া মাহিকে ফোনে পেয়েই প্রথমে বলেন, ‘আসতে হবে।’ চিৎকার করে বলে ওঠেন ‘আসতে হবে’। নায়িকা কিছু বলতে চাইলে ডা: মুরাদ বলেন, ‘শাটআপ’। মন্ত্রী নায়িকাকে প্রশ্ন করেন, ‘হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট?’ ‘তিন নম্বর বউ হবা না চার নম্বর?’ এক পর্যায়ে ডা: মুরাদের কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘তোরে আমি রেপ করবো’। বিভিন্ন অশ্লীল কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে ‘অশ্লীল ভাষায়’ দেখা করার জন্য ‘নির্দেশ’ দেন। প্রয়োজনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোরও হুমকি দেন তিনি। ডা: মুরাদের কণ্ঠে যেসব অশ্লীল কথা বলতে শোনা যায়, তা লেখার উপযুক্ত নয়। কথোপকথনে নায়িকা যে বিব্রত হয়েছেন তা ফোনালাপে তার কণ্ঠেই বোঝা গেছে। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এক পর্যায়ে ডা: মুরাদ গুলি করারও হুমকি দেন। এর আগে নানাভাবে এই প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় আসেন। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশোতে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান অপর আলোচক বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার সাথে আলোচনায় অংশ নেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী পাপিয়াকে ‘মানসিক রোগে আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি নিজে একজন ‘চিকিৎসক হিসেবে’ বিএনপির এই নেত্রীর (পাপিয়া) ‘চিকিৎসা দরকার’ মনে করেন বলেও মন্তব্য করেন। এ সময় দু’জনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়।
এর দুদিন আগেই ইউটিউবে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়ার পরিবারের এক নারী সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন বক্তব্য দেন ডা: মুরাদ হাসান। প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে হাস্যরস করতে করতে ওই নারীকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়েও ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করতে শোনা যায় তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে। এর আগে ধর্ম নিয়েও এই মন্ত্রী কথা বলে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। রাষ্ট্র ধর্ম নিয়ে, আদালতের বিচার নিয়েও নানা মন্তব্য করে ডা: মুরাদ রীতিমতো বিতর্কের জন্ম দেন। এদিকে নায়িকাকে ডা: মুরাদের ধর্ষণের হুমকি বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যক্তিপর্যায়ে দলমত নির্বিশেষে সবাই এ প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। অবিলম্বে ডা: মুরাদের বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছে।


আরো সংবাদ


premium cement